ব্রণে ত্বকের যত্ন
ব্রণে ত্বকের যত্ন

ব্রণে ত্বকের যত্ন

ফাহমিদা জাবীন

ব্রণ তৈলাক্ত ত্বকের একটি সাধারণ সমস্যা। ব্রণ মুখের সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান করে দেয়। সাধারণত অল্প বয়সীদের মধ্যেই দু’গালে, কপালে, নাকে ও চিবুকে অর্থাৎ ত্বকের অনেকটা অংশজুড়ে ব্রণ হতে দেখা যায়। কখনো কখনো ত্বকে ব্রণ নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই প্রথম থেকেই বিশেষ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অবহেলার কারণে ব্রণ ত্বকের ওপর স্থায়ী ক্ষতচিহ্নের সৃষ্টি করতে পারে। ব্রণমুক্ত থাকতে ত্বকের পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিউটি এক্সপার্ট আমেনা হক। 

শীতকালীন শুষ্কতা এড়াতে অনেকে এই সময় মুখে সাবান কম লাগাতে চান। অথচ ব্রণের ত্বক থাকতে হবে সব সময় তকতকে পরিষ্কার। সেখানে কোনো তেল-ময়লা জমতে দেয়া যাবে না। তাই মুখ ধোয়ার পর মুখে সাময়িক টান টান ভাব বা শুষ্কতা অনুভূত হলেও মুখ দিনে অন্তত চারবার ফেসওয়াশ দিয়ে ধুতে হবে। প্রয়োজনে মৃদু এবং কম ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সাবানের ব্যবহার বন্ধ করা চলবে না, আর ঘন ঘন মুখ ধোয়া থেকেও বিরত থাকা চলবে না। মাথার ত্বকে খুশকির কারণেও মুখে ব্রণের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। আর যারা মাথা ঘন ঘন ভেজাতে চান না এবং শ্যাম্পু ব্যবহার করেন না তাদের মাথার তৈলাক্ততা মুখে বিশেষ করে কপালে ব্রণের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়। শীত-গ্রীষ্ম যা-ই হোক না কেন, ব্রণ ত্বকে প্রসাধনী ব্যবহার সব সময়ই এড়িয়ে যাওয়া ভাল। অনেকের ধারণা ট্যালকম পাউডার যেহেতু তেল শোষণ করে, তাই মুখের তেল শুষতে পাউডার উপকারী ভূমিকা রাখবে কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। পাউডার মুখের উপরিভাগের তেল শুষে নিয়ে তেল আর পাউডার মিলে ত্বকের ওপর একটা আবরণ সৃষ্টি করে, তাতে ত্বকের গ্র্যান্ড থেকে নিঃসৃত তেল ওপরে বেরিয়ে আসতে পারে না এবং ভেতরে জমে গিয়ে তেলগ্রন্থীর মুখ বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে প্রদাহের সৃষ্টি করে। তেল গ্রন্থীর এই প্রদাহই হলো ব্রণ।

ব্রণমুক্ত ত্বকের পরিচর্যার জন্য যা করণীয় তা হলো-
• মুখ পরিষ্কার রাখতে ঘন ঘন কম ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
• মুখে তৈলাক্ত ক্রিম বা লোশান ব্যবহার করবেন না। যথাসম্ভব প্রসাধনীর ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
• মাথায় নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে খুশকি নিরোধক শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

• কখনো হাত বা অন্য কিছুর সাহায্যে ব্রণ খুঁটবেন না। খোঁটাখুঁটির ফলে ব্রণ সংক্রমিত হয়ে মারাত্মক হতে পারে এবং ত্বকে দাগ হতে পারে।
• খাদ্যতালিকায় চর্বিজাতীয় খাবার ও ভাজা খাবার বাদ দেবেন। যে খাবারে ব্রণ বাড়ে বলে আপনার মনে হয়, সে খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রচুর পানি পান করুন।
• নিয়মিত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমতে হবে। মানসিক দুশ্চিন্তা ব্রণের পক্ষে ক্ষতিকর। যথাসম্ভব প্রফুল্ল ও হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করবেন।

• প্রতিদিন সকালে সাবান দিয়ে মুখ ধুয়ে ফুটন্ত গরম পানিতে কিছু তুলসী পাতা দিয়ে মুখে ভাপ নেবেন। ভাপ নেয়া হয়ে গেলে বরফ পানির ঝাপটা দিয়ে বড় হয়ে যাওয়া লোমকূপ সঙ্কুচিত করে নিন।
• ব্রণ হলে সব থেকে আগে চেষ্টা করবেন পেট পরিষ্কার রাখতে। কারণ কোষ্ঠকাঠিন্যই ব্রণ হওয়ার মূল কারণ বলে মনে করা হয়।
• ব্রণে পুঁজ-যন্ত্রণা বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।
• মুখ মোছার তোয়াল ও চিরুনি সবসময় পরিষ্কার রাখুন।
•  দুই চামচ চন্দন বাটা+ এক চামচ মুলতানি মাটি+ এক চা চামচ হলুদ বাটা এরসাথে গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.