বরগুনায় টাকা দিলেই মিলে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ার অনুমতি

গোলাম কিবরিয়া,বরগুনা

বরগুনা জেলার ৬টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ড্রাম চিমনি অবৈধ ইটভাটি গড়ে উঠছে। এ সকল ইটভাটিতে দেদারসে পুড়ছে কাঠ। নিরব পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন। ইটভাটির মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের লোকজনদের মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছেন। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভাব করছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে টাকা দিলেই মিলে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর অনুমতি। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন ভাটিতে এতে টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানাগেছে, বরগুনা জেলার সদর উপজেলা, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া ৩০ টি ড্রাম চিমনি (ব্যারেল) ইটভাটা রয়েছে। এ সকল ইাটভাটি স্বল্প উচ্চতার ড্রাম চিমনি ও ৫০-৬০ ফুট উচ্চতার অস্থায়ী চিমনি ইটভাটি স্থাপন করা হয়েছে। জ্বালানী হিসাবে সকল ইটভাটির্তে কাঠ পোড়ানোর জন্য গ্রাম ও ফারতার বনাঞ্চল থেকে বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে স্তুপ করে রাখছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা করেছে পরিবেশবাদীরা।
এরমধ্যে আমতলী উপজেলার আমতলী সদর, চাওড়া ও কুকুয়া ইউনিয়নের ১০ টি ড্রাম চিমনি ইটভাটি রয়েছে। এ সকল অবৈধ ইটভাটিতে সরকারী কোন অনুমোদন নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন ও প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এ ইটভাটির মালিকরা কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছেন। গত বছর ১১ ডিসেম্বর উপজেলার রায়বালা গ্রামের বিবিসিওসি, মহিষডাঙ্গা এলাকায় এমসিকে ও এমএমসি ব্রিকস, চালিতাবুনিয়ার এইচএসবি, মধ্য চন্দ্রার এইচবিএস, পাতাকাটার এইচআরডি ব্রিকস’এ বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি টিম অভিযান চালায়। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র ছাড়া কৃষি জমিতে ইটভাটি গড়ার অপরাধে ড্রামচিমনি এ পাঁচটি ইটভাটি ভেঙ্গে ফেলে এবং অবৈধ ইটভাটি মালিকদের গত বছর ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভাটির ধ্বংসাবশেষ অপসারন করার নির্দেশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভাটির মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন চলে যাওয়ার পরে পুনরায় ড্রাম উঠিয়ে ইট পোড়াচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনের এ অভিযান ছিল লোক দেখানো মাত্র। পাতাকাটা গ্রামের এইচআরডি ব্রিকস’এর মালিক সেলিম হাওলাদার বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এসে সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। এ টাকা কখনো দিতে হবে না তারা লোক দেখানো জরিমানা করেছে মাত্র। পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই টিমকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়েছি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটার এইচআরডি ব্রিকস, ও আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের বিবিসিওসি ব্রিকস’র কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছেন।
কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে রায়বালা গ্রামের বিবিসিওসি ব্রিকসের মালিক হান্নান জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে মাসোয়ার দিয়ে কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছি।
তালুকদার বাজারের এইচআরটি ব্রিকস’র ম্যানেজার ফারুক মিয়া জানান, ডিসেম্বর মাসে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন নিয়ম রক্ষায় সাড়ে তের লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। এ টাকা কখনো দিতে হবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে ঘুষ দিয়ে পুনরায় ইট পোড়ানো শুরু করেছি।
হলদিয়া দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের এমকেএল ইটভাটির মালিক মালেক পাহলানের ছেলে নাশির পাহলান বলেন, আমরা এ বছর নতুন ভাটি করেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমতি নেই। তাদের (পরিবেশ অধিদপ্তর) ম্যানেজ করে ইটভাটি চালাচ্ছি।
এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কর্যালয়ের সহকারী পরিচালক আরেফিন বাদল নয়াদিগন্তকে বলেন, বরগুনায় অনেক ইটভাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘন করে কেউ ইটভাটি নির্মাণ ও কাঠ দিয়ে ইট পোড়ালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন ইটভাটিতে জরিমানা করে ড্রাম চিমনি ভেঙ্গে দিয়েছি। তবে ভেঙ্গে দেয়ার পরে কিভাবে আবার ইট পোড়াচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.