শিক্ষকের নির্যাতনে হেফজ-পড়ুয়া শিক্ষার্থী মৃত্যু
শিক্ষকের নির্যাতনে হেফজ-পড়ুয়া শিক্ষার্থী মৃত্যু

শিক্ষকের নির্যাতনে হেফজ-পড়ুয়া শিক্ষার্থী মৃত্যু

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ভালুকায় শিক্ষকের নির্যাতনের শিকার তাওহীদুল ইসলাম (১০) নামে হেফজ-পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থী হাসপাতালে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জামিরদিয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায়। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের কাউসার আহমেদের ছেলে তাওহীদকে চার বছর পূর্বে জামিরদিয়া এলাকার ওমর ফারুক (রাঃ) হাফিজিয়া কিন্ডার গার্টেন মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। তাওহীদ এ পর্যন্ত ১৮ পাড়া কোরআন শরিফ মুখস্ত করেছে।

গত ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি তার শিক্ষক হাফেজ আমীনুল ইসলাম (২৫) তাওহীদকে দেড় পাড়া কোরআন শরিফ পড়তে দেয়। সে ৭ পৃষ্ঠা মুখস্থ শোনানোর পর বাকিটুকু না শোনাতে পারায় তাকে লাঠি দিয়ে তাকে বাম হাত, পা, বুকে, পিঠে ব্যাপক মারপিট করেন। এতে তাওহীদের বাম পা, হাত ও বুকের বাম পাশের পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে যায়। তাওহীদকে মাদরাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়ায় কোনো উন্নতি না হওয়ার তার পরিবারকে মাদরাসা থেকে খবর দেয়া হয় তাওহীদ খেলতে গিয়ে বুকে ও পায়ে আঘাত পেয়েছে।

তাওহীদের বাবা তাকে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে গত শুক্রবার ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে রোববার দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বুকের আঘাত মারাত্মক হওয়ায় রাতে তাকে বক্ষব্যধি হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে রোববার রাত ১২ টায় তাওহীদের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর নিহতের পরিবার লাশ নিয়ে ভালুকা মডেল থানায় চলে আসেন।

ঘটনার পর থেকে ঘাতক শিক্ষক আমীনুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মাদরাসার প্রধান শিক্ষক এনামুল হককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করছেন। অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বগঞ্জ উপজেলায়।

নিহতের পিতা কাউসার আহামেদ জানান, মাদরাসা শিক্ষক আমিনুল ইসলাম আমার ছেলে তাওহীদকে পিটিয়ে আহত করে তাদের কাছে রেখে ৩/৪ দিন চিকিৎসা করে ভালো করতে না পেরে আমাকে খবর দেয়। তারা বলেন, আমার ছেলে খেলতে গিয়ে পায়ে আঘাত পেয়েছে। আমি তাকে মাদরাসা থেকে এনে প্রথমে ভালুকা পরে ময়মনসিংহের চুরখাই হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকা মহাখালী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর রোববার রাতে সে মারা যায়।

নিহতের মা হাসনা হেনা জনান, তিন সন্তানের মাঝে তাওহীদকে হাফেজ বানাতে চেয়েছিলাম। আমার ছেলে ১৮ পারা কোরআন মুখস্ত করেছিল। শিক্ষক তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি ওই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

ভালুকা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ও) মামুন অর রশিদ জানান, শিক্ষকের পিটুনিতে ছাত্র আহত হওয়ার পর হয়তো উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় সে মারা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা একটি মামলা করেছেন। লাশ ময়না তন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভালুকায় ৬টি চোরাই গরু জব্দ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)
ময়মনসিংহের ভালুকায় ৬টি চোরাই গরু জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাতে উপজেলার কংশেরকুল গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে উপজেলার কংশেররকুল গ্রামের ঢুলিপাড়ার মফিজ উদ্দিনের ভিটায় দুইটি গাভী, একটি বকনা গরু ও তিনটি ষাড় বাছুর একসাথে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন আটকে রেখে ইউপি চেয়ারম্যানকে জানায়। পরে বিষয়টি থানায় জানালে সোমবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রাম পুলিশ শাহজাহান ও তরুনী কান্ত বর্মণের জিম্মায় রাখে।

এলাকার অনেকেই নাম না প্রকাশ শর্তে জানান, কিছুদিন আগে একই এলাকায় ৮টি চুরির গরু জব্দ করা হলে ওই গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও রাজ্জাককে অভিযুক্ত করা হয়। বেশ কিছুদিন তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপানে থাকার পর তারা আবারো এলাকায় চলে আসে। আটককৃত ওই গরুগুলোর পরে কী হয়েছে তা কেউ বলতে পারবে না।

তাছাড়া গত ১৫ দিন আগে এলাকায় দু’টি চোরাই ষাঁড় গরু জবাই করে মাংস বিক্রি ও বন্টল হলে খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ আসে। ওই ঘটনায় রহস্যজনক কারণে কেউ গ্রেফতার বা আটক হয়নি।

স্থানীয় মেম্বার আমিরুল ইসলাম আনার জানান, এসব ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না। সব চেয়ারম্যান বলতে পারবেন।
ভালুকা মডেল থানার এসআই জীবন চন্দ্র বর্মণ জানান, একটি সঙ্ঘবদ্ধ চোরেরদল ট্রাকে করে ওই গরুগুলো চুরি করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার পথে এলাকার লোকজনে টের পাওয়ার ভয়ে হয়তো ওই স্থানে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনার সাথে ওই এলাকার কেউ জড়িত আছে কিনা বা এ চুরির সাথে কে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.