নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন আ’লীগ নেতা
নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন আ’লীগ নেতা

নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন আ’লীগ নেতা

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে নারী প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধর করে লাঞ্ছিত করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার চরশ্রীরামপুর আমির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবা আক্তার। আবু সাইদ উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় মোজাফফর আলী ফকির স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ। গত বুধবার বিকেলে স্কুলের অফিস কক্ষে এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে মাহাবুবা আক্তার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হাসের আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে চরশ্রীরামপুর আমির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই স্কুলের উন্নয়য়নের জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপের টাকা নিয়ে মাহাবুবার সাথে স্কুলের সভাপতি আবু সাইদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। গত বুধবার বিকালে আবু সাইদ স্কুলে গিয়ে স্লিপের বিলে স্বাক্ষর করেন।

এসময় তিনি বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তার কাছে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য মাহাবুবাকে হুমকি দেন। কিন্তু মাহাবুবা এতে অস্বীকৃতি জানালে দু'জনের বাক-বিতন্ডার একপর্যায়ে আবু সাইদ প্রধান অফিস কক্ষেই মাহাবুবা আক্তারকে কিল, ঘুষি, চড়, থাপ্পড় দেন, মারধর করেন।

পরে স্কুলের অন্য শিক্ষকরা এসে মাহাবুবাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাহাবুবা সহ স্কুলের অন্য শিক্ষকরা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ জানাতে এলে আবু সাইদ সেখানেও উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।

প্রধান শিক্ষক মাহাবুবা আক্তার বলেন, স্কুলের সভাপতি আবু সাইদের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণে সে আমাদের শিক্ষকদে সাথে সবসময় খারাপ অচরণ করতো। ওই দিন স্লিপের টাকা তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমাকে অফিস কক্ষে একের পর এক কিল, ঘুষি চড়-থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের সভাপতি আবু সাইদ বলেন, প্রধান শিক্ষককের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে স্লিপের টাকা দাবি ও মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। এই প্রধান শিক্ষক স্কুলে যোগদানের পর থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশন হয় না, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করে। তার বিরুদ্ধে অনেক অনিয়মের অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। আমি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবো।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহমদ বলেন, প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউএনও মর্জিনা আক্তার বলেন, প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.