মাশরাফির শেষ টি-২০ ম্যাচ, অধিনায়ককে জয় দিয়ে বিদায় জানিয়েছিল সতীর্থরা
মাশরাফির শেষ টি-২০ ম্যাচ, অধিনায়ককে জয় দিয়ে বিদায় জানিয়েছিল সতীর্থরা

কেন টি-২০তে ফিরবেন না মাশরাফি?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ঘরের মাঠে সদ্য শেষ হওয়া টি-২০ সিরিজে একজন যোগ্য নেতার অভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। সেটি অনুধাবন করেই তাকে টি-২০-তে আবারো ফিরে পেতে মরিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে ক্রিকেটের সংপ্তি ফরম্যাটে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির। ‘যেহেতু ছেড়ে দিয়েছি, তাই টি-২০ খেলার আসলেই আর কোনো ইচ্ছা নেই। এ ছাড়া উঠতি তরুণদের সুযোগ করে দেয়ার এটা খুব ভালো সময়। যদি খেয়াল করেন এখন আবু হায়দার রনি এবং আবু জায়েদ রাহি আসছে। ওদের জন্য বড় সুযোগ রয়েছে টি-২০ থেকে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া ও দলকে লম্বা সময় সার্ভিস দেয়ার। ছেড়ে দেয়ার এটিও একটি কারণ।’

আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, বিসিবির অনুরোধ রক্ষা করে যদি টি-২০-তে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেন মাশরাফি তাহলে নিজ দেশে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিশ্চই মনোকষ্টে ভুগবেন চন্দিকা হাতুরা সিংহে। ওই ভেনুতেই ক্যারিয়ারের শেষ টি-২০ খেলেছেন ম্যাশ। সেই ভেনুতেই মাশরাফি ফিরলে বিব্রতকর পরিস্থিতি হতে পারে হাতুরার জন্য। এই কোচের জন্যই যে মাশরাফি অভিমানে ছেড়েছেন টি-২০। ওয়ানডেতে টানা সাফল্য এনে দেয়ার পর টি-২০ দলকেও যখন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মাশরাফিকে এ ফরম্যাট থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়তে বলেন হাতুরা। কোচের এ উদ্ভট, অন্যায্য ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত বিস্ময়করভাবে মুখ বুজে মেনে নিয়েছিলেন নাজমুল হাসান পাপন, খালেদ মাহমুদ সুজনের বিসিবি। এক বছর যেতে না যেতেই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে বিসিবি। মাশরাফির ফেরা মানে হাতুরার নৈতিক পরাজয়।

মানুষ হিসেবে মাশরাফি স্পষ্টবাদী। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। নিশ্চয়ই গত বছরের সেই নিগ্রহের কথা তিনি ভুলে যাননি। পাপনের অনুরোধের সাথে অদৃশ্য একটা চাপও থাকবে মাশরাফির ওপর। সেই চাপ উপেক্ষা করা সহজ নয়। মাশরাফির পরিবর্তে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। তবে চোটের কারণে লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজে ছিলেন না সাকিবও। যোগ্য অধিনায়কত্ব আর পরিকল্পনার অভাবে লঙ্কানদের কাছে বাজেভাবে আত্মসমর্পণ করে টাইগাররা। তাই দলের এমন দলের বিপর্যয় দেখে বিসিবি মাশরাফিকে আবারো টি-২০ ফরম্যাটে ফিরিয়ে আসার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

মাশরাফি বিন মতুজা জাতীয় দলের হয়ে ৫৪টি টি-২০ ম্যাচ খেলেন। যার মধ্যে ৮.০৪ রানের ইকোনমিতে উইকেট নেন ৪২টি। আর তার অধিনায়কত্বে ২৮টি টি-২০ খেলে টাইগাররা। যার মধ্যে ১০টিতে জয় পায় বাংলাদেশ। আর হারে ১৭টিতে। বাকি একটি ম্যাচ ড্র হয়।

 

ভাষা শহীদদের প্রতি টাইগারদের শ্রদ্ধা

বাঙালির মাতৃভাষা রায় আত্মত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল দিন ২১ ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে মায়ের ভাষার সম্মান রা ও রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা তথা রক্তচুকে পাত্তা না দিয়ে বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে প্রাণ দিয়েছেন সালাম-জাব্বার-রফিক-শফিউলরা। জাতি আজ সেই অমর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। ব্যতিক্রম ছিল না বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাষা আন্দোলনের সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন টাইগার মাশরাফি বিন মুর্তজা-মুশফিকুর রহিম-সাকিব আল হাসানসহ অনেকেই।

বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি লিখেছেন, ‘সকল ভাষাসৈনিকদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।’ বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-২০ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান লিখেছেন, ‘বাংলা, আমাদের মাতৃভাষা, আমাদের গর্ব, আমাদের অস্তিত্বের এক অপরিহার্য অংশ। ভাষাসৈনিকদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই ভাষাই বাঙালি জাতিকে সামনে ছুটে চলার প্রেরণা জোগায়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলে বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই সকল ভাষা শহীদদের।’

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন। এই দিনে আমরা আমাদের প্রিয় ভাষা বাংলাকে আমাদের মাতৃভাষা হিসেবে অর্জন করতে পেরেছি। আর এই বিশাল অর্জনের পেছনে ছিল বাঙালির প্রাণ বিসর্জন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সেই মহান ভাষাসৈনিকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’

ওপেনার তামিম ইকবাল লিখেছেন, ‘জীবন দিয়ে যারা বাংলাকে আমাদের মাতৃভাষা রূপে এনে দিয়েছেন সেসব মহান ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।’ ওপেনার সৌম্য সরকার লিখেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য ব্যথার যে আমরা আমাদেও শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারিয়েছি; কিন্তু এটাই আমাদের জন্য গর্বের এবং আনন্দেও যে আমরা আমাদের নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার অর্জন করেছি। আমরা অভিবাদন জানাই সেই সব শহীদের প্রতি যারা বাংলা ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।’ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি!’ পেসার তাসকিন লিখেছেন, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি!’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.