ঐ তি হ্য

মাথাল


আজ তোমরা জানবে মাথাল সম্পর্কে । কৃষকদের কাজ করতে হয় দু’হাতে। তাই ছাতা হাতে ধরে েেত কাজ করা সম্ভব নয়। সে জন্য প্রাচীনকাল থেকেই কৃষকেরা নিজস্ব কৃৎকৌশলে ছাতার মতো একটি উপকরণ তৈরি করে নিয়েছেন, যার নাম মাথাল বা মাতলা। লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয় রায়
আমাদের দেশের কৃষি, কৃষক আর মাথাল যেন এক সূত্রে বাঁধা। সনাতন প্রথার কৃষিকাজে কৃষকের এক অপরিহার্য কৃষি উপকরণ হলো মাথাল। রোদ-বৃষ্টিতে কৃষকদের সারা দিন মাঠে কাজ করতে হয়। মাঠে সাধারণত কোনো আশ্রয় বা ছায়া দেয়া গাছ থাকে না। কৃষকদের কাজ করতে হয় দু’হাতে। তাই ছাতা হাতে ধরে েেত কাজ করা সম্ভব নয়। সে জন্য প্রাচীনকাল থেকেই কৃষকেরা নিজস্ব কৃৎকৌশলে ছাতার মতো একটি উপকরণ তৈরি করে নিয়েছেন, যার নাম মাথাল বা মাতলা। মাথাকে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য এটি ব্যবহার হয় বলে এর নাম মাথাল। প্রাচীনকালে ছাতার ব্যবহার ছিল না। তাই তখন বর্ষাবাদলের দিনে গ্রামীণ লোকেরা মাথাল ব্যবহার করত। এমনকি শূকর চারণকারী টাওরা সম্প্রদায়ের লোকেরাও শূকরের পাল চরানোর সময় ঢাউস আকারের বৃহৎ মাথাল ব্যবহার করে।
এলাকাভেদে মাথালের বিভিন্ন নাম রয়েছে। তৈরির উপকরণ ও ব্যবহারের পার্থক্য থাকায় নামেরও পার্থক্য এসেছে। যেমন গাজীপুর অঞ্চল ও ঢাকায় মাথালকে বলা হয় ‘মাতলা’ বা ‘পাতলা’। কেননা, এ অঞ্চলে মাথাল তৈরিতে গজারি গাছের পাতা ব্যবহার করা হয়। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে ব্যবহার করা হয় শাল বা সেগুনের পাতা। ময়মনসিংহ ও জামালপুর অঞ্চলে মাথাল বানানো হয় কাঁঠালপাতা দিয়ে। রাজশাহী তথা বরেন্দ্র এলাকায় এটা বানানো হয় তালপাতা দিয়ে। বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলে বানানো হয় হোগলাপাতা দিয়ে। বাঁশের চটা বা কাঠির সাহায্যে বুনে শুকনো পাতা দিয়ে এটা বানানো হয় বলে তাকে বলা হয় পাতলা। কোথাও কোথাও এর নাম টুকি, টোকা, টোপর ইত্যাদি। রংপুর অঞ্চলে মাথালকে বলে ঝাঁপি। যারা ঝুড়ি, ডালা ইত্যাদি বানায় তারাই মাথাল বানিয়ে বিক্রি করে। কৃষকেরা হাটবাজার থেকে কিনে সেগুলো ব্যবহার করেন। মাথালের গড়নগত একটা বিশেষত্ব আছে। মাঝখানটা পিরামিড বা শম্বুকাকার। এ অংশটি মাথার মধ্যে বসে যায়। এর চারধারে বৃত্তাকারে থাকে ছাঁট বা কার্নিশÑ অনেকটা ঘরের বারান্দার চালের মতো। মাথালকে মাথার সাথে শক্তভাবে এঁটে রাখার জন্য রশি থাকে দু’পাশ থেকে। মুখের নিচে থুতনির সাথে তা বেঁধে দেয়া হয়। মাথাল পানি প্রতিরোধী হওয়ায় তা পরে বর্ষার দিনেও কৃষকেরা মাঠে স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন। শুধু কৃষিকাজে নয়, মাথাল গম্ভীরা গানের শিল্পীদেরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাজ উপকরণ। বরগুনা ও পটুয়াখালীর কৃষকেরা হোগলাপাতা দিয়ে বানানো অন্য আর একধরনের মাথাল ব্যবহার করেন। বর্ষাকালে সেটি ব্যবহার হয়। তাকে বলে ‘জোংড়া’। এটি শুধু মাথা নয়, পিঠও বর্ষা থেকে রা করে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.