বিএসইসিতে চীনা কনসোর্টিয়ামের দেয়া দরপ্রস্তাব জমা দিলো ডিএসই

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২৫ শতাংশ শেয়ারের জন্য চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের দেয়া দরপ্রস্তাব অনুমোদনের পর তা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) জমা দিয়েছে ডিএসই কর্তপক্ষ। গতকাল সকালে ডিএসইর একটি প্রতিনিধিদল বিএসইসিতে এটি জমা দেয়। এর আগে সোমবার ডিএসইর পর্ষদ সভায় দুইটি দরপ্রস্তাবের মধ্যে এটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে অনুমোদন করা হয়। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার চীনাভিত্তিক সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম এবং ভারত ভিত্তিক ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, নাসডাক ও ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ নিয়ে গঠিত একটি গ্রুপের দেয়া দুইটি দরপ্রস্তাব উন্মোচন করা হয়। উভয় পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি পর্ষদ সভা আহ্বান করে ডিএসই।
ওই দিন পর্ষদ সভায় সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার পর ডিএসই পর্ষদ সর্বোচ্চ দর ও অন্যান্য সুবিধার প্রস্তাব দেয়া চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের দরপত্রকেই কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদন দেয়। পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল বিএসইসিতে প্রস্তাবটি জমা দেয়ার জন্য যায়। কিন্তু এর আগেই বিডিংয়ে হেরে যাওয়া ভারতীয় গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিরা ঢাকায় বিএসইসি দফতরে গিয়ে নতুন করে দরকষাকষি শুরু করে। বিএসইসি তখন ডিএসইর প্রস্তাব গ্রহণ না করে দুই দরদাতার প্রস্তাব নতুন করে পর্যালোচনার জন্য ডিএসইকে চাপ দেয়।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট সর্বপর্যায়ে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি) ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্বাচনে বিএসইসির বিরুদ্ধে অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিবৃতি প্রকাশ করে। পর দিন জাতীয় সংসদেও তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি আবার পর্ষদ সভা ডাকে ডিএসই। পর্ষদ সভায় আবারো দুই দরপত্র পর্যালোচনা করে চীনা কনসোর্টিয়ামের দরপ্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে ডিএসই পর্ষদ। আর পর্ষদের সিদ্ধান্তের আলোকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা কনসোর্টিয়ামকে বেছে নেয়ার পক্ষে যুক্তিসহ সিদ্ধান্তটি গতকাল সকালে প্রস্তাব আকারে তা বিএসইসিতে জমা দেয় ডিএসই।
দুই দরদাতার মধ্যে কেন এগিয়ে ছিল চীনা কনসোর্টিয়াম
সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামটি ডিএসইর পার্টনার হতে ২২ টাকা দরে ২৫ শতাংশ শেয়ার নিতে আবেদন করে। পাশাপাশি কনসোর্টিয়ামটি তিন কোটি ৭০ লাখ ডলারের, বাংলাদেশী টাকায় দাঁড়ায় প্রায় ৩০৮ কোটি টাকা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেয়ার প্রস্তাবও দেয় ডিএসইকে। অপর দিকে ভারতীয় কনসোর্টিয়ামটি শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা দরে ২৫ শতাংশ শেয়ার কেনার প্রস্তাব করে, যা চীনা কনসোর্টিয়ামের দরের চেয়ে প্রায় ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ কম। এ ছাড়া ভারতীয় দরদাতার পক্ষ থেকে কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব করা হয়নি।
দ্বিতীয়ত : চীনা কনসোর্টিয়াম কোনো ধরনের প্রস্থাননীতি ছাড়াই ডিএসই’র সাথে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রস্তাব করেছে। অপর দিকে ভারতীয় পক্ষ বিনিয়োপগের পাঁচ বছর পর ডিএসইর কেনা শেয়ার আইপিও’র মাধ্যমে বিক্রি করে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
তৃতীয়ত : চীনা দুই স্টক এক্সচেঞ্জ একটি কনসোর্টিয়াম গঠনের মাধ্যমে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনতে আগ্রহী। পক্ষান্তরে, ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ সরাসরি শেয়ার কেনার বদলে সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রস্তাব করেছে। সে হিসেবে ভারতীয় এ স্টক এক্সচেঞ্জ নিজে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হচ্ছে না। এ ছাড়া গ্রুপে থাকা নাসডাকও ডিএসইর কোনো শেয়ার কিনবে না। তাই এ পর্যায়ে অংশীদারিত্বে নাসডাকের উপস্থিতি ডিএসইর কোনো উপকারে আসছে না।
চতুর্থত : চীনা কনসোর্টিয়ামটি তাদের অভ্যন্তরীণ সব নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই অংশীদারিত্বের আবেদন করেছে। অন্য দিকে, ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এখনো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পায়নি।
পঞ্চমত : চীনা কনসোর্টিয়াম দুই স্টক এক্সচেঞ্জ নিয়ে গঠিত হলেও তারা ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী ডিএসইর পর্ষদে একজন পরিচালক চেয়েছে। পক্ষান্তরে, ভারতীয় পক্ষ ডিএসই পরিচালনা পর্ষদে দুইটি আসনের শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন সমর্থন করে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.