মেজাজা হারিয়ে ফেলেন অ্যাগুয়েরা
মেজাজা হারিয়ে ফেলেন অ্যাগুয়েরা

মাঠে এ কী করলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার! (ভিডিও)

নয়া দিগন্ত অনলাইন

এফএ কাপে খেলা চলছিল ম্যানচেস্টার সিটি ও উইগানের মধ্যে। পঞ্চম রাউন্ডের এই খেলায় প্রতিপক্ষের জালে কোনো বলই ফেলতে পারেনি ম্যানসিটি। শেষে ১-০তে জয়লাভ করে উইগান। সিটির মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে তারা আনন্দের জোয়ারে ভাসতে থাকে। অপরদিকে এই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় হতাশ ম্যানসিটি। আর এই অবস্থায় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার সার্জিও অ্যাগুয়েরা। উইগানের এক ভক্তের সাথে মারামারি করে বসেন তিনি।

কী হয়েছিল সেদিন।

সোমবার ম্যাচ শেষ বিধ্বস্ত ম্যানসিটির খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়ছিলেন। অরপদিকে আনন্দে আত্মহারা উইগানের খেলোয়াড় আর ভক্ত সমর্থকরা। গ্যালারি থেকে দৌঁড়ে দর্শকরা মাঠে ঢুকে যাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তেই বাধে বিপত্তি।

 

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কোনো এক উইগান সমর্থক অ্যাগুয়েরার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হয়ত বাজে কোনো মন্তব্য করেন। তাতে মেজাজা হারিয়ে ফেলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার। হাত ধরে ঘুষি মেরে বসেন তিনি। তাতে থেমে না গিয়ে, ওই তরুণ হাসতে হাসতে অ্যাগুয়েরাকে উদ্দেশ্য আরো কিছু বলতে থাকেন। তখন তরুণকে আবারো মারতে তেড়ে যান অ্যাগুয়েরা।

আশপাশে থাকা উইগানের খেলোয়াড় এবং স্টাফরা তাকে সামলানোর চেষ্টা করেন। তাতেও ওই উইগান সমর্থক দমে না গিয়ে উসকে দিতে থাকেন। পরে অ্যাগুয়েরাকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যেতে সমর্থ হয় তারা।

 

ঘটনার তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। অ্যাগুয়েরার এই ঘটনা ছাড়াও আরো কয়েকটি ঘটনার তদন্ত করবে তারা। ম্যাচের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় খেলোয়াড়দের টানেলেই উইগান কোচ এবং ম্যানসিটি কোচের তর্কাতর্কি ধরা পড়ে ক্যামেরায়।

অপরদিকে উইগানের কাছে সমর্থকদের মাঠে ঢুকে পড়ার ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাইবে বলে জানিয়েছে ম্যানসিটি। কারণ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সিটি ফুটবলারদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছিল।

দেখুন সেই ঘটনা :

 

 

অপ্রতিরোধ্য মেসিই নায়ক

আবার প্রমাণ করলেন তিনিই রাজা। আন্দ্রেয়াজ ক্রিশ্চেনসেনের ভুলের সুযোগ নিয়ে শেষমেশ দ্য ব্লুজ-দের বিরুদ্ধে গোল খরা কাটালেন লিওনেল মেসি৷ একই সঙ্গে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে উইলিয়ান শো মাটি করলেন এলএম টেন৷ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মঙ্গলবারের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। পরাজয়কে ড্র করতে পারাটা ছিল বার্সার জন্য জয়ের মতোই আনন্দময়। আর ৯ ম্যাচ পর চেলসির বিরুদ্ধে গোল করতে পারাটা আরো বেশি খুশির খবর ছিল।

মঙ্গলবারের খেলার বিচারে প্রকৃত অর্থে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় বাছতে বসলে মেসির থেকেও এগিয়ে রাখতে হয় উইলিয়ানকে৷ তবে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে দেন এলএম টেনই৷ একটা সুযোগ এবং একটা গোল৷ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগের প্রি-কোয়ার্টারে বার্সেলোনাকে অ্যাডভান্টেজ এনে দেয় সুযোগ সন্ধানী আর্জেন্টাইন তারকাই।

উইলিয়ানের গোলে পিছিয়ে পড়লেও কাতালান ক্লাবকে সমতায় ফিরিয়ে মেসিই ফিরতি ম্যাচে ন্যু ক্যাম্পে স্বাগত জানিয়ে রাখেন চেলসিকে৷ বলাবাহুল্য, মেসির অ্যাওয়ে গোলের সুবাদেই ফিরতি লেগে বার্সেলোনা ফেভারিট নিজেদের ডেরায়৷ যদিও মেসি আতঙ্ক নীল বাহিনীকে স্বস্তিতে থাকতে দেবে না পাল্টা লড়াইয়েও।

প্রথমার্ধে দু-দু’বার উইলিয়ানের দূরপাল্লার শট পোস্টে প্রতিহত হয়৷ শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বারের চেষ্টায় বার্সার জাল খুঁজে পায় উইলিয়ানের শট৷ ৬২ মিনিটে হ্যাজার্ডের পাস থেকে গোল করেন তিনি৷ ৭৫ মিনিট পর্যন্ত লিড ধরে রাখলেও ক্রিশ্চেনসেনের একটা ভুলই জয়ের সম্ভাবনা দূর করে দেয় চেলসির৷

নিজেদের বক্সে ক্রিশ্চেনসেনের ভুল পাস ইনিয়েস্তাকে মেসির জন্য গোলের রাস্তা তৈরি করে দিতে প্রলোভিত করে৷ ইনিয়েস্তার কাছ থেকে বল ধরে চেলসির বিরুদ্ধে প্রথমবার গোল করার নজির গড়েন লিও৷ ৯ ম্যাচে চেলসির গোল পোস্ট লক্ষ্য করে ৩০টি শট নেয়ার পর অবশেষে সাফল্য পান তিনি৷ ৭৩০ মিনিট মাঠে থাকার পর শেষমেশ চেলসির গোলমুখ খুলতে সক্ষম হন মেসি৷ আর কোনো দলই মেসিকে এত দীর্ঘ সময় গোল করা থেকে আটকাতে পারেনি৷

ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনও গোল না হওয়ায় ১-১ গোলের সমতায় ম্যাচ শেষ হয়৷ সুতরাং আগামী ১৪ মার্চ ন্যু ক্যাম্পে মেসিরা মানসিকভাবে এগিয়ে থেকে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করার লড়াইয়ে নামবে৷

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.