‘সাহস থাকলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন’
‘সাহস থাকলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন’

‘সাহস থাকলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন’

ময়মনসিংহ অফিস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান সরকারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন, ‘সাহস থাকলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সংবিধানের বিধি অনুযায়ী তিনটি আসনেই নির্বাচন করবেন, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি ওই তিনটি আসনের মধ্যে কোনো একটিতেও যদি পরাজিত হন, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দিবো।’ বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবক’টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার শহরের চরপাড়ায় আল-বারাকা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের হৃদকম্পন শুরু হয়ে গেছে। বিএনপি নেত্রী ছাড়া পাওয়ার পর যদি নির্বাচন করে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো জনগণের জমায়েত হবে এই ভয়ে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকারকে চান্স দেবেন না। তারা আশা করে বসে ছিলো, আমরা পাথর ছোড়ে মারবো বাসের কাচ ভাঙবে আর তারা বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিবে। সে সুযোগ না পেয়ে সরকারের মনে বড় কষ্ট।

কারাগারে যাবার আগেই বিএনপি নেত্রীর নির্দেশনা দিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে, ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করে চেয়ারপারসনের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে আজ দিশেহারা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, খুন গুম, নারী-শিশু পাচার, পরীক্ষায় নকল, ব্যাংকের টাকা চুরির ধুম, শেয়ারবাজারের লুট থেকে দেশকে রক্ষা করতে বেগম জিয়ার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিন কোটি টাকা সুটকেসে ভরে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে হেয় করার জন্য দু’কোটি টাকা চুরির দুর্নীতির মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। বেগম জিয়া তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের যে কারো কাছে চাইলেও দু’/তিন কোটি টাকা পেতেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর দু’কোটি টাকা চুরি করার দরকার নেই। আ’লীগের মন্ত্রী মায়ার ১৩ বছর সাজা হয়েছে, ম খা আলমগীরের সাজা হয়েছে কিন্তু তারা এখনো এমপি।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্মসম্পাদক কাজী রানা ও উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের সঞ্চালনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দক্ষিণ জেলা সভাপতি সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, নগর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, শ্রমিকদলের জেলা সভাপতি আবু সাঈদ, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু, ছাত্রদলের জি এম মাহবুব, বাকৃবি ছাত্রদলের জসিমউদ্দিন জনি। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার ও ফকরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবীর শাহীন, সাবেক এমপি নুরজাহান ইয়াসমিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কাশেম, ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল বাশার আকন্দ, ত্রিশাল উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, মুক্তাগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান জাকারিয়া হারুন, ফুলাবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হক, স্বেচ্ছাসেবকদলের জেলা সভাপতি শাহিদুল আমিন খসরু, ছাত্রদলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ দৌল সুজাসহ ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিএনপির কর্মসূচীকে ঘিরে শহরের চরপাড়া এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দুই কোটি টাকার জন্য খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর সাজা হলে ১৪ হাজার আট শ’ কোটি টাকা দূর্নীতির দায়ে শেখ হাসিনার তিন লক্ষ ৫০ বছর জেল হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে দুর্বলতা ভাববেন না। দয়া করে অশান্ত হবার জন্য উস্কানি দিবেন না। শান্তিতে থাকতে দিন, আপনারও শান্তিতে থাকবেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.