অবসাদ নিরাময়ে কার্যকর অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট
অবসাদ নিরাময়ে কার্যকর অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট

অবসাদ নিরাময়ে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট কতটা কার্যকরী?

বিবিসি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চিকিৎসাশাস্ত্রের অন্যতম একটি প্রধান বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন তারা। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, অবসাদ নিরাময়কারী (অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট) ওষুধ অবসন্নতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সোয়া এক লাখেরও বেশি মানুষের ওপর ৫২২টি পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাধারণ ওষুধের তুলনায় ২১টি প্রচলিত অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট তীব্র অবসাদ দূর করতে সক্ষম।

এ ধরনের ওষুধের দ্বারা আরো অনেক মানুষ উপকৃত হতে পারেন বলে স্বাস্থ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন 'ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত হওয়া এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়।

ইংল্যান্ডে ২০১৬ সালে এসব ওষুধের জন্য ছয় কোটি ৪৭ লাখ প্রেসক্রিপশন দেয়া হয়, যা ২০০৬ সালের তিন কোটি ১০ লাখ ব্যবস্থাপত্রের দ্বিগুণেরও বেশি।

রয়্যাল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টস বলেছে, এই গবেষণা "অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান" ঘটিয়েছে।

গবেষণায় ব্যবহৃত ৫২২টি পরীক্ষা ছাড়াও অপ্রকাশিত বেশকিছু পরীক্ষার তথ্য সংযুক্ত করা হয়, যা থেকে প্রমাণিত হয় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তীব্র অবসাদ দূর করতে অন্য যেকোনো চিকিৎসাপদ্ধতির চেয়ে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট বেশি কার্যকর।

গবেষণা দলের প্রধান ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আন্দ্রেয়া সিপ্রিয়ানি বিবিসি'কে বলেন, "অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট কাজ করে কি-না, তা নিয়ে লম্বা সময় ধরে চলা বিতর্কের চূড়ান্ত সমাধান এই গবেষণা। "

"সাধারণভাবে সুপারিশ করা অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট মাঝারি থেকে তীব্র অবসাদ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কাজ করে, আর আমি মনে করি এটি রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য খুবই ভাল খবর।"

কার্যকারিতার বিচারে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট :

সবচেয়ে বেশি কার্যকরী-

অ্যাগোমেলাটাইন

অ্যামিট্রিপটাইলাইন

এস্কিটালোপ্রাম

মির্টাযাপাইন

প্যারোক্সেটিন

সবচেয়ে কম কার্যকরী -

ফ্লুওক্সেটাইন

ফ্লুভোক্সামাইন

রেবোক্সেটাইন

ট্র্যাজোডোন

নির্ভরযোগ্য প্রমাণ :

গবেষকরা বলেছেন এই গবেষণায় আবিষ্কৃত তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা রোগীদের সঠিক ওষুধ দিতে পারবেন।

তবে তার অর্থ এই নয় যে সবারই ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে। এর কারণ এই গবেষণায় বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতে অবসাদের ধরন বিচার না করে ব্যক্তির ওপরে ওষুধের গড় প্রতিক্রিয়া বিচার করা হয়েছে।

গবেষকরা বলেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণের অধিকাংশ উপাত্তই আট সপ্তাহের চিকিৎসার ওপর ভিত্তি করে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে নেয়া হয়েছে। কাজেই দীর্ঘ সময় ধরে চলা অবসাদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নাও হতে পারে।

তারা আরও বলেছেন, অবসাদ নিরাময়ের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্টই প্রথম চিকিৎসা হওয়া উচিত - বিষয়টি এমন নাও হতে পারে।

ডা. সিপ্রিয়ানি বলেন, "যখন মানসিক চিকিৎসার মত কোন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ থাকে, তখন ওষুধ গ্রহণের বিষয়টি সবসময়ই এর পাশাপাশি বিবেচনায় নেয়া উচিত।"

রয়্যাল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টস-এর প্রফেসর কার্মাইন প্যারিয়ান্তে বলেন, "এই প্রাথমিক বিশ্লেষণে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট বিষয়ক প্রচলিত বিতর্কের অবসান হয়েছে। এই গবেষণায় পরিস্কারভাবে প্রমাণিত হয় এসব ওষুধ অবসাদ নিরাময় ও মনোভাব পরিবর্তনে সহায়ক।"

"ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কাছে থাকা অপ্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে এই গবেষণায়। কাজেই এই গবেষণায় উঠে আসা তথ্য ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো দ্বারা প্রভাবিত হবে না।"

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সাইকিয়াট্রিক এপিডেমোলজির প্রফেসর গ্লিন লেউইসের মতে এই গবেষণা অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্টের কার্যকারিতার স্বপক্ষে "নির্ভরযোগ্য প্রমাণ" উপস্থাপন করেছে।

তিনি আরো বলেন, "অ্যান্টি ডিপ্রেসান্ট মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে সমালোচিত হলেও এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে অবসাদগ্রস্ত মানুষের জন্য এটি কার্যকর।"

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.