স্বামীর নির্যাতনের শিকার সহিদা

মো: তোফাজ্জল হোসেন, পঞ্চগড়

যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে স্বামীর অমানবিক নির্যাতনে দুই শিশুসন্তানসহ রংপুর থেকে সহিদা বর্তমানে পঞ্চগড়ে পিত্রালয়ে। প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার বোদা পৌরসভার ৮ নম্বর বøকের বাচ্চু মোহাম্মদের মেয়ে সহিদা বেগমের সাথে রংপুর শহরের তমিজউদ্দিনের ছেলে মকছেদুল মোমিনের ২০ জুলাই ২০০২ সালে ৩০ হাজার ২৫ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে তিন সন্তানের জন্ম হয়। মসলিমা (৮), স্বাধীন (৫) ও সাঈদ (১)। বিয়ের সময় দানস্বরূপ জামাতাকে এক লাখ টাকা দিয়েছেন বলে সহিদার বাবা জানান। তিন সন্তানের জননী হওয়ার পরও যৌতুকের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেয় স্বামী বলে জানান সহিদা বেগম। আবারো এক লাখ টাকা না দিলে নানাভাবে নির্যাতন নেমে আসছে। ফলে সহিদা কিছু দিন আগে বাবার বাড়ি চলে আসেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে যৌতুক দাবি করবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করে তার স্বামী গত ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে স্ত্রীকে রংপুরে নিয়ে যায়। এর পর আবারো শুরু হয় জুলুম-নির্যাতন। স্বামী মোমিনের বক্তব্য পরিষ্কার যৌতুক ছাড়া কোনো আপস হবে না বলে মন্তব্য করেন সহিদা বেগম। সহিদা বলেন, তাই বাধ্য হয়েই মসলিমাকে (৮) রেখে স্বাধীন ও সাঈদকে নিয়ে কোনোমতে পালিয়ে বাপের বাড়িতে চলে এসেছি। প্রতিকার চেয়ে আদালতে ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ সালে মামলা করেছি। মামলা নম্বর সিআর ৩০/১৮, বিজ্ঞ আমলী আদালত (৫), পঞ্চগড়। সহিদার অভিযোগ, আমার স্বামী আমার জাতীয় পরিচয়পত্রটিও আমাকে সাথে আনতে দেয়নি। জনৈক এক বিধবা মহিলার সাথে আমার স্বামীর অনৈতিক সম্পর্ক থাকায় আমিসহ আমার সন্তানদের প্রতি জুলুম-নির্যাতন বাড়ছে। স্বামীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য নারীবাদী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন সহিদা বেগম। অন্য দিকে মামলার ১ নম্বর আসামি মকছেদুল মোমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্ত্রীর মামলার সমন নোটিশ পেয়েছেন বলে জানান। একটু পরেই বলেন, আমি রংপুরের বাইরে আছি, সমন নোটিশ পাইনি। সহিদা বর্তমানে স্বাধীন সাঈদ এই দুই সন্তানসহ বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিলেও অন্য সন্তান মসলিমার জন্য চিন্তিত। বাবার বয়স প্রায় ৭৫ বছর হওয়ায় তার সংসারে বোঝা হয়ে থাকা তার পক্ষে খুবই কষ্টকর বলে জানান সাহিদা। সহিদার মামলার আইনজীবী মো: জাকির হোসেন জানান, সহিদার মামলাটি যৌক্তিক বলে আদালত গ্রহণ করেছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.