হতাশ চাহাল
হতাশ চাহাল

নায়ক থেকে এক মুহূর্তেই খলনায়ক!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার কার দখলে? আর সবচেয়ে খারাপ বোলিং ফিগারটা?

দুই প্রশ্নের উত্তর, যুজবেন্দ্র চাহাল।

হ্যাঁ, সেঞ্চুরিয়েন বুধবারের ম্যাচে ক্লাসেন ধামাকায় দ্বিতীয় কীর্তিটাও এখন চাহালের ঝুলিতে। গতকাল চাহাল চার ওভারে খরচ করলেন ৬৪ রান, ওভার প্রতি ১৬ রান!

এর আগে ভারতীয় কোনো বোলারের টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক খরচের সংখ্যা ছিল ৫৭ রান। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫৭ রান খরচ করেছিলেন যোগিন্দার শর্মা। সেই রেকর্ড টপকে গেলেন চাহাল।

 

ঠিক এক বছর আগে এই চাহালই ছিলেন নায়ক, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচে বেঙ্গালুরুর বাইশ গজে ভেল্কি দেখিয়েছিলেন হরিয়ানার এই বোলার। চার ওভারে সেদিন তুলে নিয়েছিলেন ছয় উইকেট। খরচ করেছিলেন মাত্র ২৫ রান।

চাহালের ভেল্কিতেই একের পর এক উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসে ব্রিটিশ ব্যাটসম্যানরা। সেই ম্যাচে চাহালের সেই স্পেলে ভর করে ভারত টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ২-১ ব্যবধানে। দিনটা ছিল ১ ফেব্রুয়ারি।

এক বছর পর ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, এই চাহালই প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে চার ওভারে খরচ করলেন ৬৪ রান। টি-টোয়েন্টিতে এটাই ভারতীয় কোনো বোলারের খরচ করা সর্বাধিক রান।

সেঞ্চুরিয়নের দ্বিতীয় টি-টোয়ন্টি ম্যাচে সাতটি ছক্কা হজম করত হয়েছে চাহালকে। এটাও একটা রেকর্ড। টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম কোনো ভারতীয় বোলার সাতটি ছক্কা হজম করলেন।

 

ক্লাসেন টর্নেডোতে ম্লান ধোনির ঝড়

মহেন্দ্র সিং ধোনির মঞ্চে নায়ক হয়ে উঠলেন আর এক উইকেটকিপার। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হেনরিক ক্লাসেন (৩০ বলে ৬৯, সাতটা ওভারবাউন্ডারি, তিনটে বাউন্ডারি)। পাল্টা আক্রমণ করার জন্য চার নম্বরে ক্লাসেনকে নামিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এক উইকেটকিপারের জবাব দিয়ে গেলেন আর এক উইকেটকিপার। ক্লাসেন সব চেয়ে বেশি নির্দয় ছিলেন যুজবেন্দ্র চহালের ওপর। ক্লাসেন আউট হওয়ার পরে দায়িত্ব নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক জে পি ডুমিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯ নম্বর ওভারে পর পর দু’টি ছয় মেরে ছ’ উইকেটে ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন ডুমিনি। ভারতের চার উইকেটে ১৮৮ রানের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮.৪ ওভারে করে ১৮৯-৪। ম্যাচ সেরা ক্লাসেন। সিরিজ এখন ১-১ অবস্থায়। সিরিজের নিষ্পত্তি হবে শনিবার, কেপ টাউনে।

বুধবারের এই ম্যাচে যশপ্রীত বুমরা খেলেননি ফিট না থাকায় তার জায়গায় নামা শার্দূল ঠাকুর খুব খারাপ বল করেননি ঠিকই, কিন্তু বুমরার অভাব মেটাতে পারেননি। তবে ভারত সব চেয়ে বড় ধাক্কা খায় মিডল ওভারে। যে লেগস্পিনার ওয়ান ডে-তে ভারতের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছিল, সেই চহাল কোনো রকম দাগ কাটতে পারেননি এ দিন। চার ওভারে চহাল দিলেন ৬৪ রান। যেখানেই ম্যাচটা বার করে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

ভারতীয় ইনিংসেও দাপট ছিল উইকেটকিপারের। অনেক দিন ধরেই ওয়ান ডে-তে পুরনো মেজাজে দেখা যায়নি তাকে। সেই ফিনিশার-কেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না দীর্ঘ দিন। যার ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, ধোনিকে কি পরের বছর বিশ্বকাপের নীল নকশায় রাখা উচিত?

বুধবার রাতে সেঞ্চুরিয়নে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেঅ, এতটা হয়তো বলা যাবে না। কিন্তু এটা ভালো করে বোঝা গেল, ধোনি এখনো ফুরিয়ে যাননি। প্রয়োজনের সময় এখনও তার ব্যাট ভরসা দিতে পারে ভারতকে। একটা সময় যখন মনে হচ্ছিল, ভারত হয়তো ১৬৫-১৭০ রানের মধ্যে থেমে যাবে, তখনই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন ধোনি। করে গেলেন ২৮ বলে অপরাজিত ৫২। মারলেন চারটে চার, তিনটে ছয়। শেষ দু’ওভারে ধোনি নিলেন ২৮ রান। ইয়র্কার বা শর্ট—কোনো বলেই আটকানো যায়নি তাকে। শেষ ওভারে ডেন প্যাটারসনকে একস্ট্রা কভারের ওপর দিয়ে মারা ছয়ের মধ্যে দেখা গেছে ধোনির সেই পাশবিক শক্তি। ধোনি এবং মণীশ পাণ্ডের দাপটে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে তুলল ৪ উইকেটে ১৮৮। দু’জনের জুটিতে উঠল ৯৮ রান।

ধোনি যেমন শেষ দিকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন, তেমন মণীশ পাণ্ডে ভারতের স্কোরবোর্ড সচল রাখার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মিডল ওভারে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের সাবেক এই ব্যাটসম্যান (এ বার আইপিএলে খেলবেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে) প্রথম থেকেই সাবলীল ছিলেন। শর্ট বল পেলেই পুল করতে ছাড়েনি। তাঁর ৪৮ বলে অপরাজিত ৭৯ রানে রয়েছে ছ’টা চার, তিনটে ছয়। যার বেশির ভাগই এসেছে পুল শটে। এই ম্যাচে রান পাননি রোহিত শর্মা (০), শিখর ধবন (২৪), কোহালি (১)।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.