দীপার উত্তোলিত অর্ধগলিত লাশ ও ফটো
দীপার উত্তোলিত অর্ধগলিত লাশ ও ফটো

সাড়ে পাঁচ মাস পর দীপার লাশ উত্তোলনে চাঞ্চল্য

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

কালীগঞ্জে হত্যার প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর রয়েল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ও গৃহবধু দীপা সরকার এ্যানির লাশ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বড়ভোলা গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র সরকারের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কন্যা দীপা সরকার এ্যানির (২১) সাথে জয়দেবপুর থানার বাড়িয়া ইউনিয়নের হাটিপাড়া গ্রামের উমেশ দাসের পুত্র সবুজ দাসের গত ৮ জুলাই’ ১৬ তারিখে বিয়ে হয়। বিয়ের পর হতেই বেকার-মাদকাসক্ত সবুজ ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য দীপার উপর চাপ দিতে থাকে। কিন্তু দীপার দরিদ্র পিতা-মাতা সবুজের যৌতুকের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় প্রায়শই তাকে শারীরিক নির্যাতন করতো।

৩১ আগষ্ট’ ১৭ তারিখ রাতে সবুজ, তার পিতা উমেশ ও মা কালা বুড়ি দাস দীপাকে শারীরিক নির্যাতন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার করতে থাকে। পরদিন দুপুরে দীপার বাবা মা খবর পেয়ে সবুজের বাড়ীতে গিয়ে লাশ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় নিহত দীপার পা খাটের বিছানার সাথে লাগানো, হাত মুষ্টিবদ্ধ, চোখ ও জিহ্বা স্বাভাবিক ছিল।

পরবর্তীতে সবুজ ও তার পরিবারের লোকজন দীপার বাবার স্বাক্ষর নিয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে, যার নং ১৩৮, তারিখ ১/৯/১৭। পরে অজ্ঞাত কারণে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন দাস মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডাঃ প্রণয় ভুষণ দাস ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে কালক্ষেপন করেন।

দীর্ঘদিন পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেও নিহতের পরিবারের কাছে তা সন্তোষজনক না হওয়ায় দীপার বাবা নারায়ন চন্দ্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, গাজীপুর-এ একটি মামলা দায়ের করে (নং ২৪১/১৭) পুনঃময়নাতদন্তের আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল জয়দেবপুর থানাকে মামলাটি এজাহারভুক্ত করে পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন। থানা মামলাটি এজাহারভুক্ত করে (নং ১২৪(১০)১৭ তদন্তের জন্য পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করে।

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মাদ জোবায়ের আলম ও পিবিআই’র পরিদর্শক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল দীপার অর্ধগলিত লাশ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কবর থেকে দীপার অর্ধগলিত লাশ উত্তোলনের দৃশ্য দেখার জন্য শত শত লোক জড়ো হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

দীপার বাবা নারায়ণ চন্দ্র সরকার মেয়ের লাশ দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সবুজ ও তার পরিবারের সদস্যরা তার মেয়েকে হত্যা করে লাশ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সন্তোষজনক নয় বিধায় আমরা পুনঃময়নাতদন্তের জন্য বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সুবিচার প্রার্থনা করেছি।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মাদ জোবায়ের আলম জানান, ভিকটিম দীপা রানী সরকারের পিতার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ২১/১/১৮ইং তারিখে লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতন্তের জন্য আমাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ১৭৬/২ ধারায় দীপার লাশ উত্তোলন করেছি এবং তা পরীক্ষা নীরিক্ষা করার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করব।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.