টেলর-ডিও রাম্বল
টেলর-ডিও রাম্বল

নিজের কোঁকড়া চুল নিয়ে কী ভাবেন তারা?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কোঁকড়া চুল অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে - কিন্তু তারা নিজেরা অনেকেই এ চুলকে পছন্দ করতে পারেননি ।

বিবিসির সাংবাদিক টেলর-ডিও রাম্বল বলছেন, কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েদের মধ্যে এই কোঁকড়া চুলকে নিয়ে নানারকম প্রবণতা আছে।

‘কৃষ্ণাঙ্গ সমাজের মধ্যে চুলের যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ - কারণ আমার মতো অনেকেই এ ভাবনা নিয়ে বড় হয় যে তাদের চুল সুন্দর নয়’, বলছিলেন তিনি।

এই চুলে নানা রকমের বেণী বা খোঁপা করতে মা-মাসীদের হয়রান হওয়া, চুলের জন্য মাখন, তেল বা ক্রীম কিনে পয়সা খরচ করা, বা সেলুনে চুলের সজ্জার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা - এগুলো নিয়মিত ব্যাপার।

টেলর-ডিও রাম্বল বলেন, তিনি কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ের সাথে কথা বলেছেন - তাদের জীবনে চুলের ভূমিকা কি তা জানতে।

রিয়ানা ওয়ালকট
আমার চুল সারা জীবনই বিশেষ ধরনের বেণী করা ছিল। আমি যে স্কুলে গেছি তাতে বেশির ভাগই ছিল শ্বেতাঙ্গ ছেলেমেয়ে। তারা চুলে পেন্সিল ঢুকিয়ে দিত, নানাভাবে হয়রানি করতো।

আমি এতে রেগে যেতাম, এখনও যাই। তবে আমার চুল আমার একটা গর্বের জিনিস।

আমি যখন দেখি শ্বেতাঙ্গ মেয়েরা কালোদের মতো চুলের স্টাইল করে এবং একে ‘কুল’ বলে মনে করে, তখন আমার অবাক লাগে - কারণ আমার এই চুলের জন্য আমাকে যাতে কেউ ভয় না পায় তার জন্য আমাকে অন্য অনেক কিছু করতে হয়।

এসমে অলম্যান
আমার বাবা জ্যামাইকান, মা শ্বেতাঙ্গ।

বাবা যখন আমাকে আফ্রো স্টাইলে চুল আঁচড়ে দিতেন তখন আমি ব্যথায় কোঁকাতাম। কিন্তু আমার মা একবার নিজেই আমার চুল কাটতে গিয়ে গোলমাল পাকানোর পর থেকে আমাকে সেলুনেই নিয়ে যেতেন।

‘সেলুনে গেলে লোকজন আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো - কারণ আমার মা শ্বেতাঙ্গ, আর দোকানের বাকি সবাই কৃষ্ণাঙ্গ।’

‘কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের জন্য সেলুনটা একটা বিশেষ জায়গা - যেখানে তারা আরাম বোধ করে কারণ বাইরে তাদের নিয়মিত বর্ণবাদের শিকার হতে হয়।’

ডেনিস নোবল
আমার তিন বছর বয়সে আমার মা একবার অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আমাকে কেয়ার হোমে নেয়া হয়েছিল একবার। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গদের চুল কিভাবে বাঁধতে হবে তা কেউ জানতো না।

আমার স্কুলে আমার ক্লাসে আমি ছিলাম একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে। অন্য মেয়েরা আমার চুলে হাত দিত। আমার সেটা ভালো লাগতো না। আমি রাজনীতি সচেতন ছিলাম, বুঝতাম যে এটা সম্মানসূচক নয়।

বড় হতে হতে আমি বুঝলাম আমি যে কৃষ্ণাঙ্গ - এই সত্তাকেই আমাকে তুলে ধরতে হবে।

১৯৭০-এর দশকে আমি ছিলাম কলেজছাত্রী । সেসময়কার কৃষ্ণাঙ্গ ব্রিটিশ পরিচিতির আন্দোলন আমাকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করেছে।

ম্যাগী এমওয়াঙ্গি
আমি বড় হয়েছি কেনিয়াতে। যখন যুক্তরাজ্যে এলাম, তখন অন্য মেয়েদের লম্বা স্বাভাবিক চুল দেখতাম।

আমার চুল পড়ে যাবার সমস্যা ছিল তাই আমার মাথা কামানো ছিল।

তাই আমি পরচুলা পরতে শুরু করলাম, অতিমাত্রায় আত্মসচেতন হয়ে উঠলাম।

তবে সামাজিক মাধ্যম থেকে আমি পরে এ ব্যাপারে অনেক মানসিক সমর্থন পেয়েছি।

জেনমার সামুয়েলস
আমার কোঁকড়া চুল আমি একেবারেই পছন্দ করতাম না। মনে হতো আমার নিশ্চয়ই কোনো একটা সমস্যা আছে।

শুধু যখন আমার চুল সোজা করলাম তখনই আমার চুল আমার নিজের ভালো লাগতো।

কিন্তু যখন আবার আমার চুল কোঁকড়া হয়ে গজাতে থাকতো তখন আবার বিচলিত হয়ে পড়তাম।

এ নিয়ে অনেক ঠাট্টা বিদ্রুপ আর হয়রানির শিকার হয়েছি। ১৬ বছর বয়েস পর্যন্ত আমি নিজেকে ঘৃণাই করতাম।

কিন্তু এর পর অনলাইনে ন্যাচারাল হেয়ার কমিউনিটিতে যোগ দিয়ে আমার জীবন পাল্টে গেল। ।

এর শ্লোগান ছিল, ‘তোমার চুলকে ভালোবাসো’।

এদের বিভিন্ন ভিডিও দেখে, অন্য নারীদের সাথে কথা বলতে বলতে আমি ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, কিভাবে আমার নিজের গায়ের রংকে ভালোবাসতে হবে, কিভাবে আমার স্বাভাবিক চুলের যত্ন নিতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.