ইউটিউব প্লাস

রুহুল আমিন বাচ্চু

কী নামরে তোর?
রাজন। রাজন মেহদী।
আলী মিস্ত্রীর পোলা আকাব্বর মিস্ত্রী, তার পোলা রাজন মেহদী। খু-উ-ব উন্নতি। দেখছস, তোর দাদার নামও জানি। আকাব্বর মিস্ত্রী আমার ইন্ডাস্ট্রিতে কাম করতে গিয়া ছয়তলা থেইক্যা পইড়া মরল। আত্মহত্যা করতে গেলি ক্যান? বহুত গুণার কাম। দোজখ ছাড়া উপায় নাই। দুনিয়ার সংসারে যদি আজাব অয়, কী করার আছে? সংসারে বেচারারে সুখ দিলা না রাজন মেহদীর আম্মাজান। আঃ কি দুঃখের কাহানি কা ঘর! কী কও তুমি!

ঘটনাতো আপনারাই ঘাটাইছেন। জ্যান্ত মানুষডারে মাইরা ফ্যালাইলেন। কী ক্ষতি করছিল আপনের। জোর কইরা জমিন দখল করলেন। মাইন্যা নিল, উপযুক্ত দাম চাইল, এইটাই অপরাধ?
কালু কী কয়রে বড় ঘোমটা মারা আকাব্বরের বউ! প্রতিবাদের ভাষা মনে হইতাছে?
স্থানীয় মাস্তান কালু। রফিক সাহেবের ডানে বামে থাকে। আগের দিনে জোতদারের সাথে লাঠি নিয়ে ঘুরত। এখন শার্টের নিচে কোমরে লোড করা পিস্তল। সময় সময় শার্ট উঁচু করে পিস্তলের বাঁট দেখায়।
রফিক সাহেবের ছেলের নামও রাজন মেহদী। একই স্কুলে একই ক্লাসের ছাত্র। স্কুল টিটার নামের সামনে এক দুই লিখে পরিচিতি নিশ্চিত করে। আকাব্বর মিস্ত্রীর ছেলে রাজন মেহদী ক্লাসের ফার্স্ট বয়। বিষয়টা রফিক সাহেবের কানে যেতে ছয় মাস লাগে। ক্লাস টিচার রাজন মেহদী এক বল্লে ফার্স্ট বয় ইয়েস স্যার বলে দাঁড়ায়।

ঢাকার উপশহরে এক-দুই বিঘা জমি কিনে পাশের জমিতে জোর করে বালু ঢুকিয়ে দখলিস্বত্ব জারি করে। আকাব্বর মিস্ত্রীর মতো অনেকের জমিই সেই বালুর স্তূপে ঢাকা পড়ে। বসতভিটার উঁচু দশ শতাংশ জমি কোনোভাবেই রেহাই পায়। ওখানেই ওদের বসবাস।
ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, কত কি মুলা-কলায় আকর্ষণে মানুষ দাস হতে হামাগুঁড়ি দেয়! যারা দাস হতে চায়নি মামলা-হামলায় দেশ ছাড়া। এলাকার ছোট মাতাব্বর আতর আলীও যোগ দেয় রফিক সাহেবের সাথে। কারখানা গড়ে উঠে তারই তত্ত্বাবধানে। এরপর শ্রমিক বিদ্রোহ, জনদ্রোহ সব সামাল দেয় আতর আলী। রফিক সাহেবের চোখে তাকালেই বুঝে নেয় কী করতে হবে। বেশি কথা ব্যয় করতে হয় না ওদের বোঝাপড়ায়।

আকাব্বরের বউ, পোলার নামটা পাল্টাইয়া দেও। রাজু মিয়া রাখলে দোষ নাই। আমার নামটাও ধার নিতে পার, বলেই খ্যাক খ্যাক করে হাসে।
কী কসরে কালু? খারাপ তো কিছুই কই নাই। আকাব্বরের বউয়ের চোখের ভেতর লাল রঙ। কুইন কী আপনে? আকিকা দিলাম দুই খাসি জবাই দিয়া। হেই সময়তো আমাগো অবস্থা খারাপ ছিল না। সারা বছরের ধান, ডাইল ঘরে থাকত। জমিন বেবাক খাইল আপনের বালু। হজম করতে চাইলেন জাল দলিলে। পোলার বাপেরে........ আকাব্বরের বউয়ের চোখে পানি। গলা ভিজে আসছে।
কথাটা তার শেষ হয় না।
রফিক সাহেব যা বুঝার বোঝে নেন। এক কদম এগিয়ে বলেন, এত হিস্টরির কাম কী? না করছ, হুনলাম।
কালু কথা যোগ করে, আকাব্বরের বউ- স্যারেগোরে মান্য করতে অয়। মান্য করলেই রহমত অয়।
রফিক সাহেবের চোখের ইশারায় আতর আলী হাতের ইশারা করে। অইছে, রাজনের মা বাড়ি যাও। সুখে শান্তিতে বসবাস কর। আকাব্বরের স্ত্রী কথার মধ্যে অন্যরকম ধমকের সুর বুঝতে পারে। ছেলের কাঁধে হাত রেখে ফিরে যায়।

রফিক সাহেবের ছায়াবাড়িতে আরগুমেন্ট চলছিল। আকাব্বরের চাচাতো ভাই কলিমুন্সীর আম বগানে। রফিক সাহেবকে বালু চাপা দিতে হয়নি। বালুর ঘের যখন চতুর্দিক গিলতে থাকে; রফিক সাহেবের লোকেরা বুঝাতে পারে, এ জায়গাটা সাহেবের খুব প্রয়োজন। চারদিকে বালিয়াড়ির গ্রাম এবং মাঝে ১০ শতাংশ জমিতে ক’টি আম গাছের ভাগাড়। কিইবা এমন দরকারী ভূমি। যেখান থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। এটুকুর মায়া কাটাতে না পারলে জীবনটাই চলে যাবে হয়রানির আতঙ্কে। জাল দলিল প্রমাণ করতেও দুইযুগ পার হবে। এ মরীচিকার পেছনে না ছুটে যেটুকু বিনিময় পাওয়া যায় তাতেই লাভ। জমিনতো তার নিজের কেনা নয়। বাপ-দাদার সম্পত্তি, এতো মায়া দেখিয়ে জেল, মামলা-হামলার বাইরে থাকাই যুক্তির জীবন। এ জীবনতো কত কিছু দেখল, বুঝেও আসছে অনেক। দালাল, উকিলের সত্য মিথ্যার বেসাতি। কাঁড়া-আকাঁড়া বাচন থেকেই গুটিয়ে নিয়ে মনকে কষে বেঁধে ফেলল। আমগাছের ঘেরটা পছন্দ হলো রফিক সাহেবের। রাতারাতি হাজার স্কয়ার ফুটের ডুপ্লেক্স বাড়ি বানিয়ে নাম দিয়েছেন ছায়াবাড়ি। আমগাছের তলায় ক’খানা পাকা মোজাইক করা বেড, এক পাশে একটা পাকা টেবিল, ছায়ার ঘেরে আম্রপত্র দোলায় প্রায়ই বৈকালিন সময়টায় চা-নাশতার পরিবেশনা চলে। মাঝখানে দুই লেনের সিজনাল ফুলগাছের রকমারি বাগান। মাসে মাসে রঙ পাল্টায়। কাছের লোকজন বিশিষ্ট মেহমান ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এ ছায়াবাড়িতে। আকাব্বরের বউকে ডাকা হয়েছিল সেখানেই। এ চত্বরের মর্যাদা সে না বুঝেই চলে গেল।
রফিক সাহেবের একটা দুঃখের কাটা বিঁধে থাকল তার মনে।

ক’দিনের মধ্যেই রফিক সাহেব ইন্ডাস্ট্রি চত্বর থেকে পরিবার গুছিয়ে পাঠিয়ে দিলেন উত্তরায়। পলি ইন্ডাস্ট্রির বাইরে জমির ব্যবসার হালচালে আকৃষ্ট হলেন গভীরভাবে। ব্যাংক লোনের লিমিট বেড়ে গেল ১০ গুণ। গুণীরাই গুণের মর্যাদা বোঝে। ব্যাংকও বুঝে ফেলল তাকে, তিনিও ব্যাংককে। মহামিলনের তথ্য ভাণ্ডার পূর্ণ করতে ব্যাংকের কর্তাব্যক্তিরাই পথ দেখিয়ে দিলেন অব্যর্থ দিকদর্শনে। ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাংক লোন বিনিয়োগ না করে কালিয়া মৌজার শ’ বিঘা নাল জমি বায়না করে সরকারি ড্রেজার বসালেন। অলিখিত লিজ নিয়ে নিলেন তুরাগ নদীর একাংশ। নদীর তলদেশ ফুটা করে জল-বালু পাইপলাইন দিয়ে উঠতে থাকে দিনরাত। এলাকার মানুষ চমৎকৃত হলো। খাল, খানা-খন্দক নিচু জমি দিনে দিনে ভরাট হতে থাকে। অপূর্ব সৌন্দর্যের এক বিলাস ভূমি যেন জেগে উঠছে লোকালয়ের বাইরে পতিত ভূমিতে। ক’দিন পর লোকালয়ের মানুষের স্বপ্নভঙ্গ শুরু হলো। ধান শালিকের জমিনে বালুর দানবের আক্রমণ। ফসল আর ঘরে ওঠে না। এত দিনের প্রতিবাদ, মিছিল, মিটিং নেতাদের আশীর্বাদে পরিত্যক্ত।

একরাতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার এসে জানায় ড্রেজারের একটা পার্টস ভেঙে গেছে। জলবালু উত্তোলনের কাজ বন্ধ। সরকারি ড্রেজার অফিসের ইঞ্জিনিয়ার সাইটে গেলেন। রফিক সাহেবের নির্দেশ, দিনে দিনে ব্যবস্থা নিতে হবে। ড্রেজার ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে তিনি সাথে সাথে সাইট ইনসপেকশন করে পরামর্শ দিলেন একটা এপ্লিকেশন জমা দিতে। পরদিন তিনি কেরানিকে বলে নোট চালু করে দিয়ে বল্লেন, হাইয়েস্ট অথরিটির অনুমোদন লাগবে। বড় স্যার দেশের বাইরে, ১৫-২০ দিনতো লাগবে।
রফিক সাহেবের ছায়াবাড়িতে ড্রেজার ইঞ্জিনিয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন। রফিক সাহেবের ভয়, দিন পার হলে খরচ বাড়বে এবং আন্দোলন দানা বাঁধবে, নিশ্চিহ্ন খালবিল উদ্ধারে পরিবেশবাদীরা মৌজা-ম্যাপ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ তুলবে, মিডিয়া তোলপাড় করবে। ভয়টা তো ওখানেই। এত মিডিয়াকে কি সামাল দেয়া যায়, যতসব হারামখোর। এক দুইটা হলে না হয় হতো! ড্রেজার ইঞ্জিনিয়ার কাগজে একটা পার্টসের ড্রইং করলেন। বল্লেন, ভাঙা পার্টস বদলাতে হবে। জিনজিরায় কাউকে পাঠিয়ে দিন। এক দম অবিকল বানিয়ে দেবে। কী বলেন রফিক সাহেব? পনের শ’ টাকার পার্সের জন্য তিন কোটি টাকার ড্রেজার কতদিন কাদা পানিতে শুয়ে থাকবে? সরকারের কত মাল-ই-তো গহর দরিয়ায় বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরীতে ডুবে আছে। নোট চালাচালি, তারপর পার্টস আমদানি ছয় মাসের গন্তব্যের ব্যবস্থা। ড্রেজার চালু করে যা ভরাট করার করে নিন। অফিসিয়ালি ড্রেজার অকেজো থাকবে। তার মানে সরকারি ভাড়া বন্ধ। বুঝেন তো, ভূমির ঠাঁই-তো আছে খালে বিলে। ভরাট হলেই হীরে-জহরত। আমাদের ব্রিককেস ভরাট করে দিন, স্পিকটি নট। চিয়ার্স বলে ছায়াবাড়ির মিটিংয়ের সাফল্য ঘোষণা হলো।

রফিক সাহেব সাত দিনের প্যাকেজ ট্যুর ঘোষণা করলেন ড্রেজার ইঞ্জিনিয়ার আর বড় কর্তাদের নিয়ে। ফাইভ স্টার হোটেল বুকিং হলো। ব্রিফকেস ভর্তি নগদে চালান হলো কর্তাদের সেকেন্ড হোমে।
ফাইভ স্টার আরামের সাথে আয়েশের সব ব্যবস্থাই হলো। ব্যাংক লোনের প্রপার ইনভেস্টমেন্ট। ধারকরা হাইব্রিড বুদ্ধির যে এ প্লাস মান থাকতে পারে, জানা ছিল না। রফিক সাহেব এতদিনে সেকেন্ড হোম, থার্ড হোমের সন্ধান পেয়েছেন। আদম আলী কাঠমিস্ত্রির ছেলের বরাতে এত কিছু হবে ভাবেননি কখনো।

দেশে ফিরতে ফিরতে শত শত বিঘা জমির উর্বরতা দেখা গেল। ক্যামেরার ফ্রেমে ধরে না এমন বিল-খাল ধবধবে প্রান্তর। নির্দেশ মতো সাইট ইঞ্জিনিয়ার দখলিস্বত্ব বাতেনি, জাহেরি সব কিছু ম্যানেজ করে জমির মধ্যখানে পাকা অফিস বানালেন।
সুযোগমতো নিজেও সেকেন্ড হোমের ব্যবস্থা করে ফেলেছেন মালয়েশিয়ায়। উকিল, ব্যারিস্টার প্রশাসন সব দিক বিবেচনায় রেখে ঋণের কিস্তি বিনিয়োগ করে খালাস প্রায়। শান্তির শ্বাস-প্রশ্বাস রফিক সাহেবকে ঘিরে। অনেকটা নিশ্চিন্ত তিনি।

বিপক্ষের মামলায় প্রথম লিস্টেই নাম এলো আকাব্বর মিস্ত্রীর স্ত্রীর নাম হনুফা খাতুন। আদালতে বাদি পক্ষের নারাজি আইনের রিপোর্টের ওপর। এ সাহসিকতাকে প্রশ্রয় দেয়া যায় না। রিপোর্টে আকাব্বর মিস্ত্রীর আত্মহত্যা বললেও বাদির নারাজি। পুনঃময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন। আয়নার মতো ভেসে এলো আকাব্বর মিস্ত্রীর ছয়তলা থেকে পড়ে মাথা থেঁতলে যাওয়ার দৃশ্য। কালুকে বললেন, পোলাটা আছে না? একদিন বিচ্চু অইয়া কামড় দিব। হালারপোরেও খরচ কইরা ফালা। নমুনা রাখবি, মজা কইরা দেখুম। বেটি য্যান শোকে শোকে আইন-আদালতের ঠিকানা ভুইল্লা যায়। রাতেই নিখোঁজ হলো রাজন মেহদী। তার মায়ের আহাজারি ভিডিও করে নেয় কালুর লোকজন। পর দিন বৈঠকখানায় হনুফা খাতুনের আহাজারির সাথে সন্দেহের তীর নির্দেশনা দেখে হুকুম দিলেন, চৌদ্দ হাত মাটির নিচে ঢুকাবি কইলাম। কোনো কমতি নাইরে কালু। ভিডিও কইরা রাখবি, মজাসে দেখেঙ্গা।
জমিতে হাজার প্লটের ড্রইং পাশ করে বিজ্ঞাপন পাঠিয়ে দিলেন পত্রিকায়। কালই সব দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠার অর্ধপাতায় বিজ্ঞপ্তি ছাপা হবে, ‘ফ্যালকনসিটিতে আকর্ষণীয় মূল্যে প্লট কিনুন’।

রাতেই শুরু হলো অঝোর ধারায় বৃষ্টি। টিনের চালের বাগান বাড়িতে রাত কাটাবার ব্যবস্থা নিতে বল্লেন। ভিডিও দেখতে দেখতে বোতলের ছিপি খুল্লেন, পুশশশ শব্দে, দেহের উত্তাপ বেড়ে গেল।
বাগান বাড়িতে কালু আর আতর আলী। মধ্যরাতে ভেজা এক পঙ্খী নিয়ে এলো আক্তার। কালুর দিকে মুচকি হেসে বলে সাবরে কইবা নিউ মডেল। স্টারের কাছাকাছি, মূল্য বেশি। খোলা চোখে তাকালেন রফিক সাহেব। বোঁচা নাক ও ভাসা ভাসা গোল চোখের গভীর দৃষ্টি। জবজবে ভেজা দেহের ভাঁজ লুকাতে ওড়নার টানাটানি। ফর্সা দু’হাতে কাঁচের রিনিঝিনি কম্পন।

সিঙ্গাপুরের স্মৃতিচারণে বাঁক খেলেন রফিক সাহেব। একেইতো সিঙ্গাপুর ডিং ডিং শপিং মলে দেখেছেন। নেশার ঘোরে কাঙ্খিত ভাবনা তাকে কাঁপিয়ে তুলল। মেয়েটির কাছ থেকে এটা ওটা কিনে একটু ভাব জমাতে চাইলেন। মেয়েটি মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে অন্য কাস্টমার ধরল। অতৃপ্তির নেশা তাকে পেয়ে বসল গভীর আলিঙ্গনে। টিনের চালের অঝোর ধারার বৃষ্টির ছন্দে সমর্পিত এক নারী দেহের কলা-কসরতে রাত কাটে। বেলা ১১টায় রাতের বকেয়া ঘুমের কাতরতায় ধড়পড়িয়ে ওঠেন। কালু দরজা ধাক্কা-ধাক্কি করছে আর স্যার স্যার বলে চেঁচাচ্ছে। দরজা খুলতেই দেখেন কালুকে। চোখ মুখে আতঙ্ক লেপে বলে, স্যার ব্রেকিং নিউজ, ব্রেকিং নিউজ। মাথামুণ্ড কিছুই রফিক সাহেবের তাৎক্ষণিক স্মৃতিশূন্য মস্তিষ্কের তরঙ্গে ধরা পড়ছে না। কালু ছুটে গিয়ে টিভি অন করতেই শুনতে পায় প্রতিবেদকের উত্তেজিত কণ্ঠম্বর। লাইভ দেখানো হচ্ছে ফ্যালফন সিটি থেকে। একটি লাশ দেখিয়ে বলে, ছেলেটিই রাজন মেহদী। দু’দিন আগে তাকে অপহরণ করা হয়। রফিক সাহেব চিৎকার করে বলেন, হারামজাদা কই নাই; চৌদ্দহাত মাটির তলে খাদাবি।
কালু তোতলাতে তোলাতে বলে, দিছিলামতো স্যার। সারা রাইতের বৃষ্টিতে খাদা অইয়া লাশ ভাসান দিছে।

হালারপোরা, তোরা খবর পাওনের আগে ওই হালারা খবর পাইল কামনে?
রফিক সাহেবের মোবাইল বেজে ওঠে। কালুকে ধরতে বলে তিনি টিভির দিকে তাকিয়ে থাকেন।
-স্যার আষাঢ়ি টিভি থেকে, আপনেরে চায়।
বন্ধকর হালার পো....। অহনই ব্যবস্থা নিতে অইবো। তৈয়ার হ...
আতর আলী দৌড়ে আসে, স্যার স্যার কেডায় জানি ভিডিওটা ইউটিউবে ছাইড়া দিছে।
রফিক সাহেব খোলা জানালা দিয়ে বাইরে তাকান। এক ঝলক বাতাস এসে ঠাস করে কাঠের জানালা বন্ধ করে দেয়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.