রংপুর সিটি করপোরেশনে অকল্পনীয় উন্নয়ন হবে : এরশাদ

রংপুর অফিস

সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, রংপুর সিটি করপোরেশনে আগামী পাঁচ বছরে অকল্পনীয় উন্নয়ন করা হবে। যা দেখে আমরা সবাই গর্ববোধ করবো। গর্ব করার মতো উন্নয়ন হবে রংপুর সিটি করপোরেশনের।

তিনি আজ শনিবার দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশনের হলরুমে মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন।

সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি কো-চেয়ারম্যান গোলাম মুহাম্মদ কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন বাবলু, মহানগর জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি এসএম ইয়াসির, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-আহবায়ক হাজি আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

সভায় সিটির চলমান উন্নয়ন এবং আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশল এমদাদ হোসেন।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, রংপুর নগরীতে পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত শ্যামাসুন্দরী খাল মানুষের কোনো উপকারে আসছে না। এটি মানুষের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। শ্যামাসুন্দরী খালের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। গত সরকারের আমলে অনেক মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে তাতে রংপুরবাসী কোনো উপকার হয়নি। এই খালটি পানি নিষ্কাশনের উপযোগী করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে সবার সাথে আলোচনা করে শ্যামাসুন্দরী খালের নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানি বহমান এবং উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা যায় কি না তা ভেবে দেখতে পারেন নগরবিদরা।

এরশাদ মেয়র এবং কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ১৮টি বর্ধিত ওয়ার্ডে এখনও কোনো নাগরিক সুবিধা দেয়া হয়নি। সুতরাং তাদেরকে করের আওতায় আনা ঠিক হবে না। আর এনে থাকলে তা বাতিল করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, রংপুর শহরকে আমরা এমন একটি শহরে পরিণত করতে চাই। যা দেখে আমরা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ কর্ণধাররা গর্ববোধ করতে পারবে। এরকম অকল্পনীয় উন্নয়ন আমরা এই পাঁচ বছরে করতে চাই। যাতে এই সিটি কর্পোরেশন নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। এই উন্নয়ন কার্যক্রমে কোনো দল কিংবা গোষ্ঠী বিবেচনায় থাকবে না। উন্নয়নের আওতায় থাকবেন সবাই। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে আগামীতে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সবাই মিলে চেষ্টা করবো। রংপুরে অফুরন্ত উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের শ্লোগান হবে ‘দল যার তার তার, রংপুরের উন্নয়ন সবার’।

পরে তিনি সিটি মেয়রের রুমে গিয়ে বেশ কিছু সময় কাটান।

মতবিনিময় সভায় অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা বলেন, ইতোপুর্বে শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কারের জন্য অনেক টাকা খরচ হয়েছে। শ্যামাসুন্দরীর যতটা উন্নয়ন হয়নি তার চেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে অনেক ব্যক্তির। শ্যামাসুন্দরী খাল এখন মরাখালে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, রংপুরে আগামী পাঁচ বছর আমরা অকল্পনীয় উন্নয়ন উপহার দিতে চাই। সে কারণে যদি এরশাদ স্যার আমাকে বলেন তাহলে আমি সচিবালয়ে নিজে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে ফাইল সই করে তা করে দিবো।

মতবিনিময় সভা শেষে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, রংপুরে যে ড্রেন করা হয়েছে তার সংযোগ শ্যামাসুন্দরী খালে রয়েছে। ফলে এই খালটি বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এই খালটির সংযোগ যদি আমরা ঘাঘট নদীতে দিতে পারি তাহলে এটি মানুষের উপকারে আসবে।

তিনি বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্ধিত ১৮টি ওয়ার্ডের মানুষ নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না। এসব ওয়ার্ডে এখন কাঁচা রাস্তা রয়েছে। তারা নাগরিক সুবিধা না পেলে কর দিবে কিভাবে।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা রয়েছেন। আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রীকে বললে আশা করি আগামী পাঁচ বছর রংপুরে দৃশ্যমান কাজ দেখাতে পরবো। আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে রংপুরে শ্যামাসুন্দরী খাল পুনঃখনন করে রংপুরের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারব।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.