প্রশ্নফাঁস : ক্যামব্রিজের প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জন কারাগারে
প্রশ্নফাঁস : ক্যামব্রিজের প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জন কারাগারে

প্রশ্নফাঁস : ক্যামব্রিজের প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জন কারাগারে

আদালত প্রতিবেদক

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের জড়িত ক্যামব্রিজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তানভীর হোসেনসহ ৫ জনকে ১ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম তাদেরকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে ১ দিনের রিমান্ড শেষে তাদেরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন। আসামি পক্ষ থেকে জামিন চাওয়া হয়েীছল। ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবীব উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

যাদের কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে : প্রধান শিক্ষক তানভীর হোসেন, হাসানুর রহমান ওরফে রকি ভাই (২৯), মো. সজীব মিয়া (২৬), মো. এনামুল হক (২৭), মো. ইব্রাহিম (২১)। এদের মধ্যে মো. সজীব মিয়া ক্যামব্রিজ হাই স্কুলের অ্যাকাউন্টিং বিষয়ের শিক্ষক, মো. ইব্রাহিম এবং মো. এনামুল হক সৃজনশীল কোচিং সেন্টারের শিক্ষক।

১ দিনের রিমান্ড শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে যা উল্লেখ্য করেন : আসামিদেরকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামিরা প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত মর্মে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অন্যদেরকে গ্রেফতার করার জন্য এই আসামিদেরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। আসামিরা জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে। উল্লেখ্য যে গত সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে ভোরে প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে উত্তরখান ও গাজীপুর এলাকা থেকে ৪ শিক্ষকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

আসামিদের মধ্যে তানভীর হোসেন (২৯) উত্তরখানের ক্যামব্রিজ হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তানভীর ফাঁস হওয়া প্রশ্ন নিয়ে দ্রুত সমাধান করে দিতেন। তানভীর হোসেন ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন হাসানুর রহমান ওরফে রকি ভাই (২৯), মো. সজীব মিয়া (২৬), মো. এনামুল হক (২৭), মো. ইব্রাহিম (২১)।

এদের মধ্যে মো. সজীব মিয়া ক্যামব্রিজ হাই স্কুলের অ্যাকাউন্টিং বিষয়ের শিক্ষক, মো. ইব্রাহিম এবং মো. এনামুল হক সৃজনশীল কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। হাসানুর রহমান ওরফে রকি ভাই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার ফেসবুক আইডি ‘রকি ভাই’। প্রশ্নপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে তার বেশ খ্যাতি আছে। তিনি ফেসবুক গ্রুপের এডমিন। তিনি গত ৪ বছর ধরে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। গ্রেফতারকৃত হাসান পরীক্ষার শুরু হওয়ার ২ মাস আগে থেকেই ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ইমো’তে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার নম্বর আইডি দিয়ে প্রচারণা করতে শুরু করেন। প্রচারণায় উল্লেখ থাকে যে যারা প্রশ্ন পেতে চায় তারা ২০০০ টাকার বিনিময়ে তার গ্রুপের সদস্য হতে পারে।

পরীক্ষার দিন ভোরে হাসানুর রহমান ফাঁস হওয়া প্রশ্ন এসব শিক্ষকদের দিতেন এবং শিক্ষকরা খুব কম সময়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র সমাধান করে হাতে লেখা উত্তরপত্র সরবরাহ করতেন। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে আসামিরা। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইন শৃংখলা বাহিনী জানতে পারে, তারা ব্লাড ডোনেশন-১, ব্লাড ডোনেশন-২ এবং ব্লাড ডোনেশন-৩ নামে গ্রুপ খুলে যাতে কেউ একে প্রশ্নফাঁসের গ্রুপ মনে না করতে পারে। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল সেট ও ১টি ট্যাব উদ্ধার করা হয়ছিল। ট্যাবে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ভেতরে এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। আসামিরা অর্থ উপার্জনের কৌশল হিসেবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.