রমনা পার্কে গতকাল মাধবীলতাকে বরণ করে তরুপল্লব : নয়া দিগন্ত
রমনা পার্কে গতকাল মাধবীলতাকে বরণ করে তরুপল্লব : নয়া দিগন্ত
তরুপল্লবের আয়োজন

রমনার বটমূলে মাধবীবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাছ চেনার আয়োজন করা হচ্ছে বহুদিন ধরে। প্রায় প্রতি মাসের একটি শুক্রবার তরুপল্লব নামের সংগঠনটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। নানান জাতের গাছ-গাছালিকে সব বয়সের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়াই এই আয়োজনের লক্ষ্য। এ সত্ত্বেও গতকাল অনেকে বললেন, তারা মাধবী লতা চেনেন না। কেউ বললেন মাধবী লতা কবির কবিতার নায়িকা। কেউ বললেন কোনো উপন্যাসের হতভাগা কোনো প্রেমিকার নাম। এ নামে আস্ত একটা গাছ যে আছে গতকাল রমনার বটমূলে আবারো তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো। আর এর পাশাপাশি আয়োজন করা হয় মাধবীবরণের।
গতকাল মাধবীলতাকে ঘিরে রমনা পার্কে হয়ে গেল ব্যতিক্রমী মাধবীবরণ আয়োজন। এতে প্রকৃতিপ্রেমীরা জানালেন কোকিলের কুহুতান যেমন বসন্তের আগমন বার্তা ছড়িয়ে দেয় তেমনি মাধবী ফুলের হাত ধরেই আসে ফাগুন। কবি রবীন্দ্রনাথ তার কথা-কবিতা-গানে মাধবীলতাকে অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত করলেও ফুলটি চেনেন না অনেকেই। আবার কেউ কেউ মধুমালতী বা মধুমঞ্জিরলতাকে মাধবী বলে ভুল করেন। তরুপল্লবের তৃতীয়তম এ আয়োজনে যোগ দেন অর্ধশতাধিক প্রকৃতিপ্রেমী। 
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা। তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন স্বাগত বক্তৃতা দেন। এ সময় আরো বক্তৃতা করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক হামিদুর রহমান, তরুপল্লবের কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম শফিক, সাহানা চৌধুরী, সাংবাদিক প্রভাষ আমিন, ফারুক মঈনুদ্দিন, আমিনুল ইসলাম, মফিজ ইমাম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বৃক্ষ বিশারদ দ্বিজেন শর্মার সহধর্মিণী দেবী শর্মা। উপস্থিত সবাই দ্বিজেন শর্মার স্মৃতিচারণ ও তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 
অনুষ্ঠানে কবিতা ও গান পরিবেশন করেন অধ্যাপক দেবাশিস বিশ্বাস, বিলু কবীর, মতিন রায়হান, বকুল আশরাফ, লায়লা আহমেদ ও মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক প্রমুখ। আয়োজনের শেষে ছিল বাসন্তী অ্যাপ্যায়ন। 
২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর রমনা পার্কে গাছ চেনানোর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তরুপল্লবের যাত্রা শুরু। তরুপল্লব এ পর্যন্ত ২৬টি গাছ চেনানোর অনুষ্ঠান, উদ্যান কর্মীদের নিয়ে কর্মশালা, বৃরোপণ ও প্রকৃতিবিষয়ক সাময়িকী প্রকৃতিপত্র প্রকাশসহ নানামুখী সমাজ সচেতনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.