রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বইমেলা

আরাফাত শাহীন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করতেই বাপ্পি ভাইয়ের সাথে দেখা। কুশলাদি জিজ্ঞেস করার পর ফ্রি আছি কি না জানতে চাইলেন। আমি সানন্দে মাথা নাড়িয়ে জানালাম ফ্রি আছি।
‘তাহলে একবার বইমেলা থেকে ঘুরে এসো’ বাপ্পি ভাই বললেন।
আমি কিছুক্ষণ ঘাড় নেড়ে বললাম, ‘ঢাকা বইমেলা? সে তো যাওয়া এখন আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
‘আরে বোকা তোমাকে ঢাকা বইমেলায় যেতে কে বলেছে! ক্যাম্পাসে বইমেলা চলছে এটা জানো না’!
ভাইয়ের কথায় আমি যেন সংবিৎ ফিরে পেলাম। তাই তো ক্যাম্পাসে এখন বইমেলা চলছে! ব্যাপারটা আমার মাথায় একদমই ছিল না। বাপ্পী ভাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বইমেলার দিকে রওনা হলাম। হাজার হোক ক্যাম্পাসের বইমেলা। মিস করা কি ঠিক হবে!
প্রতি বছর ফেরুয়ারি মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনে সপ্তাহব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা হয়। আর এই মেলার আয়োজন করে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ‘স্বপ্ন’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বইমেলার আয়োজন যেন বাংলাদেশের একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি, আমাদের মতো দেশের জন্য এমন উদ্যোগ বেশি বেশি গ্রহণ করা জরুরি।
আমি যখন মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলাম সূর্য ততক্ষণে পশ্চিম আকাশে ডুব দেয়ার সব জোগাড়যন্ত্র সমাপ্ত করেছে। সন্ধ্যার নীলিমা তখনো পশ্চিম আকাশে লেপ্টে রয়েছে। আমার সাথে ছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পাঠচক্রের সমন্বয়কারী এবং ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক চলার সঙ্গী নাফিস অলি। সাথে কয়েকজন ছোট ভাইও ছিল। মেলা প্রাঙ্গণ বেশ সাজানো-গোছানো। চার দিকে লাইটিংয়ের মাধ্যমে বেশ জাঁকজমক গড়ে তোলা হয়েছে। আমার চোখ ততক্ষণে বাল্বের আলো থেকে সরে গিয়ে মেলার স্টলের ওপর গিয়ে পড়েছে। বইমেলায় তো আর আলোর ঝলকানি দেখতে আসিনি!
১৫টার মতো স্টল মেলায় বাহারি রকমের বই নিয়ে বসেছে। বাংলা একাডেমির মেলার সাথে এ মেলার তুলনা করলে চলবে না। ঢাকা বইমেলায় নামীদামি প্রকাশনী সদ্য প্রকাশিত বইয়ের ঝাঁপি নিয়ে হাজির হয়। এখানে অবশ্য সে সুযোগ একদমই নেই। তার পরও এ মেলা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণিত বইপ্রেমীর কাছে প্রাণের স্পন্দন। এখানের অসংখ্য শিক্ষার্থী সারা বছর মুখিয়ে থাকে কখন ক্যাম্পাসে বইমেলা শুরু হবে আর প্রিয় বইটি সংগ্রহ করতে পারপ্রণ। কারণটা কী জানেন? কারণ হলোÑ বাংলা একাডেমির বইমেলায় যাওয়ার সৌভাগ্য সবার হয় না। তবে যারা ঢাকায় যেতে পারবে না তারা কি মেলার আনন্দ ও উৎসব থেকে বঞ্চিত হবে! তাদের সুযোগ করে দিতেই বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বপ্ন’ নামক সংগঠনটির এ আন্তরিক প্রচেষ্টা।
আমরা সব স্টল ঘুরে ঘুরে দেখলাম। খুব বেশি ভিড় নেই। তবে একেবারে যে কেউ মেলায় আসেননি তেমন নয়। বেশ কয়েকজন ঘুরে ঘুরে বই দেখছেন। পছন্দসই বই হলে সেটি ব্যাগে পুরতে কেউ বিলম্ব করছেন না। মেলার এক কোণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ সাজানো হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেখানে নানা রকম সাংস্কৃতিক আয়োজন পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত এ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে কবিতা পাঠ থেকে শুরু করে নাচগানেরও ব্যবস্থা আছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.