পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
নিউ ইয়র্কে এইচআরডিবির শহীদ সেনা দিবস পালন

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিহ্ন করতেই সেবাবাহিনীর কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে

ইমরান আনসারী, নিউ ইয়র্ক থেকে

বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে ভারতের আজ্ঞাবহ করতেই সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিকল্পতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব নিঃশেষ হতে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নিউইর্য়কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে ‘হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরডিবি) আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এইচআরডিবির সেক্রেটারি সিটি ইউনিভার্সি অফ নিউইয়র্ক এর অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে ও প্রফেসর জাহিদ বিন জামিরের পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন লে. কর্নেল মোস্তাফিজ, ক্যাপ্টেন (অব:) কামারুজ্জামান, স্কোয়াড্রন লিডার (অব:) খাজা মাঈনুদ্দিন, মেজর (অব:) মোহাম্মদ আলী, লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড: শওকত আলী, সিনিয়র সাংবাদিক মঈন উদ্দিন নাসের, বিশিষ্ট কলামিস্ট মিনাহ ফারাহ, বাংলাদেশী আমেরিকান প্রগ্রেসিভ ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর নূরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাতক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান, অ্যাটর্নি আব্দুল আজিজ, মাওলানা ভাষানী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আলী ইমাম প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ও রাতে পিলখানায় যে হত্যাযজ্ঞ আর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে তা মধ্যযুগীয় ববর্রতাকেও হার মানায়। নির্বিচারে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার পর লাশ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে খোদ ঘাতকরা। তাই আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে চলতে থাকে লাশ গুমের কাজ। পিলখানার ভেতর বিশেষ মেশিন দিয়ে লাশগুলো ধ্বংস করার ব্যর্থ চেষ্টা হয় করা। পিলখানা পরিণত হয় বধ্যভূমিতে। একই দিনে এত বেশি সংখ্যক জেনারেল হত্যাকান্ডের ঘটনা এটি পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম।

এসময় বক্তারা আরো বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশের জন্য অভিশপ্ত মাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ মাসে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এবং এই মাসেই খুন হয় অভিজিৎ। এই ফেব্রুয়ারি মাসেই ভাষার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছিল।

বক্তাদের কেউ কেউ বলেন, বিডিআরের সদর দফতরে সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা নিছক কোনো হত্যাকান্ড নয়। এটা অনেক সুপরিকল্পিত। ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এ ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস আর দেশকে মেধাশূন্য করতেই এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। পিলখানার মতো নৃশংস ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

উল্লেখ্য, এইচআরডিবির ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.