চট্টগ্রাম নগরজুড়ে মশার দাপট অসহায় সিটি করপোরেশন!

নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম ব্যুরো

শীতের তীব্রতা শেষ হওয়ার পরপরই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বেড়ে চলেছে মশার উৎপাত। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর দাবি করা হলেও মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে করপোরেশন। গত মঙ্গলবার খোদ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে মশক নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোশেনের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি বলা হচ্ছে, বর্তমানে মহানগরীতে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীকে মশকমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখা সবার নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া মশা-মাছির জন্মস্থান নালা-নর্দমা, মজা পুকুর, ডোবা-খাল, জলাশয়, খোপ-ঝাড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভর নয়, তাই নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। করপোরেশনের ওই আহ্বানে সপ্তাহে অন্তত একবার আধা লিটার পর্যন্ত কেরোসিন তেল সেপটিক ট্যাংকে ছিটানোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। এর ওপর শীতকালে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নালা-নর্দমায় পানির স্থিরতা বেড়ে যায়। ফলে মশার প্রজনন হারও অন্য সময়ের তুলনায় বাড়ে। চিকিৎসকদের মতে বৃষ্টিপাতের আগে স্বাভাবিক কারণেই মশার উপদ্রব বাড়ে ও এ সময় ম্যালেরিয়া ও চর্ম রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। মশার কামড়ে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও চর্ম রোগের প্রকোপ অত্যধিক হয়।
শীতের তীব্রতা কমার সাথে সাথে মশাগুলোও যেন আড়মোড়া ভেঙে নগরীতে দাপড়িয়ে বেড়ায়। সন্ধ্যা নামলেই বাসাবাড়িতে স্থির থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ুব্ধ নাগরিকেরা মশক নিধনে চসিক ব্যর্থ এমনো মন্তব্য করছেন। আবার কেউ কেউ করপোরেশন কর্তৃক ছিটানো ওষুধের কার্যকারতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তাদের বক্তব্য হলো করপোরেশন যদি নিয়মিতই ওষুধ ছিটিয়ে থাকে তাহলে মশার প্রজনন ঠেকানো যাচ্ছে না কেন? অবশ্য করপোরেশনের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েই নিজেদের ব্যর্থতার দায় অনেকটা স্বীকার করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সারা দেশে চিকনগুনিয়া জ্বরের বিস্তারের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের জুলাই মাসে মশক নিধনে দুই মাসের ক্রাস প্রোগ্রাম শুরু করেছিল চসিক। ওই কর্মসূচির পুরো সময়জুড়েই চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। ফলে পানি প্রবহমান থাকায় সে সময় মশার প্রজনন তেমন হয়নি। কিন্তু বৃষ্টির মওসুম শেষ হওয়ার পর নগরীতে মশার উৎপাতে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এ দিকে নগরীর বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে চিকিৎসকের চেম্বারে মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে বাজারে থাকা বিভিন্ন কয়েল ও স্প্রে ব্যবহারেও নিস্তার মিলছে না উল্লেখ করে নাগরিকেরা জানান, করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি আর্থিক ব্যয়ও বেড়েছে।
চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগে মশক নিয়ন্ত্রণে বর্ষা মওসুম ছাড়া বছরের অন্য দিনগুলোতে নালা-নর্দমায় ‘লাইট ডিজেল এবং লিমব্যাক’ (লাল তেল নামে পরিচিত) নামক মশার ডিম ধ্বংসকারী একটি তেল ছিটানোর ক্রাস প্রোগ্রাম নগরজুড়ে দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় বলে নাগরিকদের অভিযোগ।
তবে সিটি করপোরেশনের অপর একটি সূত্র ওষুধ ছিটানোর চেয়ে মশার প্রজনন ক্ষেত্র খাল ও নালা পরিচ্ছন্ন রাখাকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও যথাযথভাবে নালা-নর্দমা, ডোবা ও খাল পরিষ্কার না হওয়ায় কাক্সিত ফল মিলছে না বলে সূত্র জানায়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম চালু থাকার কথা বলা হলেও নগরজুড়ে মশার উৎপাত অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.