উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন পুরোদমে চলবে : উ. কোরিয়া

নয়া দিগন্ত অনলাইন

উত্তর কোরিয়া ঘোষণা করেছে, দেশটি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা রডং সিনমুন এক নিবন্ধে একথা জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার যে বাসনা আমেরিকা পোষণ করে তাকে ‘বোকামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পত্রিকাটি লিখেছে, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইেড্রোজেন বোমা রয়েছে।

এ ছাড়া, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেয়ার জন্য পিয়ংইয়ং-এর সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি রয়েছে বলেও রডং সিনমুন জানিয়েছে।

কোরীয় উপদ্বীপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে আমেরিকা এবং ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে উত্তর কোরিয়া দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছে, যতদিন সেদেশের বিরুদ্ধে আমেরিকার উসকানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না হবে ততদিন এসব কর্মসূচি স্থগিত হবে না।

 

উ. কোরিয়ার ওপর আরো নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা

পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ওপর চাপ বাড়াতে উত্তর কোরিয়ার ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত জানাবে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল কনফারেন্সেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কথা বলতে পারেন। নতুন এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা। কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা তা জানাননি তিনি। বিস্তারিতও জানাননি।

দুই সপ্তাহ আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে জাপানের টোকিওতে দেয়া বক্তৃতায় ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও উত্তর কোরিয়ায় নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবারও ওয়াশিংটনে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল কনফারেন্সে পেন্স উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার বোন কিম ইয়ো জংকে ‘গ্রহের সবচেয়ে বর্বর ও নিপীড়ক শাসনব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্রীয় স্তম্ভ’ অ্যাখ্যা দেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিম ইয়ো জং-ও উপস্থিত ছিলেন। উত্তরের শীর্ষ নেতার এ ছোট বোনকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন, যা ম্লান করে দেয় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিও। শীতকালীন অলিম্পিকের সমাপনীতে অংশ নিতে ওয়াশিংটন এরই মধ্যে হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা ট্রাম্পকন্যা ইভাঙ্কার নাম ঘোষণা করেছে। ‘আমরা একটি খুনি স্বৈরতন্ত্রের সামনে দাঁড়ানো। যত দিন উত্তর কোরিয়া আমাদের, মিত্রদের হুমকি দেয়া বন্ধ না করবে অথবা যত দিন তারা তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ না করবে, তত দিন আমরা শক্ত হয়েই দাঁড়িয়ে থাকব।’

বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া ভাষণে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উত্তর কোরিয়ার ওপর কার্যকর প্রভাব রাখছে। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় করার মতো অর্থ পিয়ংইয়ংয়ের থাকছে না, মন্তব্য হ্যালির। ক্ষতি পোষাতে উত্তর কোরিয়া তাদের ভাবমর্যাদা উজ্জ্বলে শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে বলেও দাবি জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের এ রাষ্ট্রদূতের। তিনি বলেন, তাদের রাজস্বের উৎসগুলো মৃতপ্রায় হয়ে যাচ্ছে। পিয়ংচ্যাংয়ে চিয়ার লিডার পাঠানোর কারণ তাদের হতাশা, জাতীয় গর্ব নয়। -রয়টার্স

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.