ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রথম পাতা

সাংবাদিকেরাও রেহাই পাননি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল পুলিশি নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি দায়িত্বরত সাংবাদিকেরাও। পুলিশের হাতে সেখানে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক লাঠিপেটা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ জার্নালের কিরণ শেখের অবস্থা গুরুতর। এ দিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।
সাংবাদিক পরিচয় দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিরণ শেখের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন পল্টন থানা পুলিশের একজন সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) ওবায়দুল। কিরণ শেখ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সেখানে গিয়েছিলেন। দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার কামরুল হাসানকে পুলিশ দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরও পুলিশ তাদের নির্যাতন ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছে। নির্যাতিত সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
কিরণ শেখ বলেন, ‘ঘোষিত বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে আসা মাত্রই বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমাকে চার দিক থেকে ঘিরে ফেলেন। এ সময় আমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি আমার অফিসের আইডি কার্ড প্রদর্শন করি। এরপর অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে আমাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। শার্ট ধরে টেনে মাটি থেকে তুলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তিনি আরো জানান, ‘আমাকে কেন মারধর করা হচ্ছে জানতে চাইলে আবারো গালে থাপ্পর মেরে বলে হয় একদম চুপ, কোনো কথা বলবি না।’
এই ঘটনার পর নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে কর্তব্যরত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এই ঘটনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা বলেন, ‘সরি, আমাদের কিছু করার নেই।’
জানতে চাইলে মতিঝিল জোনের এডিসি আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, যখন কোনো কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ মুভমেন্টে যায় সেখানে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে। মুভমেন্ট চলাকালে অপ্রত্যাশিত ঘটনা যতদূর সম্ভব আমরা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। তারপরও কিছু ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু আজকে কিরণ শেখ সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও যে ঘটনা ঘটেছে এটা অপ্রত্যাশিত। আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’
একই স্থানে লাঞ্ছিত হয়েছেন সমকালের স্টাফ রিপোর্টার কামরুল হাসান। পুলিশ তাকে ধরে বেশকিছু সময় আটকে রাখে। পুলিশ তাকে পাশের একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে কামরুলকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে পুলিশ। এক সময় তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। মোবাইল ফোনে ফেসবুক ঘাটাঘাটি করে পুলিশ। পরিচয়পত্র দেখানোর পরে পুলিশ ছবি তুলে রেখে বলে, ‘তোকে টার্গেট করে রেখেছি। ’
এই দুই সাংবাদিক ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য। ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে সংগঠনটি।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫