রা শি য়া র রূ প ক থা

নেকড়ে বাঘের খিদে

হাসান হাফিজ

(গত দিনের পর)
ভেড়া এ কথার জবাবে বলে,
আচ্ছা বেশ। তুমি যদি সত্যি সত্যিই নেকড়ে হয়ে থাকো, এক কাজ করো। এই পাহাড়ের নিচে ঢালে গিয়ে দাঁড়াও। তারপর তোমার মুখটা হঁাঁ করে থাকো। আমি তোমার হাঁ করা মুখে দৌড়ে গিয়ে ঢুকে পড়ব।
ভেড়ার কথা বেশ মনে ধরে নেকড়ের। সে ঘাড় নেড়ে জানায়,
আচ্ছা রে ভাই, ঠিক আছে। আমি তাই করছি।
নেকড়ে তাই করে। তখনই পাহাড়ের নিচুতে ঢালে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপর মুখটা হাঁ করে।
ভেড়া ছিল পাহাড়ের ওপরে। সেখান থেকে সে খুব জোরে ঢালে গিয়ে নামে। শিং বাগিয়ে নেকড়ের মুখে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে। নেকড়ে এমন কিছুর জন্য তৈরি ছিল না মোটেও। তাল সামলাতে পারে না তাই গড়িয়ে পড়ে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সারা গায়ে তার ভীষণ ব্যথা। ভেড়া ইচ্ছেমতো গুঁতো দিয়েছে তার মুখে। সারা শরীরেও। ব্যথায় মুখ, চোখ ও শরীর ফুলে গেছে।
জ্ঞান ফিরে আসে নেকড়ের। নিজেকে সে বলে,
ছি: ছি: কী বোকা আমি। কী লজ্জা! ভেড়ার শয়তানিটা ধরতে পারিনি একটুও। আমার নিজের দোষেই এমন বাজে ব্যাপারটা হয়ে গেল। খিদে তো মিটলই না, উল্টো সারা গায়ে ব্যথা পেতে হলো। নেকড়ে সমাজে আমি মুখ দেখাব কেমন করে? আজকের দিনটাই আমার খারাপ।
( চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.