বইমেলায় রোহিঙ্গা উপাখ্যান ‘নাফ তীরের কন্যা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যৎছড়ি হয়ে মিয়ানমারের তমব্রুতে অবৈধভাবে ঢুকে পড়েন সাংবাদিক হাসান আল জাভেদ। রোহিঙ্গা তাবু থেকে শাহপরীর দ্বীপ, নাফ নদী ঘুরে ঘুরে সংবাদ তৈরি করেছেন তিনি। তবে এবার সেই প্রতিবেদন নয়, এক রোহিঙ্গা কন্যার উপাখ্যান উঠে এসেছে তার লেখায়।

পাখির মতো মা-বাবা ও তিন ভাইবোনের নির্মম মৃত্যু দেখে কাঁটাতার ডিঙিয়ে বাংলাদেশে আসেন রোহিঙ্গা কন্যা। ভাবছিলেন হয়তো নিধু'র দেখা পাবেন। যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। কিন্তু হাজারো স্বজাতির ভীড়ে কে দেবে তার সন্ধান। নিধু কী আদৌ বেঁচে আছে?

ঘরের সামনে উঠান, রাস্তা-ঘাট, ডোবা-নালায় লাশের স্তুপ। প্রাণ বাঁচাতে ভয়ে ভয়ে বৃদ্ধকে কাঁধে, শিশুকে হাতে নিয়ে ঘণ্টাখানের পথ পাড়ি দিতে তিন/চারদিন দুর্গম অঞ্চল ঘুরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। পেটে ক্ষুধার যন্ত্রণা। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নিগৃহীত-নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের এসব ঘটনা পাঠকের সামনে তুলে ধরার অন্যতম কাজ করেছেন জাভেদ।

এর আগেও ভিন্ন পরিচয়ে রাখাইনের মংডু শহর ঘুরে এসে রোহিঙ্গাদের অবস্থা, ইয়াবাবাহী একটি ট্রলারের প্রতিবেদন প্রকাশ করেন জাভেদ। সহকর্মীদের ভাষায় ‘রোহিঙ্গা সাংবাদিক’ জাভেদ।

সেনাবাহিনীর বন্দুকের নল ও দোসর মগদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চোখের সামনে প্রিয়জনের সবল দেহ মাটির সাথে লুটে পড়া, কোলের শিশুকে পানিতে ছুড়ে হত্যা, সাজানো সংসারে অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ-নির্যাতনের সেই সব দু:সহ বর্ণনা আর এক রোহিঙ্গা তরুণীকে নিয়ে সুঁই-সুতোর মেলবন্ধনের একটি উপাখ্যানের নাম ‘নাফ তীরের কন্যা’।

এ বছরের অমর একুশে বইমেলার ৪৫২-৪৫৩ নম্বর স্টল 'দেশ পাবলিকেশন্স' এ পাওয়া যাচ্ছে বইটি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.