গত বুধবার মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাসিওতে বোম বিস্ফোরণে দু'জন নিহত হন
গত বুধবার মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাসিওতে বোম বিস্ফোরণে দু'জন নিহত হন

রাখাইনে ৩টি বোমা বিস্ফোরণ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতুইতে শনিবার ভোরে পৃথক স্থানে তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বোমা বিস্ফোরণের এসব স্থানের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তার বাসভবনও রয়েছে। পুলিশ একথা জানিয়েছে। খবর এএফপি’র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ‘কয়েকটি স্থানে তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে এবং অবিস্ফোরিত তিনটি বোমা উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্য আহত হলেও তার অবস্থা ততটা গুরুতর না।’ তিনি আরো জানান, এসব বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, স্থানীয় সময় রাত ৪টার দিকে রাজ্য সরকার সেক্রেটারির বাসভবন চত্ত্বর, একটি অফিস ও সমুদ্র সৈকত অভিমুখী একটি সড়কে এসব বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এই ঘটনার দুই দিন আগে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাসিওতে বোম বিস্ফোরণে দু'জন নিহত ও ২২ জন আহত হন।

 

মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ইইউর

রোহিঙ্গা নিপীড়নে দায়ী মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ। দুই কূটনীতিক এ খবর জানিয়েছেন।

যাদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, তাদের নামের একটি তালিকা করতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধানকে অনুরোধ জানানো হবে আগামী সপ্তাহে। মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি বা তাদের সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেয়া হলে তা হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোরতম পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এর আগে রোহিঙ্গা নিপীড়নে জড়িত মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।

একজন কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, অবিলম্বে সেই প্রস্তাব সামনে আনতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদোরকা মঘেরিনিকে বলবেন জোটের মন্ত্রীরা।
মিয়ানমারের ওপর নব্বইয়ের দশক থেকে আরোপিত ইইউর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কিভাবে আরো জোরদার করা যায়, তা খুঁজে দেখতে বলা হবে তাকে। আগামী সোমবার ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এ বিষয়ে একটি বিবৃতি আসতে পারে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর থেকে গ্রেফতার রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে ইইউর ওই বিবৃতিতে।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের অত্যাচার, নির্যাতনের ঘটনায় নতুন করে মিয়ানমার জেনারেলদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি বা তাদের সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেয়া হলে তা হবে মিয়ানমারের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোরতম পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অনেক আগেই মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।

নব্বইয়ের দশক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ। ওই নিষেধাজ্ঞা এখনো জারি রয়েছে। কিভাবে তা আরো জোরদার করা যায় সে বিষয়ে সোমবার মঘেরিনি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র দফতরকে আহ্বান জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
আগামী সোমবার ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের স্বাভাবিক বৈঠকের পর এ বিষয়ে একটি বিবৃতি আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। একই সাথে ওই বিবৃতিতেই মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর গ্রেফতার হওয়া রয়টার্সের দুই সাংবাদিকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে।

১০ রোহিঙ্গাকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রয়টার্সের একটি রিপোর্ট তৈরির জন্য কাজ করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। রাখাইনের স্থানীয় বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে গণকবরে মাটি চাপা দেয়।

কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের কোন কোন জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হতে পারে সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তবে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অভিযানের নেতৃত্ব দেয়ায় গত ডিসেম্বরে মিয়ানমারের মেজর জেনারেল মং মং সোয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে উল্লেখ করেছে জাতিসঙ্ঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতনের কারণে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.