বিনা অনুমতিতে শহীদ কাদরীর বই প্রকাশ বন্ধের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে বিনা অনুমতিতে একুশে পদকপ্রাপ্ত মরহুম কবি শহীদ কাদরী রচিত বইয়ের প্রকাশনা ও বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শহীদ কাদরীর একমাত্র সন্তান আদনান কাদরীর অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে কবির বই প্রকাশনা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ নিয়ে অনেক প্রতিবাদ হয়েছে। দেশের বহু পত্রিকা ও অনলাইন এ বিষয়ে প্রতিবাদ ছাপানো হয়েছে। এতকিছুর পরও বাংলা একাডেমির কর্তৃপক্ষের অগোচরে প্রকাশকরা বইগুলো অবৈধভাবে বিক্রি করছে। এটা ভেবেই আমরা অবাক হচ্ছি। তাই আমরা আবারও বাংলাদেশের এত বড় একজন কবির বই অনুমতি ছাড়া প্রকাশ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।

বক্তারা আরও বলেন, ২০১৭ সালের ফেব্রæয়ারিতে নবযুগ প্রকাশনী প্রকাশ করে ‘শহীদ কাদরীর কবিতা সমগ্র’। পরে সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমা প্রকাশনী প্রকাশ করে ‘গোধুলির গান’ এবং বেঙ্গল পাবলিশার্স প্রকাশ করে ‘একটি আঙটির মত তোমাকে পরেছি স্বদেশ’। এই তিন প্রকাশকের কেউই শহীদ কাদরীর একমাত্র সন্তান আদনান কাদরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি এবং তার অনুমতিও নেয়নি। ইতিমধ্যে বেঙ্গল পাবলিশার্সকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে তিনটি প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনও করা হয়েছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এমন অনৈতিক কাজ করছে যা প্রকাশকরা মেলা প্রাঙ্গণকে কলুষিত করেছে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কয়েকজন লেখক-প্রকাশক ও কবি। গত দুই সপ্তাহ যাবৎ প্রতিবাদ সত্তে¡ও তারা এ ধরনের নোংরা কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এবং গ্রন্থমেলা এ ধরণের অপকর্ম থেকে রক্ষা করতে দাবি জানায়।

প্রসঙ্গত, শহীদ কাদরী (১৪ আগস্ট ১৯৪২-২৮ আগস্ট ২০১৬) ছিলেন বাংলাদেশী কবি ও লেখক। তিনি ১৯৪৭ সালের পরবর্তীকালের বাঙালি কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, যিনি নাগরিক-জীবন-সম্পর্কিত শব্দ চয়নের মাধ্যমে বাংলা কবিতায় নাগরিকতা ও আধুনিকতাবোধের সূচনা করেছিলেন। তিনি আধুনিক নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক অভিব্যক্তির অভিজ্ঞতাকে কবিতায় রূপ দিয়েছেন। ২০১১ সালে ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.