প্রিয়া প্রকাশের চাহনির দৃশ্যটি নকল!
প্রিয়া প্রকাশের চাহনির দৃশ্যটি নকল!

প্রিয়া প্রকাশের চাহনির দৃশ্যটি নকল!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

আঁখির কটাক্ষে দুনিয়া ঘায়েল। বিদ্ধ পুরুষ-সাম্রাজ্য। রাতারাতি নেটদুনিয়ার সেনসেশন প্রিয়া প্রকাশ ভারিয়ের। কিন্তু চোখে চোখে কথা বলার এ দৃশ্য একা প্রিয়ার নয়। অন্য কোনো অভিনেত্রীও একই দৃশ্যে মন মজিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক তথ্য অন্তত তেমনটাই বলছে। প্রিয়ার জায়গায় হয়তো পুরুষ হৃদয়ে স্থান পাওয়ার কথা ছিল অন্য কোনো তণ্বীর। কিন্তু প্রিয়া আগে এসে বাজিমাত করেছেন। অভিযোগ অন্তত তেমনটাই।

‘মানকিয়া মালারাই পুভি’- এমনিতে অপরিচিত গান নয়। ‘ওরু আদার লাভ’ ছবিতে সেটিকে নতুনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। গানের কথা নিয়ে যখন ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ উঠেছিল, তখন পরিচালক ওমর লুলু জানিয়েওছিলেন যে, গানটি তো বহুদিনের। তাহলে এখন আঘাতের প্রসঙ্গ আসছে কোথা থেকে? এই গানটিতেই একটা মিষ্টি প্রেমের দৃশ্য তৈরি করেছিলেন পরিচালক। যেখানে ছিলেন প্রিয়া প্রকাশ ভারিয়ের। তার চাহনি, চোখ মারা আর বুলেট চুম্বনে কাত পুরুষ সাম্রাজ্যের আধিপত্য। একটি বাচ্চা মেয়ের সরল প্রেমের প্রকাশের কাছে বাকি সবকিছু ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। বহু বোল্ড, সেক্স, জিম, ওয়ার্কআউট করা নায়িকা যা করতে পারেন না, প্রিয় মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই সেই দর্শকহৃদয়ে প্রত্যাশিত আবেদনটুকু জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন। উল্লেখ্য, এ ছবির নায়িকাও তিনি নন। তাতেই হিল্লোল।

কিন্তু এই দৃশ্যের নেপথ্যে থেকে যাচ্ছে আর এক দৃশ্য। যে ছবির নাম, ‘কিদু’। সে ছবির একটি দৃশ্য সম্প্রতি সামনে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, প্রিয়ার গানের পিকচারাইজেশনের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিল। একটু ফারাক অবশ্যই আছে। এখন এই গানটি সামনে আসামাত্র নেটিজেনরা বলতে শুরু করেছেন এটি প্রিয়ার গানের নকল। সেখানেই আপত্তি ছবির পরিচালক মাজেদ আবু। তিনি জানাচ্ছেন, দুটি গানের পিকচারাইজেশনে যে অদ্ভুত মিল, তা নিয়ে তাঁর কিছু বলার নেই। কিন্তু তার গানটি নকল নয়। বরং প্রিয়ার গানের আগে তাঁর ছবির গানটিরই শুট হয়েছিল।

প্রমাণস্বরূপ, নিজের এডিটরকে সামনে এনেছেন তিনি। ‘ওরু আদার লাভ’ ও ‘কিদু’ ছবির সম্পাদনা করেছেন একজনই। মাজেদ জানাচ্ছেন, তাঁর ছবির সম্পাদনার কাজ শেষ হওয়ার পর, তবেই অন্য ছবিটিতে হাত দিয়েছেন সম্পাদক। তাহলে তাঁর ছবির গান বা পিকচারাইজেশন নকল হল কী করে? আপাতত এ নিয়ে নেটদুনিয়ায় বিস্তর তর্ক। তবে প্রিয়া নেটদুনিয়ায় যে উচ্চতায় পৌঁছে গেছে, তাকে আর কেউ ছুঁতে পারবে বলে মনে হয় না। বুধবার সুপ্রিম কোর্টও প্রিয়ার পাশেই দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
গোটা ভারত তার চোখের চাহনিতে ঘায়েল হয়েছে। তার মিষ্টি হাসিতে এখনো মগ্ন আট থেকে আশি। এবার সেই প্রিয়া প্রকাশ ভারিয়েরের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালতের প্রথম বিচারপতি দীপক মিশ্রর বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিল, প্রিয়ার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি এও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মুসলিম ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনও এফআইআর দায়ের করা যাবে না।

ইন্টারনেটে সেনসেশন তৈরি করা প্রিয়া প্রকাশ ভারিয়েরের ভাইরাল হওয়া গানটি নিয়ে বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছিল ছবির গোটা ইউনিটকে। মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে প্রিয়া প্রকাশের গান। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছবির পরিচালক ওমর লুলুকে নোটিশ পাঠিয়েছিল পুলিশ। হায়দরাবাদের ফলকনুমা পুলিশের তরফে পাঠানো হয় নোটিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬০ ধারায় ফৌজদারি মামালা রুজু হয় লুলুর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯৫ ধারার আওতায় আরও একটি মামালা রুজু হয় তার বিরুদ্ধে। ওমর লুলুর ‘ওরু আদার লাভ’ ছবিতেই অভিনয় করছেন প্রিয়া।

সেখানেই রয়েছে ‘মানকিয়া মালারাই পুভি’ গানটি। যে গানের একটি দৃশ্যে চোখের ইশারায় গোটা দুনিয়াকে পাগল করেছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী প্রিয়া। এরপরই গত সোমবার সু্প্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠা প্রিয়া। তার ও তার ছবি ‘ওরু আদার লাভ’-এর নির্মাতাদের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলায় স্থগিতাদেশের আবেদন জানান প্রিয়ার আইনজীবী। বুধবার সেই পরিপ্রেক্ষিতেই প্রিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে এই নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।

প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি সিনেমার দৃশ্যে তিনি অভিনয় করেছেন মাত্র। তাই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি সব রাজ্যগুলিকেই জানিয়ে দেওয়া হয়, পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত প্রিয়ার বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা যাবে না। বলাইবাহুল্য সুপ্রিম নির্দেশে ছবি মুক্তির আগে অনেকটাই স্বস্তিতে প্রিয়া ও পরিচালক ওমর লুলু।


 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.