রায়হান
রায়হান

কলেজছাত্রী আঁখিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মামাতো ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাসায় একা পেয়ে আপন ফুফাতো বোন আঁখি আক্তারকে কুপ্রস্তাব দেয় মামাতো ভাই রায়হান। কিন্তু আঁখি তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে জোর করে ধর্ষণ করে। এতে কান্নায় ভেঙে পড়ে কলেজছাত্রী। একপর্যায়ে রায়হানের পাশবিকতার বিষয়ে পরিবারের সবাইকে জানিয়ে দেবে বলে জানায়। আর তখনই রায়হান তাকে বিছানায় ফেলে গলা টিপে হত্যা করে। এরপর বাজার থেকে ব্যাগ কিনে তাতে লাশ ভরে ফেলে আসে বিমানবন্দর রেললাইনের পাশে। এভাবেই ফুফাতো বোন আঁখিকে ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে রায়হান।

রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি ইয়াসিন ফারুক জানান, এর আগে এই রায়হানই আঁখিকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার বাবা (আঁখির মামা) নুরুল ইসলামের সাথে পল্লবী থানায় জিডি করতে যায়। তার লাশ অজ্ঞাত অবস্থায় মর্গে পড়ে থাকলে সেখানেও খোঁজ করতে যায়। এমনকি বাবাকে বাদি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে সব দোষ আঁখির প্রেমিকের ওপর চাপিয়ে দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আঁখির প্রেমিক সাব্বিরকে গ্রেফতার করে। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন কিছু। পুলিশ বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান করে রায়হানকেই সন্দেহ করে। অবশেষে বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত রায়হান হত্যার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত তথ্য দেয়।
রায়হান পুলিশকে জানায়, সে বিবাহিত। আঁখির বাবা- মা বিদেশ থাকায় সে রায়হানদের পল্লবী সেকশন-১২, ব্লক-ই, রোড-৩৩, বাসা-৩৮, ষষ্ঠ তলার ভাড়া বাসায় থেকে লেখা পড়া করত।

মূলত ওই বাসায় রায়হান তার সাত মাসের মেয়েসহ স্ত্রী হাসনা হেনা, চাচা মো: রোকন খান, চাচী জেসমীন, আরেক ফুফাতো ভাই মিন্টু এবং আঁখি আক্তার আলাদা আলাদা রুমে বাস করত। রায়হানের বাবা-মা পাশের ৮ নম্বর ব্লকের একটি বাসায় থাকত। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাসায় কেউ ছিল না। সেদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রায়হান তার রুমে একা একটি ইংলিশ চ্যানেলে সিনেমা দেখছিল। এ সময় আঁখি তার রুমে যায়। তখন রায়হান আঁখিকে কুপ্রস্তাব দেয়। আঁখি তাতে রাজি না হয়ে বিষয়টি সবাইকে জানাবে বলে হুমকি দেয়।

এরপরই সে আঁখিকে ধর্ষণ করে। কিন্তু এতে আঁখি কান্নাকাটি শুরু করে। একপর্যায়ে সে সবাইকে ধর্ষণের কথা জানাতে চায়। তখনই রায়হান আঁখিকে গলা টিপে শ্বাস রোধে হত্যা করে। এরপর তার গলায় ও কানে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল নিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করে একটি বড় ব্যাগ ও ছোট একটি তালা কিনে আবার বাসায় ফেরে। আঁখির ব্যবহৃত কাঁথা দিয়ে তার লাশ পেঁচিয়ে চালের চটের বস্তা ভেতর ঢুকায়। সেই বস্তা ওই কালো ব্যাগে ভরে চেইনে তালা লাগিয়ে দেয়। দুপুর দেড়টার দিকে লাশভর্তি ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয় সে। রিকশা নিয়ে প্রথমে ইসিবি চত্বরে যায়। সেখান থেকে সিএনজি অটো রিকশায় করে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম দিকে পার্কিংয়ে নামে। বেলা ৩টার দিকে ব্যাগটি একটি দোকানের পাশে রেখে পালিয়ে যায় রায়হান।

বিকেলের পর থেকে রায়হানের স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যরা আঁখিকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না বলে খোঁজ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে রাত একটার দিকে রায়হান তার বাবাকে নিয়ে পল্লবী থানায় গিয়ে নিখোঁজের ব্যাপারে থানায় জিডি করে। পরদিন দুপুরে তারা জানতে পারে আঁখির লাশ মর্গে পড়ে আছে। সেখানে গিয়ে রায়হান ও অন্যরা লাশ শনাক্ত করে লাশ মাদারীপুর কালকিনীতে আঁখির গ্রামের বাড়িতে দাফন করে।

ওসি ইয়াসিন ফারুক নয়া দিগন্তকে জানান, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে রায়হানকে সন্দেহ করা হয়। গ্রেফতারের পর রায়হান পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.