ধুলোয় ধূসর যশোরের মহাসড়ক : স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা

শেখ জালাল উদ্দিন, যশোর অফিস

মহা-সড়ক তো নয় যেন মহা-যন্ত্রণা। রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে অনেক আগেই। বসানো হয়েছে ইটের সিলিং। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। কার্পেটিং না থাকায় চারিদিকে ধুলা উড়ছে। সড়কের আবস্থা বর্ণনা করা কঠিন। এক কথায় মানচিত্রের পৃষ্ঠার মতো হয়ে গেছে। মানচিত্রে যেমন সাগর, নদী, হাওর, বাঁওড় অঙ্কিত থাকে, মহাসড়কেও তেমন আছে। এটা যশোরের মহাসড়কগুলোর দৃশ্য। যা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কার্পেটিং না থাকায় সড়কে শুধু ধুলো আর ধুলো। এ ধুলো থেকে কিছুতেই নিস্তার পাচ্ছে না যাত্রীসহ পথচারীরা। ফলে চরম অস্বস্তিতে পথ চলতে হচ্ছে। অস্বস্তিতে আছে ব্যবসায়ীরাও। ধুলোর কারণে তৈরী হয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। এতে মানুষের সর্দি, চর্মরোগ, কাশিসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে।

যশোরে প্রায় সব আঞ্চলিক ও মহাসড়কগুলোর একই আবস্থা।খানাখন্দে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। যশোর-খুলনা, যশোর-বেনাপোল, যশোর-মাগুরা, যশোর-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়ক, যশোর-নড়াইল সড়ক, যশোর- চৌগাছা সড়ক সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এ সড়কগুলো এখন গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রী ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এতে মানুষের স্বস্তির চেয়ে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যশোরের সাতটি সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছে যশোর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

তারা ১ মার্চ থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে বলে আলটিমেটাম দেয়। কিন্তু সড়ক সংস্কার হবে এ আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দর ও সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রফতানির যোগাযোগমাধ্যম হচ্ছে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক। বাংলাদেশ ও ভারত যাতায়াতকারী যাত্রীদের বেশিরভাগ এই পথেই যাতায়াত করেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যশোরের ঝিকরগাছা ও শার্শা এবং পুরো সাতক্ষীরা জেলার যোগাযোগের মাধ্যম হলো এই সড়ক। প্রতিদিন আমদানি-রফতানি কাজে ব্যবহৃত এক হাজার ২০০ ট্রাক, যাত্রী পরিবহনে আরো ৩০০ বাসসহ অন্যান্য পরিবহন চলাচল করে। শুধু যশোর নয় দেশে এ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থগিত হয়ে গেছে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। কত দিন পরে প্রকল্প চালু হবে তা বলতে পারছে না সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

এতে করে ধুলার বন্যা বইছে সড়কে। রাস্তার ধারের মার্কেট সর্বত্র ধুলোয় দূষিত। শুধু যশোরে-বেনাপোল নয়, যশোর-খুলনা, যশোরে-মাগুরা, যশোর-ঝিনাইদহসহ প্রতিটি সড়কেই উড়ছে ধুলোবালি।

স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী চাকরিজীবী, গাড়ির চালক, সবাই অতিষ্ঠ ধুলোবালিতে। সড়কের দু’পাশের বাসা-বাড়ি দোকানপাটে ধুলোর জোয়ার। যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা, টেম্পু থেকে শুরু করে ভ্যানযাত্রীদেরও ধুলোর বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। যানবাহনের গতির সাথে উড়ে আসা ধুলায় সয়লাব আশপাশের এলাকা। দোকানপাট, হোটেল সবকিছুতে ধুলোর আস্তর জমছে। চারিদিকে এখন ধুলোবালির রাজত্ব। উড়তে থাকা ধুলোবালিতে ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টিসীমা। ধুলোবালির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে এখানকার বাসিন্দা আর পথচারীদের।

ঝিকরগাছা বাজারে এক হোটেল কর্মচারি হাসান বলেন, যানবাহনের গতির সাথে বাতাসে উড়ে আসা ধুলায় হোটেলের টেবিল চেয়ার সাদা হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পর মুছেও চেয়ার টেবিল পরিষ্কার রাখা যাচ্ছে না।

প্রসাধনী বিক্রেতা জিল্লুর রহমান বলেন, দোকান খুলে বসতেই চারিদিকে ধুলো। ধুলোর আস্তর জমছে দোকানে।

রিকশা-ভ্যান যাত্রী ও পথচারীদের অবস্থা আরও নাজুক। কোনোভাবেই ধুলো থেকে রেহাই মিলছে না।

ডা: মো: হুসাইন শাফায়েত বলেন, ধুলো চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করে। ধুলোবালির কারণে বায়ু দূষণ হয়। বায়ু দূষণের কারণে সব বয়সের মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ ও চর্মরোগ রোগ দেখা দিতে পারে। ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে তিনি মাক্স ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.