হতাশ হতে হয়
হতাশ হতে হয়

হতাশ হতে হয়

সালাহউদ্দিন বাবর

সমাজের প্রকৃত চিত্রটা পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম বিশেষ করে পত্রিকাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলপর্যায়ে দেশের হালহকিকত বুঝতে হলে সংবাদপত্র পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার এতটা তৃণমূলে তাদের তথ্য জানার কোনো সুযোগ নেই পত্রিকা ছাড়া। তাই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এতটা জরুরি। বাংলাদেশে গণমাধ্যমে স্বাধীনতা নানাভাবে সঙ্কুচিত হয়ে আছে। সব বিষয়ে অবহিত থাকা প্রতিটি সরকারের জন্য জরুরি তার নীতি ও কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার জন্যও প্রতিদিন তথ্য-উপাত্ত জোগান দিতে পারে সংবাদমাধ্যম। কোথায় সঙ্কট, কোথায় সম্ভাবনা-এর চিত্র থাকে গণমাধ্যমে।

আমাদের সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্যে আসে আশাবাদ ও তাদের সাফল্যের সব কাহিনী। কিন্তু বাস্তবে হুবহু তা নয়। দেশে বহু সমস্যা রয়েছে। অনেক অঘটন ঘটানো হচ্ছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রধান দৈনিকগুলোতে নজর বুলিয়ে বোঝা গেছে আমরা কত সঙ্কটের মধ্যে বসবাস করছি। এসব খবর পড়ে হতাশ হওয়া ভিন্ন বিকল্প নেই।

দুর্নীতিবাজেরা উৎসাহিত হচ্ছে
দৈনিক যুগান্তরের খবর, ‘জার্মানভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণাসূচক রিপোর্ট অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ সোমালিয়া এবং সবচেয়ে কম দুর্নীতি নিউজিল্যান্ডে। একই দিন বাংলাদেশে সংস্থাটির সহযোগী টিআইবি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। ওই সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে সরকার। সরকারের শীর্ষমহল থেকে দুর্নীতির বিষয় অস্বীকার করা হচ্ছে। এতে দুর্নীতিবাজেরা উৎসাহিত হচ্ছে। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মূলত আটটি কারণে দুর্নীতি কমানো যাচ্ছে না। কারণগুলো হচ্ছে- ০১. রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতির ঘাটতি; ০২. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতার অভাব; ০৩. রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অবস্থান সঙ্কুচিত করে দেয়া; ০৪. গণমাধ্যম ও সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের কথা বলার সুযোগ সীমিত করে দেয়া; ০৫. শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দৃষ্টান্ত দেখা না যাওয়া; ০৬. আর্থিক খাত, জনবল নিয়োগ ও বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ; ০৭. কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এলে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে তা অস্বীকার করা এবং ০৮. দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতার অভাব। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আর্থিক খাতে একে এক কেলেঙ্কারিতে জড়িত লোকদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না।

উচ্চ মৃত্যুহার
দৈনিক নয়া দিগন্তের খবর, ‘নবজাতকের উচ্চ মৃত্যুহার বাংলাদেশে। এখানে বছরে মারা যায় ৬২ হাজার নবজাতক। উচ্চ মৃত্যুহারের দিক থেকে এখন বিশ্বের ১০টি দেশের অন্যতম বাংলাদেশ। অবশ্য ১৯৯০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে নবজাতকের মৃত্যুহার অনেক কমেছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বছরে নবজাতকের মৃত্যু হতো দুই লাখ ৪১ হাজার। মৃত্যুর এই হার বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে বছরে ৬২ হাজার। ... এখানে নবজাতকের অধিক মৃত্যু হ্রাস একটি পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ৮৮ শতাংশ নবজাতকই মারা যাচ্ছে তিনটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে। এ ছাড়া বাংলাদেশে এখনো ৮৩ হাজার শিশু পৃথিবীর মুখ দেখার আগেই গর্ভে মারা যাচ্ছে।’
বাংলাদেশে এই অধিক শিশু মৃত্যুহারের কারণে বেশি সন্তান নেয়ার জন্য দম্পতিরা আগ্রহী হয়। এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। দারিদ্র্য, অপ্রতুল স্বাস্থ্যসুবিধার কারণে মৃত্যুহার বাড়ছে। সরকারিভাবে এ বিষয়টির ব্যাপারে আরো অধিক গুরুত্ব দেয়া এবং মাতৃপরিচর্যার ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা বৃদ্ধি করা দরকার। সরকারিভাবে দেশে উন্নয়নের ব্যাপারে যে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তা কোনোমতেই সফল হবে না যদি না মানবসম্পদের সুষ্ঠু পরিচর্যা না হয়।

ব্যাপক ভাঙচুর
দৈনিক প্রথম আলোর খবর, ‘ব্যাপক ভাঙচুরের পর দুই দিনের বিরতি। তৃতীয় দিন সকালে হামলা হলো প্রকৌশল দফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে (ঘটনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে)। তবে এবার আর ভাঙচুর নয়। কার্যালয়ে বিভিন্ন নথি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ করল ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার অনুসারীরা। তাদের ক্ষোভের কারণ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবন সম্প্রসারণের জন্য আহ্বান করা, প্রায় ২০ কোটি টাকার দরপত্রের কার্যাদেশ পায়নি তাদের নেতার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এই তছনছ কাণ্ডের নেতাকর্মীরা খুব বেশি সময় নেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে কার্যালয়ের বিভিন্ন নথি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছুড়ে ফেলে এবং চেয়ার-টেবিল এলোমেলো করে দিয়ে গালিগালাজ করতে করতে চলে যান আট-নয়জন শিক্ষার্থী। ... হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জানালেও তাদের পরিচয় সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীরা কিছু বলতে চাননি। শুধু এটুকু বলেছেন, তারা ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ চৌধুরীর অনুসারী।’
এমন খবর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিদিনই প্রকাশিত হয়ে থাকে। ক্ষমতাসীন দল ও তাদের সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায় সর্বত্রই এমন অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে থাকেন। তাদের এমন অপরাধের কোথাও কখনো বিচারবিহিত করার খবর শোনা যায়নি। এর ফলে তাদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে অহরহ।

পৌরসভায় বেতন নেই
দৈনিক কালের কণ্ঠের খবর, ‘স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পৌরসভাগুলো নানা সঙ্কটের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে আর্থিক সঙ্কটই বড়। অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেই। উল্টো চালু আছে ঢালাও কর মওকুফের সংস্কৃতি। দেশের শতকরা ৭৬ ভাগ পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাকি পড়ে আছে দুই মাস থেকে ৫৮ মাসের। বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আইন অগ্রাহ্য করে রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠিত পৌরসভাগুলো নাগরিক যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা কেবল সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার আশায় ছোটেন। অপ্রতুল বরাদ্দে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। জানা গেছে, দেশের মোট ৩২৭টি পৌরসভার মধ্যে ২২৬টিতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাকি আছে। পৌর সভাগুলোর ৩২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করতে বছরে প্রয়োজন ৯৪৭ কোটি টাকা এই অর্থের মাত্র ০.৪৫ শতাংশ দেয় সরকার, বাকি অংশ দেয়ার কথা পৌরসভার নিজস্ব আয় থেকে।’
রিপোর্ট অনুযায়ী যদি পৌরসভার এই হাল হয়ে থাকে তাহলে এ সংস্থায় কর্মরত ৩২ হাজার মানুষের হাজার হাজার পরিবার চলে কিভাবে? আর নাগরিক সেবাই বা দেবে কিভাবে সংস্থাগুলো? এই হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কেমন করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটবে? এর বিহিতব্যবস্থা না হলে দেশে উন্নয়নের যে কথা বলা হচ্ছে, তা ফাঁকাবুলি হয়ে থাকবে।

ঘটনা মর্মান্তিক
দৈনিক ইত্তেফাকের খবর, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন শাহেদ ওরফে সাঈদ। যখনই কাউকে মাদক সেবন করতে দেখতেন, তখনই মাদকের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বুঝাতেন। একই সাথে, মাদক ব্যবসায়ীদের তিনি চরম ঘৃণা করতেন। মাদকমুক্ত সমাজ দেখার স্বপ্ন ছিল তার। তবে নিজের বাসার সামনে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় ২৮ বছর বয়সী সাঈদকে জীবন দিতে হলো। ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। ২০১৬ সালের ৯ জুলাই শ্যামপুর থানাধীন ১৭৩ নম্বর ডিআইটি প্লট ভিলার সামনে রাত পৌনে ৩টায় সাঈদকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ীদের ১১ সদস্যের একটি দল। বিচ্ছিন্ন হাত, পা, দেহ, নাড়িভুঁড়ি রাস্তায় পড়ে থাকে।’
মাদকের মরণ ছোবল দেশের যুবসমাজ, শিশু-কিশোরদের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। দেশের বড় সমস্যাগুলোর অন্যতম এই মাদক। প্রশাসন এই ভয়াবহ সমস্যার কোনো কিনারা করতে পারছে না। তাই দেশব্যাপী মাদক ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনের সূচনা করা দরকার। এই সমস্যা এত গভীরে এবং এত ব্যাপক যে, তা কারো একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সর্বস্তরের মানুষকে এর সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। সমাজে সাঈদের মতো প্রতিবাদী যুবকদের সার্বিক সহায়তা দেয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনেরই দায়িত্ব। যদি এমন প্রতিবাদী কণ্ঠকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব না হয়, তবে মাদকের ছোবল ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

লঙ্ঘিত মানবাধিকার
দৈনিক সংগ্রামের খবর, ‘বাংলাদেশে বিরোধীদের দমন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা এবং গুম-খুনের মতো ঘটনায় লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। আর এমন খবর উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক প্রতিবেদনে। বাংলাদেশসহ ১৫৯ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করে সংস্থাটি। তাদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে। বাংলাদেশে ডিজিটাল আইন প্রণয়নেরও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।’
বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সবসময়ই মানবাধিকারেরন বিষয়টি হুমকির মুখে ছিল, যা ইদানীং বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ডিজিটাল আইন প্রণয়ন নিয়ে সারা দেশে সাংবাদিকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। এ সম্পর্কে বাদপ্রতিবাদ হচ্ছে। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সংবাদপত্র তথা স্বাধীন মত প্রকাশের প্রতি ক্ষমতাসীনদের বৈরী মনোভাব অতীতেও ছিল। একসময়ে আওয়ামী লীগ দেশের চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সব পত্রপত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। এর আগে ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে তারা সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করেছেন।

ধর্ষণ
দৈনিক ইনকিলাবের খবর, ‘চাটখিল উপজেলার নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান শরীফের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (১৫) পুলিশ পরিচয়ে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে পুলিশ একটি মামলা নিয়েছে বলে অভিযোগ ভিকটিমের পরিবারের। ভিকটিমের বাবা সিরাজউদ্দিন জানান, ঘটনার কয়েক দিন আগে তার মেয়ে নোয়াখোলা উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সাহপুর গ্রামে ইয়াসিন হাজীর বাজারসংলগ্ন তার মামা শহিদের বাড়িতে বেড়াতে যায়। রাত দেড়টার দিকে মুজিবুর রহমান শরীফের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশের পরিচয় দিয়ে শহিদের ঘরের দরজা খুলতে বলে। কিছুক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর কোনো সাড়া না পেয়ে তারা ঘরের দরজা জানালা ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় নিরুপায় হয়ে তার মামী সাজু বেগম দরজা খুলে দেন। পরে হামলাকারীরা মেয়েকে ঘুম থেকে তুলে তার ভোটার আইডি ও জন্মনিবন্ধন সনদ দেখাতে বলে। সে এগুলো না দেখাতে পারায় তাকে জোরপূর্বক তুলে একটি বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।’
দেশের নারী শিশু নির্যাতনের যে ভয়াবহ অবস্থা এবং এর কোনো কোনোটির সাথে যে, ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা জড়িত এসব ঘটনা তার প্রমাণ। এমন অত্যাচার আর কত হবে?

২ বছরেও খোঁজ নেই
দৈনিক মানবজমিনের খবর, ‘লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট। ফল প্রকাশিত হয়েছে ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর। মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় একই বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০১৭ সালের ২৯ জুন। পরে পুলিশি তদন্ত হয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় গত বছরের ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। নিয়োগপ্রক্রিয়ার সব ধাপ শেষ হওয়ার পর আজো নিয়োগপত্র পাননি ১২০ জন চাকরিপ্রার্থী। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর। নিয়োগ নিয়ে নানা টানাহেঁচড়া আর চিঠি চালাচালিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে ওই সব চাকরিপ্রার্থীর। এ ঘটনা রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের।’
সরকারি চাকরির একটি বয়স রয়েছে। ওপরে উল্লিখিত তরুণেরা কতকাল চাকরির জন্য অপেক্ষা করবে? তাদের বয়স শেষ হয়ে যাবে। দেশে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই নগণ্য। কিন্তু বেসরকারিভাবে কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মের সংস্থান হতো, কিন্তু সরকার সে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারায় বেকারত্ব দূর হচ্ছে না। দিন দিন বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ কারণে সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

কাল্পনিক অভিযোগ
দৈনিক সংবাদের খবর, ‘ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসামে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে ‘বাংলাদেশী’দের অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তিনি দাবি করেছেন, চীনের সহায়তায় ভারতের সাথে ছায়াযুদ্ধের (প্রক্সি ওয়ার) অংশ হিসেবে এ অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে পাকিস্তান। বেশ কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়ে উত্তপ্ত আসামের রাজনৈতিক অঙ্গন। কথিত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে সেখানে নাগরিক পুঞ্জিও করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি একটি আদমশুমারি চালানো হয় রাজ্যটিতে। এতে যুক্ত হওয়ার জন্য তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষের আবেদন জমা পড়ে। বাকি এক কোটি ৩৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ে। বলা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশ থেকে আসামে প্রবেশ করেছেন।’

পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, এই শুমারি ও বক্তব্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং পরিকল্পিত। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন কল্পিত বক্তব্য দেয়ার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। বাংলাদেশকে ভারত নানামুখী চাপের মধ্যে ফেলার জন্য এসব কথা বলা হচ্ছে। সরকারের উচিত ভারতীয় অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এখনই সতর্ক এবং উপযুক্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো। আসামে বহুকাল থেকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। তবুও তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

বাজার অস্থিতিশীল
দৈনিক সমকালের খবর, ‘দীর্ঘ দিন স্থিতিশীল থাকার পর বাড়ল চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম। বাজার দখলে থাকা বড় কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের কমিশন তুলে নিয়েছে। এ কারণে পরিবেশকেরা লিটারে দুই টাকা দাম বাড়িয়েছে। চিনির দামও কেজিতে একই হারে বেড়েছে। আগে থেকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চাল ও লবণ। কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দর কিছুটা কমেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ছে রসুন ও আদার দাম। তবে মওসুমি শাকসবজি ও আলুর দাম কমেছে। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের দর বৃদ্ধিতে ক্রেতারা অসন্তুষ্ট।

দেশের সুশাসনের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর অন্যতম হলো বাজার নিয়ন্ত্রণ; তথা দ্রব্যমূল্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। বাজার অস্থিতিশীল হলে বুঝতে হবে, দেশে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, জীবনধারণের মান নিম্নগামী হয়। দেশে বাজার নিয়ন্ত্রণের আইন রয়েছে; রয়েছে মজুদদারি মুনাফাবাজদের ধরার নানা বিধিবিধান। কিন্তু এমন আইন কানুন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা লক্ষ করা যায় না। এসব কিছু ব্যবসায়ী সমাজের ক্ষত। এই ক্ষত সারানো না হলে তা বিস্তৃত হয়ে গোটা সমাজকে গ্রাস করবে। একটি সফল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সুশাসন। সুশাসন থাকলে নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষিত থাকে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.