বইমেলায় সজল ভাইয়ের বউ কেলেঙ্কারি

সুদিপ্ত কুমার নাগ

সজল ভাই আমাদের ভাই মহলের মধ্যে অন্যতম বিজ্ঞ ব্যক্তি। সে বিভিন্ন জনের নানারকম সমস্যার সমাধান করে দেন মাত্র দুই মিনিটে। কিন্তু সজল ভাই তার নিজের সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারেন না। তার সব থেকে বড় সমস্যা হলো, বউকে খুব ভয় পাওয়া। সে রয়েল বেঙ্গল টাইগারকেও এতটা ভয় পায় না, যতটা ভয় তার বউকে দেখে তিনি পান।
সেদিন আমাদের সবার সাথে সজল ভাইও বইমেলায় গেলেন। তিনি আমাদের সবাইকে খরচ দিয়ে বইমেলায় নিয়ে গেলেন; কিন্তু শর্ত হলো কোনো অবস্থাতেই ভাবীকে বলা যাবে না যে, সজল ভাই বইমেলায় এসেছে। আমরা বন্ধুরা কেউ ভাবীকে জানালাম না। মেলায় অনেকণ ঘোরাঘুরির পর আমাদের সবার খুব ক্ষিধা লাগল। সজল ভাই মেলার পাশেই আমাদেরকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে বসল। আমরা যে টেবিলে খেতে বসলাম ঠিক তার বিপরীত টেবিলে সজল ভাইয়ের স্ত্রী খেতে বসেছিল। তারপর সজল ভাই ধরা পড়ে গেল। রেস্টুরেন্টের মধ্যেই সজল ভাইকে ভাবী উত্তম-মধ্যম দিতে লাগল। এরপরের কাহিনী আর নাই বললাম।
এর পরে আরেক দিন সজল ভাই চুপ করে বইমেলায় গেলেন। সব স্টলে গিয়ে ‘বউ বশে আনার উপায়’ বা ‘বউ পটানোর উপায়’ টাইপের বই খুঁজতে লাগলেন। কিন্তু এরকম কোনো বই তিনি পেলেন না। সে আমাদেরকে বলল, মেলায় এত লেখকের এত বই বের হচ্ছে। কিন্তু একটা বইও কাজের না। সামান্য ‘বউ পটানোর উপায়’ টাইপের বই এতদিনে কেউ লেখেনি। এটা কোনো কথা? আমি বললাম, ভাই, আপনি এ বিষয়ে নিজেই বই লিখে ফেলেন। আপনি এরকম বই লিখলে প্রকাশকেরা আপনার বই প্রকাশের জন্য একপায়ে খাড়া থাকবে।
আমার কথামতো সজল ভাই,বাসায় যেয়ে ‘বউ পটানোর উপায়’ বই লেখা শুরু করল। কিন্তু এবারো ভাবী দেখে ফেলল যে, সজল ভাই চুপ করে ‘বউ পটানোর উপায়’ নামক বই লিখছে।
এরপরে সজল ভাই ভাবীর কাছে এমন উত্তম-মধ্যম খেলেন যে, সেই ঘটনার কথা চিন্তা করলে আমারও ভয় লাগে। তারপরে যতদূর জানি, সজল ভাই এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর হাসপাতালে বসে তিনি নাকি আবারো ‘বউ ভয়ঙ্কর’ নামক একটা উপন্যাস লিখছেন।
এরপরে ভাবী জানতে পারলে কী হবে, সেটা আর নাই বা বললাম!

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.