গোল করলেন কে : মেসি না তার স্ত্রী?
গোল করলেন কে : মেসি না তার স্ত্রী?

গোল করলেন কে : মেসি না তার স্ত্রী?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

খেলাধূলার জগতে সংস্কারাচ্ছন্নতার নজির নতুন নয়৷ সাফল্যের তাগিদে অথবা ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার আশায়, কিংবা ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ক্রীড়াবিদরা প্রায়শই টুকিটাকি তুকতাক, কিংবা বিশেষ কোনো আচরণ করে থাকে৷

চেলসির বিরুদ্ধে লিওনেল মেসির গোল খরার কথা এতদিনে সবার জানা৷ অবশেষে সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছন লিও টেন৷ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগের প্রি-কোয়ার্টারে মেসির গোলেই ম্যাচ ড্র করেছে বার্সেলোনা৷ দীর্ঘ ৭৩১ মিনিট পর দ্য ব্লুজ-দের বিরুদ্ধে মেসির গোল পাওয়ার পিছনে রয়ে গেছে এমনই এক সংস্কার বা তুকতাকের গল্প৷ অন্যভাবে বললে বলা যায় যে মেসির এই গোলের পিছনে অবদান রয়েছে তার পরিবার ও দেশের৷

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় সব দলের বিরুদ্ধেই আধিপত্য দেখিয়েছেন মেসি৷ একমাত্র চেলসিই তাকে আটকে রাখে দীর্ঘ ন’টি ম্যাচ৷ তাই কোন্তের দলের বিরুদ্ধে গোল পেতে এতটাই মরিয়া ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা, যে পরিবারকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে নামা মনস্থির করেন৷ মাঠের লড়াইয়ে নিজের মধ্যে বাড়তি উদ্যম আমদানি করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেন এলএম টেন৷ তবে মেসির সঙ্গে সশরীরে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে হাজির হননি তার পরিবারের সদস্যরা৷ বরং তাদেঁর নামাঙ্কিত কিটস পরেই খেলতে নেমেছিলেন মেসি৷

লিও বিশেষ ডিজাইনের বুট পরে খেলতে নামেন চেলসির বিরুদ্ধে৷ তার বাঁ-পায়ের বুটে স্ত্রী অ্যান্তোনেলার নাম লেখা ছিল৷ ডান পায়ে ছেলে থিয়াগোর নাম ও জন্ম তারিখ৷ সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনার পতাকাও আঁকা ছিল বুটে৷ জানা গেছে যে কণিষ্ঠ সন্তান মাতেওয়ের নামও লেখা ছিল মেসির কিটসে৷

উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, পরিবারের শুভেচ্ছা সঙ্গে নিজে শেষমেশ বাজিমাৎ করেন এলএম টেন৷ স্ত্রী-পুত্রের নামাঙ্কিত বুটেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল৷ বরং বলা ভাল স্ত্রী অ্যান্তোনেলাই সাফল্য এনে দেন মেসিকে৷ মেসি ৭৫ মিনিটে গোল করেন বাঁ-পায়ের শটে৷ তাই মেসি নন, চেলসি ম্যাচে অ্যান্তোনেলাই গোল করলেন বলা যায়৷

রোনালদোকে বিশেষ বার্তা মেসির
গত আট ম্যাচে চেলসির গোলপোস্টে নিজের পায়ের ম্যাজিক দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন লিওনেল মেসি। অবশেষে সেই আক্ষেপ মিটল। নাইনথ টাইম লাকি হয়ে এলএম টেন যে শুধু ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসই বাড়ালেন এমনটা নয়, ম্যাচ ড্র করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে পৌঁছনোর স্বপ্নও জিইয়ে রাখলেন।

সেয়ানে-সেয়ানে টক্করে স্ট্যাম্পফোর্ড ব্রিজে ঘরের দল খাতায় কলমে এগিয়ে থাকলেও মঙ্গলবারের গভীর রাতের ম্যাচে বিশেষজ্ঞরা বাজি ধরেছিলেন বার্সেলোনাকেই। তবে তাদের ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে কাতালান ক্লাবকে একপ্রকার লজ্জায় ফেলে দিয়েছিলেন উইলিয়ান। কিন্তু অ্যান্তোনিও কন্তের বিশ্বস্ত সৈনিক আন্দ্রে ক্রিসটেনসেনের ভুলেই সবটা মাটি হয়ে গেল। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলেও এক বালতি পানিতে এক ফোঁটা চোনা হয়ে রইলেন আন্দ্রে। যাকে ডিফেন্সের স্তম্ভ বলে মানেন খোদ চেলসি কোচ, সেই আন্দ্রের ভুলেই পাসের কারণেই দলকে সমতা ফিরিয়ে বার্সার ত্রাতা হয়ে উঠতে পারলেন মেসি। এই নিয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ৩৭টি দলের মধ্যে মোট ৩১টি দলের বিরুদ্ধে গোল করে নজির গড়লেন পাঁচটি ব্যালন ডি’অরের মালিক। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগে স্বস্তিতেই রইল ভালভার্দের দল।

এদিন প্রথম থেকেই বার্সেলোনাকে চাপে রেখেছিল চেলসি। দু’বার বল বারে লেগে ফিরে না এসে বড় ব্যবধানে জিততেই পারত দ্য ব্লুজ। তবে এদিন হয়তো ভাগ্যদেবী ছিলেন মেসির সহায়। আর তাই তাঁর একটা গোলই জমিয়ে দিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লড়াই। এদিন গোল করারই পর আকারে-ইঙ্গিতে রিয়াল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বার্তা দেন মেসি। তার দল যে এখনো লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি, সেটাই মনে করিয়ে দিতে চান তিনি।

ইতিমধ্যেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিস সাঁ জাঁ-র বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে সেরা ফর্মে রয়েছেন সিআর সেভেন। তাই চেলসির বিরুদ্ধে মেসির গোল নতুন করে অক্সিজেন জোগালো কাতালান ক্লাবকে। যা ১৪ মার্চ নূ ক্যাম্পে দ্বিতীয় লেগে অনেকখানি কাজে দেবে বলেই মনে করছেন ভালভার্দে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.