গ্রাহকদের টাকা দিচ্ছে না ফারমার্স ব্যাংক

বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংকে জমা রাখা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না আমানতকারীরা। ব্যাংকটির শাখাগুলোয় টাকা তুলতে প্রতিদিন ভিড় করছেন গ্রাহকেরা। কিন্তু তাদের হতাশ করছে ব্যাংক কর্তৃপ। অনেককে পে-অর্ডার দিয়ে সাময়িক শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার ব্যাংকের হিসাবে টাকা না থাকায় বারবার চেক ডিজঅনার (প্রত্যাখ্যাত) হচ্ছে। যার জমা পাঁচ কোটি টাকা, তাকে দেয়া হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা।
কাউকে কয়েক দিন পর আসতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও টাকা দিতে পারছে না। গতকাল ব্যাংকটির মতিঝিল শাখায় সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত রোববার ব্যাংকে মাত্র ১২ হাজার টাকা উত্তোলন করতে আসেন এক গ্রাহক তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ওই গ্রাহক জানান, মাত্র ১২ হাজার টাকা যাদের ব্যাংকে নেই তারা কিভাবে ব্যাংক চালাবে? এই অল্প পরিমাণ টাকা উঠাতে যদি আমাকে কয়েক দিন আসতে হয় তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক কী করে। তারা কি তদারকি করছে?
গত মাস থেকে মাত্র ৫০ হাজার টাকার চেক নিয়ে তিনবার ব্যাংকে এসেছেন চীনের নাগরিক নয়নতারা। তিনি জানান, ৫০ হাজার টাকা নিতে তিন দিন আসতে হয়েছে। আজো দেবে কি না জানি না। এটা কেমন দেশ! আমরা টাকা না দিলে আমি কার কাছে কমপ্লেইন করব, তাও বুঝতে পারছি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, নগদ টাকার সঙ্কটে আমানতকারীদের টাকা এ মুহূর্তে পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এটি গোপন করার কিছু নেই। ব্যাংকের আমানতের চেয়ে ঋণ প্রদান বেশি হওয়ায় গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়াও যাত্রা শুরুর মাত্র তিন বছরের মধ্যে দেড় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে ফারমার্স ব্যাংক। এ জনবলের বেতন বাবদ প্রতি মাসে ব্যাংকটির ব্যয় হয় পাঁচ কোটি টাকার বেশি। শুরুতেই আগ্রাসী মনোভাবের কারণে মাত্র তিন বছরেই ৫৬টি শাখা খুলেছে ব্যাংকটি। আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক ও আত্মীয় পরিচয়ে ২০১৬ সালের মধ্যে ফরমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.