মোবাইল ক্যামেরার বিড়ম্বনা
মোবাইল ক্যামেরার বিড়ম্বনা

মোবাইল ক্যামেরার বিড়ম্বনা

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন

মোবাইল ফোনে শক্তিশালী ক্যামেরা দিয়ে অনেক দূর থেকে স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার ছবি ও ভিডিও ধারণ করা সম্ভব। ফলে কিছু লোক এ কাজটা নিত্য করে যাচ্ছেন। তাই এই মোবাইল ক্যামেরার কাছে সবাই যেন অসহায়। সাধারণ মানুষ হোক আর প্রশাসনের কোনো লোকই হোন না কেন, সবাই বিড়ম্বনার শিকার! 

একেকজন একেকভাবে এ কাজটি করে যাচ্ছেন। কিছু মানুষকে দেখা যায় শার্টের বুক পকেটে মোবাইল রেখে ক্যামেরাটা সামনের দিকে দিয়ে পথ চলছেন, যাতে সামনের সব কিছু রেকর্ড হচ্ছে। কেউ হাতে নিয়ে হাঁটছেন। আপনার সামনে এসে এমনভাবে ক্যামেরাটা ধরলেন, যেন আপনাকে ফলো করছেন আর কানে হেডফোন লাগিয়ে রাখছেন। তাতে আপনাকে বুঝাচ্ছেন, তিনি গভীরভাবে কথা বলায় মগ্ন। বা গাড়িতে বসে মোবাইলটা এমনভাবে ধরে রাখলেন, তাতে আপনি বুঝতে পারবেন লোকটি ইচ্ছাকৃতই আপনাকে ডিস্টার্ব করছেন।

প্রশ্ন হলো- স্কুলগামী ছাত্রী, স্ত্রী, মা ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে যখন নিজের মতো করে কেউ পথ চলছেন, তখন আপনি কোন অধিকারে তাদের এ স্বাধীন পথ চলায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন? অথচ তাদের অজান্তে এমন চিত্র ধারণ হয় যা সে কখনো কামনা করেনি। তখন আপনার করণীয় কী আছে? এভাবে ব্যক্তি গোপনীয়তায় চলছে হস্তক্ষেপ। কী দরকার রাস্তায় চলমান প্রত্যেক মানুষের চলাচলের দৃশ্য গোপন ক্যামেরায় ধারণ করার? এ ব্যাপারে সরকারি কোনো বিধি-নিষেধও আছে বলে মনে হয় না। এভাবে স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটানোর শাস্তি আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

মোবাইল ক্যামেরার চিত্রের কারণে বেশির ভাগ নারী ঘটিত অপরাধের সূত্রপাত ঘটে। ব্লাক মেইল করা, জিম্মি করা, নগ্ন ছবি ধারণ করা হয়। শিশু অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধ ক্যামেরার মাধ্যমে হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.