কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

সাতাশ.

কাঁপা হাতে গলায় পরা সুতোটা ধরলাম।
আরো কাছে চলে এসেছে কুকুরগুলো।
সুতোয় বাঁধা দাঁতটা খুঁজে বেড়াল আমার আঙুল।
কোথায় ওটা? কোথায়?
গরগরানি বেড়েছে কুকুরগুলোর। যেকোনো মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
মরিয়া হয়ে দাঁতটা খুঁজতে লাগলাম। সুতোটাকে টানছি। টানছি।
কিন্তু দাঁতটা পেলাম না।

মাথা উঁচু করলাম। জোরে এক টান দিলাম সুতো ধরে।
অবশেষে পেলাম ওটা। আমার গায়ের নিচে চাপা পড়ে ছিল।
দুই আঙুলে টিপে ধরলাম।
কুকুরগুলো ঝাঁপিয়ে পড়তে এলো।
দাঁতটা উঁচু করে ধরলাম।
মাঝপথে যেন ধাক্কা খেয়ে থেমে গেল কুকুরগুলো। পাথরের মূর্তির মতো স্থির।
চিৎকার-চেঁচামেচি বন্ধ।
নীরবে তাকিয়ে রয়েছে দাঁতটার দিকে।
তারপর, হঠাৎ নড়ে উঠল। ভয়ার্ত কুঁই কুঁই শব্দ করে লেজ গুটিয়ে পিছিয়ে গেল। সরে গেল আমার কাছ থেকে। দৌড়ে পালাল। হারিয়ে গেল গাছপালার আড়ালে।
জোরে নিঃশ্বাস ছাড়লাম। বড় বাঁচা বেঁচেছি!
সত্যি চলে গেছে কুকুরগুলো? সত্যি? বিশ্বাসই হচ্ছে না আমার।
‘প্রচণ্ড ক্ষমতা এই দাঁতটার!’ হাতের তালুতে চেপে ধরলাম। ‘আমার জীবন বাঁচিয়েছে! এখন থেকে যতœ করে রাখতে হবে এটাকে!’
আবার শার্টের ভেতর ঢুকিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ালাম। খুলে যাওয়া জুতোটা তুলে নিয়ে পরলাম আবার। তারপর বাবাকে খুঁজতে চললাম।
(চলবে)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.