নববধুর সংসার ভাঙছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
নববধুর সংসার ভাঙছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

নববধুর সংসার ভাঙছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

শরীয়তপুর সংবাদদাতা

জাজিরায় এক নববধুর কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। মেয়েটি কলেজে পড়াকালিন সময়ে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোবাইল ক্যামেরায় আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারন করে তা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ফলে ঐ নববধুর সংসার ভাঙতে শুরু করেছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আশরাফুল ইসলাম ওরফে মিঠুন মাদবর জাজিরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক। তার বাড়ি একই উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের খোড়াতলা গ্রামে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। এ দিকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে জাজিরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদককে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গৃহবধুর পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ঐ গৃহবধু স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে এস এসসি পাস করে। এর পর ২০১৫ সালে ঢাকার একটি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এসসি পাস করে। মিঠুন দুই বছর আগে প্রথমে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারিরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। গত ২৫ নভেম্বর ঐ মেয়েটিকে মাদারীপুরের সিবচর পৌরসভা এলাকায় এক ছেলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। ২২ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়ে নেয়ার দিন ধার্য করা হয়।

২৬ নভেম্বর মেয়ের শশুর বাড়ির পক্ষ থেকে বরসহ ১০/১২ জন মেয়েটির বাড়িতে বেড়াতে যান। ২৭ নভেম্বর বর এবং তার বোন জামাই বাড়ি ফেরার সময় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মিঠুন আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তাঁর হাতে তুলে দেন। এ ঘটনার তিন দিন পরে মিঠুন ও তার পরিবারের লোকজন স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে মেয়েটির পরিবারের কাছে ক্ষমা চায়। এর পর বরের পক্ষ থেকে জাজিরার জয়নগরের স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন লোকের কাছে মিঠুনের কাছ থেকে নেয়া মেয়েটির আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে বিচার দাবী করে। এতে মেয়েটির পরিবার আরো ভেঙ্গে পড়েন।

এ ঘটনার পর মেয়ের বাবা সিবচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি জানান। ঘটনার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও বরের পক্ষ থেকে মেয়েটির পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জয়নগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নামে ফেসবুকের একটি আইডি থেকে ওই গৃহবধুর আপত্তিকর ছবি ও একটি ভিডিও দিয়ে একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের মেয়ের কাণ্ড লিখে ছড়ানো হয়। এরপর আরো অর্ধশত ফেসবুক আইডি থেকে তা ছড়ানো হয়। অথচ ওই ভিডিও স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যানের মেয়ের না। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ফলে নববধু এই মেয়েটির দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়ে সংসার ভাঙার উপক্রম হয়ে দাড়িয়েছে।

স্থানীয় লোকজন আরো জানান, এর আগে মিঠুন একাধিক মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করেছে বলে  অনেকেই জানিয়েছেন এবং এ ধরনের অপরাধের অভিযোগের একটি মামলায় মিঠুন জেল হাজত বাস খেটেছে। এখনো সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বুধবার মিঠুনের বাড়িতে গিয়ে তাকে এবং তার পরিবারের কাউকেই পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি জাজিরা থানা পুলিশ জানার পর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিঠুনকে আটক করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও কোথাও তাকে খুঁজে পায়নি। সে পলাতক রয়েছে। গৃহবধুর স্বামীর সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে সে কিছু বলতে রাজি হয়নি। তিনি বলেন, আপনাদেরকে চিনি না। আমাদের বাড়ি আসলে সামনা-সামনি কথা হবে।

এ ব্যাপারে গৃহবধূর বাবা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার মেয়েকে অনেকদিন আগেই পার্শ্ববতী উপজেলায় বিয়ে দেয়ার পর মিঠুন আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। আমার সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। আমি এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিব।

জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোঃ এনামূল হক মুন্সি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মিঠুনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি জাজিরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হককে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিবে। সত্যতা পাওয়া গেলে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এনামুল হক বলেন, আমরা আপনাদের ও মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরে এলাকায় গিয়ে মিঠুন ও তার পরিবারের কাউকেই পাইনি। মিঠুন পলাতক রয়েছে। মিঠুনের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রায় একই ধরনের অভিযোগে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। গৃহবধুর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা তাৎক্ষণিক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.