পোশাকে বর্ণমালার গল্প... রঙের ঝলক

এ কে রাসেল

প্রতি বছরের মতো এ বছরও দেশের নামকরা ফ্যাশন হাউজগুলো আয়োজন করেছে একুশের চেতনায় উজ্জ্বল পোশাক। ভাষা দিবস উপলক্ষে ফ্যাশন হাউজগুলোর এই আয়োজন এক দিকে যেমন মাতৃভাষার প্রতি আমাদের ভালোবাসাকে প্রকাশ করে। অপর দিকে পুরো জাতিকে ভাষা দিবসের সাজে সাজিয়ে তোলে।
ভাষা আন্দোলনের আবেগ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে তুলতে ফ্যাশন হাউজগুলো তৈরি করেছে পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ আর ফতুয়া। ছেলেদের ফতুয়া আর পাঞ্জাবি করা হয়েছে খাদি, ঝর্ণাখাদি, তাঁত কাপড়, সুতি আর এন্ডি কটন কাপড়ে। পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে কালো রঙ। মেয়েদের একুশের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ আর ফতুয়ায় করা হয়েছে ব্লক, স্প্রে আর উইভিংয়ের কাজ। পোশাকগুলো ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, দায়িত্ব ও মূল্যবোধ থেকেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনাররা। শাড়ি, থ্রিপিস, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, স্কার্ট-টপস, টি-শার্ট, ওড়না, ব্লাউজ পিস, শাল, সিডি, মগ ইত্যাদিতে তুলে ধরা হয়েছে একুশের অনুষঙ্গ। যেমন শহীদ মিনার, বর্ণমালা, ধারাপাত সংখ্যা, একুশের গান ও কবিতা, আল্পনা, রক্তলাল সূর্য, ফুল, পাখি প্রভৃতি। কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে চুনরি, টাই-ডাই, ব্লক, স্প্রে-ব্লক, এপলিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিন, হ্যান্ডপেইন্ট, বাটিক, ভেজিটেবল রঙ, কারচুপি, অ্যামব্রয়ডারি, চুমকির কাজ, মেশিন এমব্রয়ডারি ইত্যাদি।
একুশে ফেব্রুয়ারির এই দিনটিকে সাজানো হয় কালো আর সাদা রঙের আঙ্গিকে। যদিও এখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাল রঙের দেখা পাওয়া যায়। সাদা রঙের শাড়ি তাতে কালো পাড় কিংবা সাদা রঙের সালোয়ার, ওড়না আর কালো রঙের কামিজ মেয়েরা বেছে নেয় বিশেষ এ দিনে। শাড়িতে কখনো থাকে জলছাপ ডিজাইন।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পোশাকে আঁকিবুঁকি থাকে স্মৃতিসৌধ, শহীদমিনার, বিভিন্ন অক্ষর যেমন অ, আ, ই, ঈসহ সব বর্ণমালার। কিছু ক্ষেত্রে আবার বাংলাদেশের যুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। এবার মেয়েদের ওয়েস্টার্ন পোশাকেও এসেছে একুশে ফেব্রুয়ারির ছোঁয়া। তাতেও দেখা যায় সাদা কালোর উপস্থিতি। সাদাকে শান্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয় এ ক্ষেত্রে।
ছেলেদের টি-শার্ট থেকে শুরু করে শার্ট, পাঞ্জাবি আর পায়জামাতেও দেখা যায় এই সাদা আর কালো রঙের খেলা। পাঞ্জাবিতে কখনো সম্পূর্ণ কালো আবার কখনো সম্পূর্ণ সাদা রঙের পোশাক চোখে পড়ে। টি-শার্টের ক্ষেত্রে বড় বড় বর্ণ কিংবা খোলা জানালার স্বাধীনতার প্রতীক দেখা যায়। শাড়িতে অন্য রঙের ছাপ থাকলেও একুশ ফেব্রুয়ারির সাথে মানানসই হতে হলে খুব বেশি রঙিন শাড়ি না পরাটাই ঠিক হবে। শাড়ির সাথে মানানসই চাদর পরা যেতে পারে। এমন হতে পারে শাড়িতে যদি সাদার আধিক্য থাকে তবে চাদরে কিছুটা কালোর আধিক্য বেছে নিতে পারেন।
একুশে ফেব্রুয়ারির পোশাক নিয়ে কথা হয় দেশের স্বনামধন্য ফ্যাশন হাউজ অঞ্জনস’র স্বত্বাধিকারী শাহীন আহমদের সাথে। তিনি বলেন, আসলে আমরা একটি সময়ে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করতাম খুবই সাদামাটা ভাবে। রাত ১২টা এক মিনিটে বা প্রভাতফেরিতে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল দিবসটি। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরেই পাল্টে গেছে সেই চিত্র। এখন দিবস উদযাপনে পোশাক বিশেষ গুরুত্ব রাখছে। বিশেষ করে বইমেলার কারণে রাজধানীর ফেব্রুয়ারি উদযাপন একেবারেই ভিন্ন। তবে ফ্যাশন হাউজগুলো শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয় চেতনার দিক দিয়েই রয়েছে বেশি এগিয়ে। একুশে ফেব্রুয়ারি চেতনা এভাবে ছড়িয়ে দিতে ফ্যাশন হাউজগুলোর ভূমিকা অনন্য। আর মিডিয়ার ভূমিকা তো অসামান্য।
দেশের অন্যতম আরেক ফ্যাশন হাউজ বিশ্ব রঙের কর্ণধার বিপ্লব সাহা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে পোশাকে বেশ পরিবর্তন এসেছে। ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো বেশ আগে থেকেই শুরু করে নানা আয়োজন। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের চেতনা এবং মূল্যবোধকে জাগ্রত করার পাশাপাশি এটি উৎসবেও পরিণত হয়েছে।
দেশী ঘরানার বুটিকস হাউজগুলোতে একুশের ডিজাইন করা পোশাক পাওয়া যাবে আড়ং, নিপুণ, গ্রামীণমেলা, কে ক্র্যাফ্ট, কাপড়-ই-বাংলা, বিশ্ব রঙ, সাদাকালো রঙ বাংলাদেশসহ আজিজ সুপার মার্কেটের কম বেশি সব শোরুমে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.