শনিবার থেকে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘জাটকা ধরে করবো না শেষ, বাঁচবে জেলে হাসবে দেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৮।

সাত দিনব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে আগামি ২ মার্চ পর্যন্ত।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের কালিরখিল মাঠে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধন করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মৎস্য ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এ তথ্য জানান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইছ উল আলম উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে মাছের মোট উৎপাদন হয়েছে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। মোট উৎপাদনের ১২ শতাংশই ইলিশ। বর্তমানে জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক শতাংশ। দেশের প্রায় ২৫ লাখ লোক ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও অন্যান্য কাজে জড়িত রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইলিশ স্বাদে, গন্ধে সবার সেরা। ফলে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রয়েছে ইলিশের চাহিদা। আবহমান কাল থেকে ইলিশ আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রাণীজ আমিষের যোগানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে, দিন দিন ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।

নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জাটকা আহরণ নিষিদ্ধের সময়ে তারা যাতে কষ্ট না করে সেজন্য নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জেলেদের মাঝে ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। একই সাথে এই সময়ে জেলের বিকল্প কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাটকা নিধন বন্ধে সম্মিলিত বিশেষ অভিযান চালানো অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ইলিশ সুরক্ষা আইনটি সঠিকভাবে সংশোধনের ফলে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারছে। ফলে মেঘনা হতে জাটকা আজ পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও সুরমায় বিস্তৃতি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির ১৫ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা এই ১০ জেলায় ৩৪১টি মোবাইল কোর্ট ও ৯৩৫টি সম্মিলিত বিশেষ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে এক হাজার চারশ’ ৪২টি বেহুন্দি জাল, ৩৪ লাখ চার হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং দুই হাজার ১০৫টি অনান্য জাল আটক করে ধ্বংস করা হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.