রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

অভিযুক্তদের কস্মিনকালেও আমেরিকার হাতে তুলে দেবেন না পুতিন

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কথিত হস্তক্ষেপের দায়ে অভিযুক্ত ১৩ রুশ নাগরিককে কোনোদিনই ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দেবে না তার দেশ।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিতিয়ে দিয়েছে বলে আমেরিকার একটি মহল অভিযোগ করছে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগের এক তদন্ত প্রতিবেদনেও এ দাবি করা হয়েছে।

এনবিসি টিভি’কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, “রাশিয়া তার নাগরিকদেরকে কারো কাছে হস্তান্তর করবে না। কখনো না। কস্মিনকালেও না।”

রাশিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি বলে আবারও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কথিত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি নিজেদের উদ্যোগেও কোনো কাজ করে থাকে তারপরও তাদেরকে হস্তান্তর করা হবে না।

রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তরের কোনো চুক্তি নেই। এ ছাড়া, রাশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী দেশটির সরকার বাইরের কোনো দেশের কাছে নিজের নাগরিকদের হস্তান্তর করতে পারে না।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিশেষ আইনজীবী রবার্ট মুলার দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে গতমাসে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার ১৩ ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠান মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে জিতিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে হস্তক্ষেপ করেছিল।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ওই অভিযোগের পক্ষে ‘শক্ত দলিল’ উপস্থাপন করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রমাণ পেলে তা খতিয়ে দেখতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে।

 

পরমাণু হামলার প্রতিশোধের হুমকি পুতিনের

রয়টার্স

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে কোনো রকম পরমাণু হামলা হলে তা রাশিয়ার ওপর হামলা বলে বিবেচনা করা হবে এবং তাৎণিকভাবে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানী মস্কোয় বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য নেশন’ বক্তৃতায় পুতিন এ কথা বলেছেন। এ সময় তিনি আমেরিকার সাম্প্রতিক ছোট করে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পুতিন বলেন, মার্কিন নতুন নীতিতে প্রচলিত কোনো হামলা হলে এমনকি সাইবার হুমকির জন্যও আমেরিকা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি এমন হলে রাশিয়াও পাল্টা হামলার অধিকার রাখে তা সে হামলা রাশিয়ার ওপর হোক কিংবা মিত্রদেশগুলোর ওপর হোক। প্রচলিত অস্ত্রের জবাব প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে দেয়া হবে এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের জবাব দেয়া হবে ঠিকই একই রকম অস্ত্র দিয়ে।

পুতিন আরো বলেছেন, শত্রুরা যেরকম সাইজের বোমা দিয়ে হামলা করবে রাশিয়াও সেই সাইজের বোমা দিয়ে পাল্টা হামলা করবে। ছোট হলে ছোট পরমাণু বোমা দিয়ে, মাঝারি হলে মাঝারিটা দিয়ে আর বড় সাইজের হলে রাশিয়াও বড় সাইজের বোমা দিয়ে হামলা করবে; একদম কাল বিলম্ব করা হবে না।

রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, তার দেশ কিছু কৌশলগত অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীা করেছে যা প্রতিহত করা যাবে না। এসব অস্ত্রের কাছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর পেণাস্ত্র প্রতিরা ব্যবস্থা অকার্যকর। পুতিন বলেন, এ ধরনের অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- পরমাণু শক্তিচালিত ক্রুজ পেণাস্ত্র, পরমাণু শক্তিচালিত ডুবো-ড্রোন এবং হাইপারসনিক সারমাত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্র যার সমক কোনো পেণাস্ত্র সারা বিশ্বে নেই।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, সারমাত পেণাস্ত্র ব্যবস্থা দীর্ঘপাল্লার পরমাণু অস্ত্র বহন করতে সম এবং প্রকৃতপে এর পাল্লার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এ পেণাস্ত্রের সাহায্যে উত্তর ও দণি মেরুতে হামলা চালানো সম্ভব। তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাদেরকে বলতে চাই- একতরফা সুবিধা নেয়ার জন্য গত ১৫ বছর ধরে যারা অস্ত্র প্রতিযোগিতা করেছে, আমাদের দেশের উন্নয়ন আটকে দেয়ার জন্য বেআইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, আপনারা যা করতে চেয়েছিলেন তার সবই করেছেন; কিন্তু রাশিয়াকে আটকে রাখতে আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যা ও সামরিক খাতের সমস্যা সত্তে¡ও আমরা ২০০৪ সাল থেকে আমেরিকাকে সংলাপের জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানাচ্ছি; কিন্তু তারা বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি। এখন আমরা মার্কিন পেণাস্ত্র বিধ্বংসী সমতা অর্জন করেছি এবং এখন তারা আমাদের কথা শুনছে।’

প্রেসিডেন্ট পুতিন তার বক্তৃতায় বলেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে রাশিয়া তার বেড়ে চলা সামরিক সমতা দেখিয়েছে। রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকে আবারো শক্তিশালী করে তোলার জন্য গত কয়েক বছরে নানামুখী কাজ করা হয়েছে বলে জানান ভ্লাদিমির পুতিন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.