ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো (ফাইল ফটো)
ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো (ফাইল ফটো)
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন

অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারের প্রতি জাতিসঙ্ঘে আহ্বান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। সেই সাথে বিশ্বসংস্থাটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসঙ্ঘ উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনকে (ইউএনএইচসিআর) যুক্ত করতে বলেছে।

ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসনের জন্য পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি এ সংক্রান্ত আলোচনায় ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করার আহবান জানাই।’

এছাড়া রাখাইন রাজ্যে অবাধে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দিতে তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান, যাতে সমাজের সব সাহায্য প্রত্যাশীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়া যায়।

২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে যোগ দেয়া জাতিসঙ্ঘের এ কর্মকর্তা বলেন, উদ্বাস্তুদের দ্রুত ফেরানোর চেষ্টা করা হলে তা টেকসই নাও হতে পারে। এখন যে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে তা অনেক জটিল। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আমার মনে হয় এটা বলা অন্যায্য হবে যে বাংলাদেশের কারণে এখানে দেরি হয়েছে।

সেপ্পো আরো বলেন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন টেকসই করতে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ব্যাপারে আমরা অবগত আছি। গণমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে রোহিঙ্গারা এখনো পালাচ্ছে এবং সেখানে নিরাপদে ফেরার পরিবেশ তৈরি হয়নি।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তিনি কফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে বিভিন্ন ইস্যুতে নজর দেয়ার প্রতি জোর দেন।

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় অর্থায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক বলেন, বর্তমান বিশ্বে অনেক সঙ্কট চলছে। সঙ্কটের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে বেশ প্রতিযোগিতা রয়েছে। আমরা আমাদের সামর্থ অনুযায়ী জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে যা পারি তা করব।

১০ লাখ রোহিঙ্গার ব্যয়ভার বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আশা করি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় অর্থের জন্য মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আন্তর্জাতিক আহ্বানে ভালো সাড়া পাওয়া যাবে।

বিশ্ব শক্তির ভূমিকা নিয়ে সেপ্পো বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সদস্য দেশগুলোকে সুযোগ তৈরি করে দেয়ার ভূমিকায় আছে জাতিসঙ্ঘ। বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে নিয়মিতই আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতিসঙ্ঘকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.