ফিল্মি ষ্টাইলে পৌর মেয়রের চেয়ার দখল আ’লীগ নেতার
ফিল্মি ষ্টাইলে পৌর মেয়রের চেয়ার দখল আ’লীগ নেতার

ফিল্মি ষ্টাইলে পৌর মেয়রের চেয়ার দখল আ’লীগ নেতার

বগুড়া অফিস

বগুড়া পৌর মেয়রের অফিস রুমের গেট ভেঙ্গে ফিল্মি ষ্টাইলে চেয়ার দখলের ঘটনা ঘটিয়েছেন এক আওয়ামী ঠিকাদার । এসময় তিনি ২৫ মিনিট মেয়রের চেয়ারে বসে চা পানের পর কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনুরোধে চেয়ার ছেড়ে পৌরভবন ত্যাগ করেন। এ সময় পুলিশ সেখানে গেলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকাল পৌনে ১০টায় বগুড়া পৌরভবনে যান বগুড়া পৌর আ’লীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও ঠিকাদার আব্দুল মান্নান আকন্দ ওরফে ফেম মান্নান ওরফে মেলা মান্নান। তিনি বর্তমানে বগুড়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতিরও সভাপতি। এসময় তার সাথে ছিল দু'জন ঠিকাদার মিলু ও মন্জু। তিনি মেয়রের রুমের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে সরাসরি মেয়রের চেয়ারে বসে পড়েন।

এরপর তিনি কর্তব্যরত কর্মচারীদের (পিয়ন) কর্মকর্তাদের ডেকে আনতে বলেন। তখন সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর রেজাসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী গিয়ে তাকে চেয়ার ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মাছুমা এন্টারপ্রাইজের ফাইলগুলো তার কাছে আনতে বলেন। একইসাথে তিনি বলেন, কেন তার ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। কর্মচারীরা বারবার চেয়ার ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করলে তিনি চা আনতে বলেন। এরপর এক পিয়ন চা দিলে তিনি পান করেন। ইতোমধ্যে পুলিশসহ অন্যান্য লোকজন গেলে তিনি সকাল সোয়া ১০টায় পৌর ভবন ছেড়ে যান। পুলিশ তখন কনোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা গেছে।

চেয়ারে বসে মান্নান বলেন, নৌকা মার্কা নিয়ে তো এই চেয়ারে বসা যাবে না। তাই এভাবে দখল করতে হবে। একইসাথে তিনি ডিসির চেয়ার দখলের ঘোষণা দেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে রোববার মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় ছিলেন বলে জানা গেছে।

পৌর সভার প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, সম্প্রতি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা মেরামতের জন্য টেন্ডার করা হয়। সেখানে মাছুমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১১টি প্রকল্পের কাজের জন্য নির্বাচিত হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ লাখ টাকা। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ অর্থ সংকটের কারণে কার্যাদেশ প্রদান ও চুক্তি করতে বিলম্ব করছে। এ ছাড়া আরো তিনটি কাজ পেয়েছে অন্য প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান আকন্দ চেয়ারে বসার কথা অস্বীকার করে বলেন, মেয়রের রুমে গিয়ে শুধু প্রকৌশলীদের গালিগালাজ করেছি। কারণ তারা আমার সাথে অন্যায় করেছে। এ ছাড়া রুমের গেট জোরে ধাক্কা দিয়েছি।

এ ব্যাপারে পৌর সচিব মোঃ ইমরোজ মুজিব বলেন, এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হবে। এ ব্যাপারে মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, মেয়র মৌখিকভাবে ঘটনাটি জানিয়েছেন । তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.