টানা চার বলে ৪ ‍উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি
টানা চার বলে ৪ ‍উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি

ক্রিকেটে এমন ঘটনা রোজ ঘটে না

নয়া দিগন্ত অনলাইন

অবিশ্বাস্য তো বটেই। কারণ এর আগে টানা চার বলে ৪ ‍উইকেট কে নিয়ে ছিলেন মনে করতে পারবেন? তবে মাশরাফি বিন মর্তুজা তার কৃত্তি দিয়ে আজ মঙ্গলবার সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে তার নামে আরো অনেক কিছু লেখার বাকী।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে টানা চার বলে ৪ ‍উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। স্বীকৃত ক্রিকেটে এমন ঘটনা রোজ ঘটে না।

প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ২৯০ রান তুলেছিল আবাহনী। জবাবে জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল অগ্রণী ব্যাংকের। আবাহনীর হয়ে শেষ ওভারটি করতে এসে প্রথম বলে ১ রান দেন মাশরাফি। এরপর টানা ৪ বলে তুলে নেন ধীমান ঘোষ, আবদুর রাজ্জাক, শফিউল ইসলাম ও ফজলে রাব্বিকে। মাশরাফির এই বিধ্বংসী বোলিংয়ে ২৭৯ রানে গুটিয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক। আবাহনীর ১১ রানের এই জয়ে মাশরাফির অবদান ৪৪ রানে ৬ উইকেট! ‘লিস্ট এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে চার বলে চার উইকেট নিলেন মাশরাফি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর আগে ওয়ানডেতে ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ করেছিলেন শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা। মাশরাফি ঘরোয়া ক্রিকেটে হলেও সেই একই সংস্করণে গড়লেন একই কীর্তি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ‘লিস্ট এ’ তালিকাভুক্ত আসর। এ মানের আসরে এর আগে ৪ বলে ৪ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল শুধু পাঁচজনের—অ্যালান ওয়ার্ড, শন পোলক, ভ্যাসবার্ট ড্রেকস, ডেভিড পাইন ও গ্রাহাম নেপিয়ারের। ‘লিস্ট এ’ তালিকায় বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক এই ‘ফোর উইকেটস ইন ফোর বলস’ তালিকার সর্বশেষ সংযুক্তি। অবশ্য মালিঙ্গার কৃতিত্বটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডের পাশাপাশি লিস্ট এতেও গণ্য হবে।

তবে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে শুধু ৪ বলে ৪ উইকেট নয়, কীর্তি রয়েছে এক ওভারে ৫ উইকেট নেওয়ারও! প্রায় ৫ বছর আগে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ইউসিবি-বিসিবির হয়ে এক ওভারে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন পেসার আল আমিন। আবাহনীর বিপক্ষে সেই ম্যাচে প্রথম বলে এক উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে দিয়েছিলেন ২ রান। এরপর টানা ৪ বলে নিয়েছেন ৪ উইকেট! মজার ব্যাপার হলো, সেটাও ছিল আবাহনীর ইনিংসের শেষ ওভার!

ফতুল্লায় আজ মাশরাফিও একই কীর্তি গড়লেন অগ্রণী ব্যাংকের ইনিংসে শেষ ওভারে। ওই এক ওভারেই পাল্টেছে ম্যাচের চাকা। এর আগে কিন্তু জয়ের পথেই ছিল অগ্রণী ব্যাংক।

আবাহনীর তিন শ ছুঁই-ছুঁই স্কোর তাড়া করতে নেমে অগ্রণীর ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস আগের ম্যাচে ৯৯ রানে আউট হওয়ার আক্ষেপ কাটান সেঞ্চুরি (১২১) করে। জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে ৩৩ রান দরকার ছিল অগ্রণীর। ৪৮তম ওভারে ৮ রান দিয়ে প্রতিপক্ষকে আরেকটু চাপে ফেলেন মাশরাফি। পরের ওভারে আরিফুল হাসান দিয়েছেন ১২ রান। এতে জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১৩ রানের লক্ষ্য পায় অগ্রণী ব্যাংক। মাশরাফি এসে প্রথম বলে ১ রান দেওয়ার পর বাকিটা ইতিহাস!

তার ৪ বলে ৪টি আউটই সতীর্থের ক্যাচে। দ্বিতীয় বলে ফিরেছেন ধীমান ঘোষ, বদলি ফিল্ডার জয়রাজ শেখকে ক্যাচ দিয়ে। পরের বলে রাজ্জাক ক্যাচ দিয়েছেন নাজমুল হাসান শান্তকে। এরপর শফিউল ইসলামকে সাইফ হাসানের তালুবন্দী করে মাশরাফি তুলে নেন হ্যাটট্রিক। পঞ্চম বলে ফজলে রাব্বি উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে ২৭৯ রানে গুটিয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক। তখনো মাশরাফির হাতে ১ বল বাকি। অগ্রণীর উইকেট থাকলে ওই বলটার ভাগ্যে কী ঘটত, তা অনুমান করে নেওয়া যায়!

অনুমান তো আরও একটি ব্যাপারে করা যায়? এবারের প্রিমিয়ার লিগ যেন মাশরাফির ফেলে আসা তারুণ্যকে পেছন ফিরে দেখার ‘নস্টালজিক’ আসর। এ পর্যন্ত ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ২৫ উইকেট! মোহামেডানের অনিকের সাথে ৫ উইকেট ব্যবধানে এগিয়ে মাশরাফিই সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। এই ৮ ম্যাচের মধ্যে মাশরাফি শুধু ২ ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.