চার্জশিট থেকে আসামী বাদ : হত্যারকারীদের বিচার দাবি

যশোর অফিস

পাঁচ দিন পর ভূমিষ্ট হতে যাওয়া সন্তানের পিতার হত্যার প্রকৃত খুনিদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কেশবপুরের রেহেনা বেগম নামে এক গৃহবধূ। গত বছর ৪ আগস্ট খুন হওয়া কামরুজ্জামানের স্ত্রীর অভিযোগ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এজাহারভুক্ত আসামীদের চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এব্যাপারে তিনি পুলিশ সুপার ও ডিআইজির কাছে লিখিত আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাননি। ভুক্তভোগী রেহেনা উপজেলার ব্রহ্মণকাটি গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমার মেয়ে শারমিন আক্তারকে বিভিন্ন সময় একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আল আমীন বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মেয়ে নাবালিকা থাকায় আমরা এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিই। এছাড়া তাদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। এজন্য গত বছর ৫ আগস্ট আল আমীন, আলম রাজমিন্ত্রী, আছির উদ্দিন দফাদার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও খাদিজা বেগমসহ আরো কয়েকজন আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এজন্য আমার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। পরে রড দিয়ে আমার পায়ে আঘাত করে। এজন্য আমার স্বামী বাড়িতে আসলে তারা আমার স্বামীকে বেদম প্রহর করে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়। তখন তাকে প্রথমে কেশবপুর হাসপাতালে ও পরে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার একদিন পর তিনি মারা যান।
এ ঘটনার ৭ আগস্ট আমি কেশবপুর থানায় একটি মামলা করি। কিন্তু মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আকরামের মতো দ্বিতীয় কর্মকর্তা কেশবপুর থানার ওসি (তদন্ত) শাহাজাহানও আসামীদের গ্রেপ্তার করেননি। পরে তিনি শুধুমাত্র আল আমীন ও খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন। আর এজারহারভুক্ত আসামী আলম রাজমিন্ত্রী, আছির উদ্দিন দফাদার ও জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুস নিয়ে তাদের চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছেন।
এব্যাপারে আমি থানায় গেলেও কোন সদুত্তর পাইনি। পরে আমি জেলা পুলিশ সুপার ও ডিআইজির কাছে লিখিত আবেদনও করেছি। কিন্তু সেখান থেকেও আমার স্বামী আমার অনাগত সন্তানের পিতার প্রকৃত খুনিদের বিচারের কোন সাড়া পাইনি।’
সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তার নবম শ্রেণি পড়–য়া মেয়ে শারমিন আক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহত কামরুজ্জামানের চাচা আব্দুস সালাম, প্রতিবেশি রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
এব্যাপারে অভিযুক্ত কেশবপুর থানার ওসি (তদন্ত) শাহাজাহান বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। তদন্ত করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আর যারা জড়িত নয় তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.