বুলেট ট্রেন
বুলেট ট্রেন

ঘণ্টায় ৪০০ কিমি বেগে ছুটবে ট্রেন!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

চীন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪শ’ কিলোমিটার গতির নতুন বুলেট ট্রেন তৈরি করছে। দেশটিতে দ্রুত গতির রেলওয়ে প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা এক শীর্ষ কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন। খবর সিনহুয়ার।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে চাইনিজ একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষক দিং রংজুন জানান, চীন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সর্বোচ ৬শ’ কিলোমিটার গতির চুম্বক গতির ট্রেন বানাতে গবেষণা করছে।

দিং বলেন, ট্রেনের সাথে টিভি সিগনালকে কিভাবে সংযুক্ত করা যায় বর্তমানে আমরা সেটার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে এ ধরণের ট্রেনে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি এবং চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

চীনে বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার গতির বুলেট ট্রেন চালু রয়েছে। ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বেইজিং ও সাংহাইয়ের মধ্যে ফুজিং বুলেট ট্রেন চালুর পর চীনে এ গতি যুক্ত হয়েছে।

 

শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার মেয়াদ বৃদ্ধি চীন কি স্বৈরতন্ত্রের পথে?

মাত্র দুই বাক্যের একটি ঘোষণার মাত্র তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার ঘোষণাটি ছিল, ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি দেশটির সংবিধান থেকে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পরপর দুই মেয়াদের বেশি থাকতে না পারা সংক্রান্ত ধারাটি বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে। গত শনিবার প্রস্তাবটির কথা প্রকাশ করা হয়েছে।’

মূলত এটি ছিল কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে প্রচারণা। কিন্তু চীনের এই একদলীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এমন লোকদের কাছে এই ঘোষণার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সুসান শির্কের মতে, ‘এটি একটি বোমা। নতুন সরকার এমন কোনো ঘোষণা দেবে বলে আমি আশা করিনি। ভেবেছিলাম তিনি এই গুজবটি বন্ধ করবেন।’

এই ‘তিনি’ হচ্ছেন চীনের ৬৪ বছর বয়সী বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবারের ওই ঘোষণার পর তিনি হয়তো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ও সর্ববৃহৎ সামরিক বাহিনীর দেশটিকে আগামী দশক এবং তারপরও নেতৃত্ব দেবেন।

বেইজিংয়ের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের প্রফেসর শি ইনহং বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে ভবিষ্যতে আরো অনেক দিন শির চিন্তা, পথ, নীতি ও একক নেতৃত্বেই অগ্রসর হবে চীন।’ আর চীনা রাজনীতিবিষয়ক সিনোসিজন নিউজ লেটারের প্রকাশক বিল বিশপ বলেন, এই পদক্ষেপের অর্থ হচ্ছে শি জিনপিংও ভ্লাদিমির পুতিনের মতো আরেক দীর্ঘ মেয়াদি নেতা হতে চলেছেন। তবে পার্থক্য হচ্ছে পুতিনের তুলনায় শি অনেক বেশি কার্যকর, শক্তিশালী এবং উচ্চাকাক্সক্ষী।

যুক্তরাষ্ট্রের বিল ক্লিনটন প্রশাসনের সময় শির্ক ছিলেন উপসহকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, ‘এর ফলে যা ঘটবে তা হলো, শি একজন শক্তিমান নেতা হিসেবে নিজেকে চীনের সর্বোচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমার বলতে দ্বিধা নেই যে, তিনি আজীবনের জন্য একনায়ক হতে চলেছেন।’ শি জিনপিং সরকারের প্রথম পাঁচ বছর শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের শেষ দিকে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর। প্রথম মেয়াদে ব্যাপক রাজনৈতিক ধড়পাকড় হয়েছিল চীনে। আর তাই শির ক্ষমতা স্থায়ী হওয়ার খবরে মানবাধিকারকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী ও বুদ্ধিজীবীরা উদ্বেগে আছেন।

১৯৮৯ সালে তিয়েনানমেন আন্দোলনের কর্মী ওয়ের কাইজি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। এর ফলাফল হবে ভয়াবহ।’ তিয়েনানমেন আন্দোলনের পর কাইজিকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। সূত্র : গার্ডিয়ান

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.