ঢাকা, বুধবার,১৯ জুন ২০১৯

শেষের পাতা

ভারতীয় সেনাপ্রধানের মন্তব্য

বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের নেপথ্যে পাকিস্তান ও চীন

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

দিল্লির সাথে চলমান ‘ছায়াযুদ্ধে’র অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ ‘পরিকল্পিতভাবে’ ভারতে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তার দাবি, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে অস্থির রাখতে চীনের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ওই এলাকার দিকে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তান। জেনারেল রাওয়াত গত বুধবার দিল্লিতে এক সেমিনারে এ কথা বলেন। এ দিকে সেনাপ্রধানের এ ধরণের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের মুসলিম নেতারা। খবর পিটিআই ও বিবিসির।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ টেনে জেনারেল রাওয়াত বলেন, ‘আমাদের পশ্চিমা প্রতিবেশীর (পাকিস্তান) কারণে পরিকল্পিতভাবে অবৈধ অভিবাসন চলছে। তারা সবসময় এই এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করবে এবং সেটা নিশ্চিত করতে চাইবে। বিভিন্ন মাত্রায় ছায়াযুদ্ধ চালাতে চায় তারা।’ এর পেছনে চীনের মদদ রয়েছে ইঙ্গিত করে রাওয়াত আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের (চীন) সমর্থন নিয়ে পশ্চিমা প্রতিবেশী এই ছায়াযুদ্ধের খেলাটা ভালোই খেলে। এ এলাকাকে অস্থির রাখতে চায় তারা। এভাবে অনুপ্রবেশ ঘটতেই থাকবে। এর সমাধান হলো সমস্যা শনাক্ত করা ও সামগ্রিকভাবে তা পর্যবেণ করা।’
আসামের একাধিক জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু রিপোর্টের উল্লেখ করে রাজ্যটিতে বদরুদ্দিন আজমলের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) প্রভাব বাড়ার কথা জানান বিপিন রাওয়াত। ভারতের বর্তমান মতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আসামে ১৯৮৪ সালে মাত্র দু’টি আসন পেয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এআইইউডিএফ বলে একটা দল আছে। খেয়াল করে দেখুন, বিজেপি বছরের পর বছর যে গতিতে বেড়েছে, ওরা আসামে তার চেয়েও দ্রুত বেড়েছে।’
প্রসঙ্গত, মুসলিম স্বার্থরার দাবি করে ২০০৫ সালে গঠিত হওয়া দলটি থেকে বর্তমানে তিনজন লোকসভা সদস্য ও ১৩ জন বিধায়ক রয়েছেন। আসামে মুসলিমেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, এমন জেলার সংখ্যা পাঁচ থেকে বেড়ে ৯টি হয়েছে। এ তথ্য উল্লেখ করে ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, ‘ওখানকার জনবিন্যাস এখন আর বদল করা সম্ভব বলে মনে করি না। পাঁচ থেকে বেড়ে আট বা ৯টি জেলায় এমন হলে সরকারে যে-ই থাকুক, বিপর্যয় কিন্তু ঘটেছে।’
ভারতীয় সেনাবাহিনী সচরাচর দেশের রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু ওই সেমিনারে সেনাপ্রধান যেভাবে দু’টি দলের নাম করে তাদের তুলনা করেছেন তা অনেককেই অবাক করেছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী অবশ্য এই বিতর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সেনা সূত্রগুলো বলার চেষ্টা করছে, জেনারেল রাওয়াতের মন্তব্যকে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাটা উচিত হবে না। তাদের বক্তব্য, সেনাপ্রধান উত্তর-পূর্ব ভারতে অনুপ্রবেশের বিপদ নিয়ে সতর্ক করে দিতে গিয়েই ওই কথা বলেছিলেন।
সেনাপ্রধানের মন্তব্যে মুসলিম নেতাদের ক্ষোভ
আসামে মৌলানা বদরুদ্দিন আজমলের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) উত্থান নিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধানের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির প্রধান ও লোকসভা সদস্য মৌলানা বদরুদ্দিন আজমল এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান ও তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদ থেকে নির্বাচিত লোকসভা সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তারা সেনাপ্রধানকে এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলের উত্থান নিয়ে মন্তব্য করা সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নয়।
বদরুদ্দিন আজমল সেনাপ্রধানের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টুইট করেছেন, শকিং! জেনারেল রাওয়াত তো রাজনৈতিক বিবৃতি দিচ্ছেন! তিনি আরো লিখেছেন, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপে ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল যদি বিজেপির চেয়ে বেশি ফুলে ফেঁপে ওঠে, তাতে সেনাপ্রধানের কিসের মাথাব্যথা? বড় দলগুলোর কুশাসনের জন্যই এআইইউডিএফ বা আম আদমি পার্টির মতো বিকল্প দলগুলোর উত্থান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আজমল।
অন্য দিকে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি টুইটারে লিখেছেন, রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তপে করা উচিত নয় সেনাপ্রধানের। সংবিধান ও গণতান্ত্রিকভাবে উত্থান ঘটতেই পারে রাজনৈতিক দলের। নির্বাচিত সরকারের অধীনেই সেনাবাহিনীকে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি গত বছর আসামে সরকার গঠন করে ‘অবৈধ’ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার শপথের কথা জানায় দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি একটি আদমশুমারি করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকার প্রথম খসড়া প্রকাশ করে আসাম রাজ্য সরকার। সেই তালিকায় যুগ যুগ ধরে আসামে বসবাসরত অনেক মুসলমানের সাথে অনেক হিন্দুর নামও বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে এ নিয়ে আসামে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকার আওতায় ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী’ হিসেবে চিহ্নিত করে অনেক মুসলিমকে বের করে দেয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে আসামের জনগণের মধ্যে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫