পরিত্যক্ত ট্রাকে ৭টি লাশ
পরিত্যক্ত ট্রাকে ৭টি লাশ

পরিত্যক্ত ট্রাকে ৭টি লাশ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ওয়াক্সাকার গ্রামীণ এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ট্রাক থেকে রোববার সাতটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা একথা জানান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সান্তো দোমিঙ্গো জানাতেপেক শহরে পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় এই লাশগুলোর সন্ধান পেয়েছে। শহরটি রাজ্যের রাজধানী ওয়াক্সাকা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। লাশগুলো গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কমপক্ষে ৩০ জন মারা গেছেন। মাদক পাচারকারী চক্রগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটে থাকে।

 

অবিরাম বোমাবর্ষণ : পূর্ব গৌতার পরিস্থিতি ভয়াবহ

আলজাজিরা ও রয়টার্স

বিমান হামলার ছত্রছায়ায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনী পূর্ব গৌতার কিছু এলাকা দখল করতে সক্ষম হয়েছে। অবিরাম বোমা ও গোলাবর্ষণে সেখানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দামেস্কের পূর্বে অবস্থিত অবরুদ্ধ ছিটমহল পূর্ব গৌতায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে।

বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত পূর্ব গৌতার ১০ শতাংশ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী দখল করে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার পূর্ব গৌতায় দুইপক্ষের মধ্যে স্থল লড়াই তীব্র আকার ধারণ করে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। স্থানীয় সাংবাদিক ফিরাস আল-আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘পূর্ব গৌতার ভয়ানক খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে সেখানে কখনো এত খারাপ অবস্থা দেখা যায়নি। বেশির ভাগ লোক এখনো বাড়ির নিচের আশ্রয়ে বসবাস করছে। এতে শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও নানা অসুখ দেখা দিয়েছে।’

রাশিয়ার উদ্যোগে বিগত ছয় দিন ধরে চলা ‘মানবিক যুদ্ধবিরতিকে’ লোকেরা তামাসার যুদ্ধবিরতি বলে উল্লেখ করে বলছেন, কখনো বোমাবর্ষণ বন্ধ হয়নি। সরকারি বাহিনীর অগ্রাভিযানের কারণে সেখান থেকে লোকজন পালিয়ে যাচ্ছে বলে অবজারভেটরি জানিয়েছে।

২০১৩ সাল থেকে পূর্ব গৌতা অবরোধ করে রেখেছে সরকারি বাহিনীগুলো, এতে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাটির প্রায় চার লাখ বাসিন্দা ফাঁদে আটকা পড়েছে। দিনের পর দিন অবরোধের মধ্যে থাকায় ওই এলাকায় খাবার ও ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে, অন্য দিকে ত্রাণের ট্রাকগুলোও অবরুদ্ধ এলাকাটির ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। অবজারভেটরির রামি আবদুর রহমান বলেছেন, ‘বাশার সরকার ও তাদের মিত্রবাহিনীগুলো গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্রোহী অবস্থানের ওপর হামলা তীব্র করেছে। আলজাজিরার সাথে কথা বলার সময় তিনি সেখানে সরকারি বাহিনীর জায়গা দখলকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ নয়’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিদ্রোহীরা অনমনীয় রয়েছে এবং তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

সিরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, তারা ‘সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ’ থেকে অঞ্চলটি মুক্ত করার চেষ্টা করছে। সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের যে ক’টি শক্তিকেন্দ্র এখনো টিকে আছে পূর্ব গৌতা তার অন্যতম। সিরিয়ার সামরিক বাহিনী গৌতার বেসামরিকদের হামলার লক্ষ্যস্থল করছে বলে জানিয়েছে বিদ্রোহীরা।

আন্তর্জাতিক একটি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত পূর্ব গৌতায় ৬৭৪ জন নিহত হয়েছেন, এদের মধ্যে দেড় শ’টি শিশু রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ পূর্ব গৌতায় ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতির কথা ঘোষণা করেছিল। প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার জন্য ‘মানবিক যুদ্ধবিরতির’ আদেশ দিয়েছিল সিরিয়ার মিত্র রাশিয়া। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই রক্তপাত বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, স্থানীয় লোকজন ‘পৃথিবীর নরকে’ বসবাস করছে।

পূর্ব গৌতায় ওই ‘মানবিক যুদ্ধবিরতি’ চলাকালে বেসামরিক বাসিন্দাদের সেইফ প্যাসেজ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া; কিন্তু মঙ্গলবার থেকে ওই পথে কেউ গৌতা ত্যাগ করেননি বলে জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি। এক বিবৃতিতে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নির্দিষ্ট করা ওই বহির্গমন পথটি শনিবার কোনো বেসামরিক লোক ব্যবহার করেননি। জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ বহনকারী জাতিসঙ্ঘ ও ত্রাণসংস্থাগুলোর গাড়ির বহরগুলো অনুমতি না পাওয়ায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার পূর্ব গৌতায় প্রবেশ করতে পারেনি। পশ্চিমা কূটনীতিকেরা জানান, বাশার সরকার সেখানে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন তাদের দেয়নি।

৪০টি ট্রাকের বহরটি দোমা শহরে যাওয়ার কথা ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পশ্চিমা কূটনীতিক জানান, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পোয় যেভাবে ২০১৬ সালের আগে ত্রাণসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি, ফলে সরকারি বাহিনীর হাতে এলাকাটির অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল; ঠিক সেভাবেই পূর্ব গৌতায় ত্রাণসামগ্রী যেতে দেয়া হচ্ছে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.