সাঁকো-নৌকাই গ্রামবাসীর ভরসা

জহির খান উজিরপুর (বরিশাল)

চারদিকে শুধু খাল আর নদ। একটি মাত্র রাস্তা। তার ভেতরে ছোট ছোট দ্বীপের মতো গাছগাছালি ঘেরা ঘরবাড়ি। এরই ফাঁকফোকর দিয়ে ছোট-বড় প্রায় ২ শতাধিক গাছ ও বাঁশের সাঁকো। দু-একটা স্থায়ী নৌকার ঘাট। কোথাও বাড়ির সীমানায় বাঁধা থাকে ছোট নৌকা। এই চিত্র বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের দক্ষিন নাথারকান্দি গ্রামের। প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের হারতা ইউনিয়নে জনসংখ্যা ২৩ হাজারের অধিক। এর মধ্যে ৬ নং ওয়ার্ড দক্ষিন নাথারকান্দি গ্রামের জনসংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার। ঘনবসতিপূর্ন ওই গ্রামে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানি থাকে। গ্রামে একটি মাত্র রাস্তা। সেটিও কাঁচা। আর রাস্তাটির ১’শ থেকে ২’শ গজ পরপরই ছোট বড় প্রায় ২ শতাধিক ভাঙাচুরা সাঁকো। কোথাও আবার লোহার পাতের ওপর কাঠ ও সুপারি গাছ বিছানো। শুকনা মৌসুমে খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় চলাচল অযোগ্য বেহালদশার সাঁকো সংযুক্ত কাঁচা রাস্তা দিয়েই বাধ্য হয়ে যাতায়াত করে কোমলমতি শত শত স্কুল শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ আবার খেতের আইল ব্যবহার করে চলাচল করে। আর বর্ষা মৌসুমে গ্রামটি যেন একটি দ্বীপ। চারদিকে পানি আর পানি। তখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকলেও নাগরিক সেবা বলতে কিছুই পায়না ওই গ্রামবাসী। আজ পর্যন্ত গ্রামটিতে লাগেনি কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। যার ফলে এখনও পর্যন্ত ওই গ্রামবাসীর যাতায়াতের ভরসা বাঁশের সাঁকো আর নৌকা। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার হারতা বাজার সংলগ্ন নৌকা ঘাট (দক্ষিনপাড়) থেকেই অবহেলিত গ্রামটির শুরু। এই ঘাট থেকে কঁচা নদী পাড় হয়ে কিছুদূর হাটলেই বাঁশের সাঁকো শুরু। ছোট ছোট খালের ওপর বাসিন্দারা যাতায়াতের সুবিধায় নিজেরাই এসব সাঁকো তৈরি করেছে। একেকটি সাঁকো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় কয়েক হাজার টাকা। এ-বাড়ি থেকে ও-বাড়ি, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে এই ছোট সাঁকোগুলো তৈরি করা। দক্ষিন হারতা বাজার থেকে পশ্চিম দিকে গেলেই বোঝা যায় কতটা উন্নয়নবঞ্চিত দক্ষিন নাথারকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা। কৃষিনির্ভর সবুজ-শ্যামল পরিবেশের ছোট ছোট খালবেষ্টিত এই গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। পরিবেশ সত্যিই নির্মল। বছরের এক মৌসুম বোরো ধান আরেক মৌসুম বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করেন এই এলাকার চাষিরা। বাকি সময় খালে-নদে পানি থাকে। তখন মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করেন এই এলাকার জনগণ। দক্ষিন নাথাকান্দির বাসিন্দা সান্টু তালুকদার, সুবাস পাড়–য়া, দুলাল রায় ও কেশব বিশ্বাসসহ অনেকে জানান, প্রতিদিনই গ্রামের ওইসব ভাঙা সাঁকো ও সংষ্কারবিহীন নামমাত্র ব্রীজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা চলাচল করে থাকেন। হারতায় সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। ওই হাটে গ্রামের মানুষ তাদের উৎপাদিত ধান-চাল ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য খরা মওসুমে বাঁশের সাঁকো ও বর্ষায় নৌকায় পারাপার করে থাকেন। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয় বলেও তারা জানিয়েছেন। ওই গ্রামের বাসিন্দা হরিপদ বিশ্বাস জানিয়েছেন, যোগাযোগ সমস্যার কারণে এই এলাকার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। খরা মওসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে আর বর্ষায় নৌকা করে পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। অন্য দিকে অনেক সময়ের অপচয়ও হয়ে থাকে। এলাকাবাসী এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ওই গ্রামবাসী এতটাই উন্নয়নবঞ্চিত যে মাত্র কয়েকমাস আগে বৈদ্যুতিক সুবিধা পেয়েছেন। এ বিষয়ে হারতা ইউনিয়নের দক্ষিন নাথারকান্দির ইউপি সদস্য ফারুক তালুকদার বলেন, ‘নিজের এলাকার জন্য ইউনিয়ন থেকে তেমন কোন কাজ পাইনি। গ্রামটির যাতায়াত ব্যবস্থার সত্যিই খুব খারাপ অবস্থা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.