সৈয়দপুরে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ মানুষ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ এলাকার বারো মাস মশার উপদ্রব কমছে না । সে কারণে পরিষদ এলাকাসহ ৮নং ওয়ার্ডবাসী মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ মানুষ উপজেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষসহ পৌর কর্তৃপক্ষকে বারংবার অভিযোগ দিলেও মিলছে না কোন প্রতিকার। এর ফলে বাধ্য হয়ে অসহনীয় দুর্ভোগ নিয়ে দিনাতিপাত করছেন ওই এলাকার প্রায় হাজার খানিক পরিবার।
ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলেন সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রায় ৩ একর জমিতে খনন করা পুকুরটিতে বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া মহল্লার মানুষের ব্যবহৃত নোংরা পানি ও আবর্জনা ভর্তি হয়। সেখানকার জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনায় মশার উৎপত্তির পাশাপাশি দিনে রাতে তাদের তান্ডবে এলাকার মানুষের জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগের কালো ছায়া। অসহনীয় মশার কামড়ে দিনে বা রাতে ঘুম নেই বললেই চলে। বছরের পর বছর ওই পুকুরটিতে নোংরা পানি ও আবর্জনার স্তুপ থাকায় বেড়েছে মশার উৎপত্তি ও উৎপাত। বিষাক্ত মশার কামড়ে ডেঙ্গু ও মেলেরিয়ার মতো ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হলেও মিলছে না কোন প্রতিকার।
অভিযোগ রয়েছে উপজেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ গত দিনে ওই পুকুরটি ২/৩ বছর পর পর লিজ দেয়ার কারণে প্রতি বছরই পরিস্কার করা হতো। কিন্তু বিগত দেড় যুগ ধরে ওই পুকুরটি উপজেলা পরিষদের এক ড্রাইভার লিজ নেয়ার নামে দখল করে থাকায় সেটি বছরের পর বছর পরিস্কার করা হচ্ছে না। পুকুরটির কারণে মশার উৎপত্তি হচ্ছে জেনেও লিজ নামধারী ব্যক্তিটিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কোন তাগিদও দিচ্ছেন না উপজেলা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি বড় ড্রেন ও নালা বছরের পর বছর পরিস্কার না করার ফলে দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে বিষাক্ত মশার উৎপত্তি ও উপদ্রব।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পুকুরটিতে ও ছোট বড় ড্রেন গুলিতে জমাট রয়েছ দুর্গন্ধ যুক্ত পানি ও আবর্জনার স্তপ আর সেখানে সদ্য জন্ম নেয়া লাখ লাখ মশা। প্রতিদিন লাখ লাখ মশার উৎপত্তিতে আতংকিত জনপদ দিনে অথবা রাতে মশারী টাঙ্গিয়ে পড়াশুনা করছেন ও ঘুমাচ্ছেন।
শহরবাসী বলছেন সৈয়দপুর শহর উন্নয়নে সরকার বিশ্ব ব্যাংকের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে চলেছেন। বরাদ্দকৃত ওই অর্থে কাজও চলছে জোরেসোরে। কিন্তু শহরব্যাপী যে বারো মাসেই মশার চাষ হচ্ছে তা উপজেলা বা পৌর কর্তৃপক্ষ দেখেও দেখছেন না।
সৈয়দপুর পৌর পরিষদের মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারের সাথে শহরের বিবিধ সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি শহরের ব্যাপক উন্নয়নের কথা বললেও মশার উৎপত্তি ও উপদ্রব দমনে কোন ব্যবস্থার কথা এ প্রতিবেদককে বলেননি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.