বিউটি লাচ্ছি অ্যান্ড ফালুদা

মারিয়া নূর

১৯২২ সাল থেকে পুরান ঢাকায় ভিন্ন রকম লেবুর শরবত, লাচ্ছি আর ফালুদা খাইয়ে আসছে ‘বিউটি লাচ্ছি ফালুদা’। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে তা এখন নতুন ঢাকার মানুষের কাছেও সমান জনপ্রিয়। পুরান ঢাকার জজকোট যেতে রায়সাহেব বাজারে বিউটি লাচ্ছির অবস্থান। বিউটি লাচ্ছির এই দোকান পুরান ঢাকার জনসন রোডে। তার পাশেই ঢাকার আদালতপাড়া। রোজ সকাল ৯টায় দোকান খুলে। বন্ধ হয় রাত ১২টায়। সব সময় ভিড় লেগেই থাকে। দোকানের সামনের অংশে লাচ্ছি বানানো হয়। পেছনে বানানো হয় ফালুদা। দোকান মালিক জাবেদ হোসেন জানান, আমরা তিন পুরুষ ধরে লাচ্ছি-ফালুদা বিক্রি করছি। আমাদের ফালুদার প্রধান উপকরণ দুধের মালাই। লাচ্ছি কিংবা ফালুদা তৈরির উপকরণে কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার করেন না। এ কারণে বিউটির লাচ্ছি-ফালুদার এত নামডাক। ফালুদা তৈরি করা হয় নুডলস, সাগুদানা, কলা, দুধের মালাই, খুরমা খেজুর, কিশমিশ, আনার, আপেল, চেরি ফল, চিনির শিরা ও মধু দিয়ে। জাকির বললেন, বাজারের নুডলস নয়, নিজেদের তৈরি করা নুডলস ব্যবহার করেন ফালুদা তৈরিতে।
বনানী, নাজিরাবাজার ও লালবাগে বিউটি লাচ্ছি অ্যান্ড ফালুদার শাখা রয়েছে। এখানে স্পেশাল লাচ্ছি ৪০ টাকা, স্পেশাল বিট লবণ লাচ্ছি ৪০ টাকা, নরমাল লাচ্ছি ৩০ টাকা, নরমাল বিট লবণ লাচ্ছি ৩০ টাকা, ফালুদা স্পেশাল ৮০ টাকা, ফালুদা নরমাল ৬০ টাকা ও লেবুর শরবত ১৫ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া নানা ধরনের ফলের মজাদার ও পুষ্টিকর ফলের জুস পাওয়া যায়। রায়সাহেব বাজারের বিউটি লাচ্ছির শাখা রয়েছে দুটি, একটি নাজিরাবাজারে, অন্যটি লালবাগে। সপ্তাহে সাত দিনই খোলা থাকে শাখাগুলো; শুধু শুক্রবার সকাল থেকে জুমার নামাজের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রায়সাহেব বাজার থেকে সদরঘাট যাওয়ার পথে হাতের ডান পাশে জনসন রোডে রয়েছে মূল শাখাটি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান সময়ে লাচ্ছি ও ফালুদা চলছে বেশ জোরেশোরে। গরম পড়লে বেচাকেনা বেড়ে যায়। আদালত খোলা থাকলে বেচাকেনা বেশি হয়। আদালতের বিচারক থেকে শুরু করে বড় বড় আইনজীবী এই দোকানের ফালুদা খান। দূরের লোকজনও আসে ফালুদা কিনতে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.